Published : 24 Jun 2026, 10:23 PM
নাইটক্লাব কাণ্ডে দল থেকে বাদ পড়ায় সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বেন স্টোকস। তার অনুপস্থিতিতে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ওভাল টেস্টে হেরে গেছে ইংল্যান্ড। সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ জয়ে অবদান রাখতে মুখিয়ে আছেন ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক।
লর্ডসে প্রথম টেস্টে জয়ের পর, দলীয় প্রোটোকল ভেঙে নাইটক্লাবে যান স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে। সেখানে গিয়ে মারামারিতে জড়ান তারা। তবে ঘটনার তদন্ত শেষে তাদের দোষ খুঁজে পায়নি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
তাই, তেমন কোনো শাস্তি মুখোমুখি হতে হয়নি স্টোকস ও অ্যাটকিনসনকে। ভবিষ্যৎ আচরণের বিষয়ে স্রেফ লিখিত সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের।
এই দুইজনের অনুপস্থিতিতে ওভালে ২৫৩ রানে হেরে যায় ইংলিশরা। ট্রেন্ট ব্রিজে বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া শেষ টেস্টের দলে ফেরানো হয়েছে স্টোকস ও অ্যাটকিনসনকে। অধিনায়ক হিসেবেই ফিরেছেন স্টোকস।
সোমবার নটিংহ্যামে পৌঁছে পরদিন দলের অনুশীলনের আগে সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলেন স্টোকস। সেখানে দলকে বিপদের মুহূর্তে ফেলে যাওয়া ক্ষমা চান তিনি। ম্যাচের আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে বলেন সেসব কথা।
“অবশ্যই আমি ক্ষমা চেয়েছি। অধিনায়ক হিসেবে সবার আগে আমাকে এই কাজটাই করতে হতো।”
“পরিস্থিতির দিকে তাকালে খেয়াল করবেন, এটা শুধু আমার ওপর প্রভাব ফেলেনি। আরও অনেক মানুষের ওপর প্রভাব ফেলেছে; জো (রুট), দল ও মাঠের বাইরের মানুষদের ওপরও। যাদের অভিষেক হয়েছে তাদের ওপরও প্রভাব পড়েছে, এনিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অথচ, এই সময়টা শুধু তাদের হওয়ার কথা ছিল। দূর্ভাগ্যবশত ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে পরিস্থিতি ওদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।”
স্টোকসের মতে, নিজের ভুল স্বীকার না করা, ভুলের দায় কাঁধে না নেওয়া বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।
“এই বিষয়টাকে স্বীকার না করা এবং এটা নিয়ে কথা না বলা আমার চরম বোকামি এবং অজ্ঞতা হতো। দলের নেতা হিসেবে যার কাঁধে দায়িত্ব রয়েছে, তাকে এমনটা করতেই হতো। সবকিছু যখন ভালো চলে এবং চারপাশটা বেশ চমৎকার ও গোছানো থাকে, তখন তো সবকিছুই সহজ মনে হয়; কিন্তু দলের কঠিন পরিস্থিতিতেও আপনাকে একইভাবে দায় নিজের কাঁধে নিতে হবে।”
“ভুলের দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার মতো বড় মানসিকতা ও সাহস থাকতে হবে। এই ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের চোখে চোখ রেখে যেভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত, ঠিক সেভাবেই ক্ষমা চাইতে হবে। আর আমি এই কাজটিই করেছি।”
স্টোকস না থাকায় জো রুটকে অধিনায়কের দায়িত্বে ফেরায় ইংল্যান্ড। বন্ধুকে নেতৃত্বের চাপে ফেলায় অপরাধবোধে ভুগছেন স্টোকস।
অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃতীয়বারের মতো ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চাইলেন বেন স্টোকস। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে করা ভুলের জন্য মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরের সিরিজে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেও একই ধরনের কাণ্ড ঘটান। ওই দুই ঘটনার জন্যও সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন স্টোকস।
এখন সতীর্থদের নিয়ে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে মরিয়া হয়ে আছেন তিনি। দলকে জেতানোর পথে রাখতে চান ভূমিকা।
“গত সপ্তাহে আমরা যেমন ফল চেয়েছিলাম, তা পাইনি। সেটা এখন পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আমরা যা করতে পারি, তা হলো এই সপ্তাহে আমরা কীভাবে এগোব। আমরা ভালো ফলের জন্য মরিয়া হয়ে আছি, আর আমি নিজেও সেই কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে মুখিয়ে আছি।”