Published : 05 Feb 2026, 10:09 PM
বিগ ব্যাশে দারুণ বোলিং করে অস্ট্রেলিয়া মাতিয়ে এসেছেন রিশাদ হোসেন। এবার বিপিএলে তিনি খেলতে পারেননি। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবেই সুযোগ পেয়ে গেলেন আরেকটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার। এখানেও যথারীতি উজ্জ্বল এই লেগ স্পিনার। বিপিএলে ১১ ম্যাচ খেলেও কোনো ফিফটি করতে না পারা লিটন কুমার দাস এই টুর্নামেন্ট শুরু করলেন প্রথম ম্যাচেই ফিফটি দিয়ে। তাদের দল টুর্নামেন্ট শুরু করল প্রত্যাশিত জয়ে।
বিশ্বকাপ না খেলার ফাঁকা সময়টুকুর কিছুটা কাজে লাগানোর জন্য আয়োজন করা হয়েছে এই অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ। প্রথম ম্যাচটি ছিল জাতীয় দলের মোড়কে গড়া ধূমকেতু একাদশ আর উঠতি ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দুরন্ত একাদশের। মাঠের ক্রিকেটেও ফুটে উঠল সেই ব্যবধান। ধূমকেতু একাদশের জয় ৬ উইকেটে।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দুরন্ত একাদশ অলআউট হয় ১৪৩ রানে। ফিফটি করতে পারেননি কেউ। বিগ ব্যাশ থেকে ফেরা রিশাদ শিকার করেন তিন উইকেট।
রান তাড়ায় ধূমকেতু জিতে যায় ২৩ বল বাকি রেখেই। ওপেনিংয়ে ঝড়ো ফিফটি করেন সাইফ হাসান। অধিনায়ক লিটন কুমার দাস অপরাজিত থাকেন ৪৩ বলে ৬৫ রান করে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ অবশ্য ছিল ম্যাচ শুরুর আগে। মাঠের পাশে মঞ্চে পারফর্ম করে ওয়ারফেজ ব্যান্ড। গ্যালারি যদিও তখন অনেকটাই ফাঁকা। যে গুটিকয় দর্শক ছিলেন, তাদের বিনোদনের দারুণ খোরাক ছিল জনপ্রিয় এই ব্যান্ডের পারফরম্যান্সে। পরে ম্যাচেও দর্শক খুব বেশি ছিল না। ৫-৬ হাজার দর্শক ছিলেন, এদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী, যাদের মাঠে ঢুকতে টিকেট লাগেনি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দুরন্ত প্রথম তিন ওভারে তোলে ২০ রান। জিসান আলম তখনও খেলেছেন মোটে তিন বল। চতুর্থ ওভারে তানজিম হাসানকে টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন তিনি। তবে পরের বলেই জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান।
আরেক ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন ও তিনে নামা আজিজুল হাকিম দারুণ কয়েকটি শট খেললেও রান নিতে পারেননি অনেক ডেলিভারিতেই।
দশম ওভারে আক্রমণে এসে জুটি ভাঙেন রিশাদ। কদিন আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে ফেরা আজিজুল ফেরেন ২১ বলে ১৬ রান করে।
৩৬ বলে ৩৯ রান করে রান আউট হন মাহফিজুল। তার সেই ইনিংসই হয়ে থাকে দলের সর্বোচ্চ।
আরিফুল ইসলামকে (২) দ্রুত ফেরান রিশাদ। এসএম মেহেরব (১০ বলে ১৫) ও আকবর আলি (১০ বলে ১৮) ভালো শুরু করেও বড় করতে পারেননি ইনিংস। টিকতে পারেননি মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও (৬ বলে ৫)।
পঞ্চদশ ওভারে ‘ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে নাহিদ রানার বদলে নামানো হয় জাওয়াদ আবরারকে।
এই ইম্প্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়ম অবশ্য আইপিএলের থেকে একটু আলাদা। বদলি নামানোয় নাহিদ স্রেফ ব্যাটিং করতে পারবেন না, কিন্তু বোলিং ঠিকই করতে পারবেন।
আবরার নেমে ৮ বলে করেন ১০ রান। শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন দুই ছক্কায় ১৫ রান করে দলকে ১৪০ পার করান।
রান তাড়ায় ধূমকেতুর শুরুটা হয় উড়ন্ত। প্রথম ওভারেই রিপন মন্ডলকে টানা দুটি ছক্কা মারেন সাইফ হাসান। পরের ওভারে নাহিদ রানাকে দুটি চার মারেন তানজিদ হাসান।
রিপনকে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় বল আকাশে তুলে তানজিদ (৮ বলে ১৭) বিদায় নেন তৃতীয় ওভারে। এরপর সাইফ ও লিটন মিলে ঝড়ের বেগে গিয়ে নেন দলকে।
পাওয়ার প্লেতে ধূমকেতু তোলে ৬২ রান। একাদশ ওভারে দল পেরিয়ে যায় ১০০।

রিপনের এক ওভারে দুই চার ও এক ছক্কায় ২৯ বলে ফিফটি করে ফেলেন সাইফ।
আউট হয়ে যান তিনি এরপরই। ‘ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে নামা পারভেজ হোসেন ইমন ভালো করতে পারেননি। শেষ দিকে নেমে আউট হয়ে যান তাওহিদ হৃদয়ও। তবে দলকে জিতিয়েই ফেরেন লিটন।
শুক্রবার লিটনদের সঙ্গে লড়াই নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্বার একাদশের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দুরন্ত একাদশ: ১৯.৫ ওভারে ১৪৩ (মাহফিজুল ৩৯, জিসান ১৪, আজিজুল ১৬, আরিফুল ২, মেহেরব ১৫, আকবর ১৮, মাহিদুল ৫, জাওয়াদ ১০, সাকলাইন ১৫, রকিবুল ০, রিপন ১*; শরিফুল ৪-০-৩০-২, নাসুম ২-০-১৭-০, তানজিম ৪-০-৩৭-২, শেখ মেহেদি ৪-০-১৯-১, মুস্তাফিজ ১.৫-০-১৬-১, রিশাদ ৪-০-২১-৩)।
ধূমকেতু একাদশ: ১৬.১ ওভারে ১৪৬/৪ (সাইফ ৫০, তানজিদ ১৭, লিটন ৬৫*, পারভেজ ৬, হৃদয় ২, শামীম ২*; রিপন ৩-০-৩৯-১, নাহিদ ৩-০-৩৯-০, রকিবুল ৪-০-২৫-০, সাকলাইন ২.১-০-১৯-০, মেহেরব ৪-০-২৩-৩)।
ফল: ধূমকেতু একাদশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: লিটন কুমার দাস।