Published : 29 May 2026, 12:56 AM
দিনের শুরুতে ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখালেন টম ব্লান্ডেল ও ডিন ফক্সক্রফট। যদিও দুজনেরই রয়ে গেল কিছুটা আক্ষেপ। সম্ভাবনা জাগিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি পেলেন না একজন, অন্যজন হাতছাড়া করলেন সেঞ্চুরির সুযোগ। পরে বল হাতে আগুন ঝরালেন ন্যাথান স্মিথ। তাতে পুড়ল আইরিশ ব্যাটিং।
বেলফাস্ট টেস্টে নিউ জিল্যান্ডের বড় সংগ্রহের পর ফলো অনে পড়ে ইনিংস হারের শঙ্কায় এখন আয়ারল্যান্ড। দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে আইরিশদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬৫ রান। এখনও ২৪৬ রানে পিছিয়ে আছে প্রথম ইনিংসে ১৭৯ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলটি।
নিউ জিল্যান্ড এ দিন প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৮ উইকেটে ৪৯০ রানে। ২২ চার ও তিন ছক্কায় ২৯২ বলে ক্যারিয়ার সেরা ১৮৬ রান করেন ব্লান্ডেল।
নিউ জিল্যান্ডের কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে দেশের বাইরে টেস্টে সর্বোচ্চ ইনিংস এটিই। ১৯৭৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচি টেস্টে ওয়ারেন লিসের ১৫২ ছিল আগের সর্বোচ্চ।
ইউরোপের মাটিতে টেস্টে কোনো কিপার-ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডও এখন ব্লান্ডেলের ১৮৬। গত বছর এজবাস্টনে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জেমি স্মিথের অপরাজিত ১৮৪ ছিল আগের রেকর্ড।
অভিষেকে ১২৯ বলে ৯৮ রান করেন ফক্সক্রফট। টেস্ট অভিষেকে নব্বইয়ে কাটা পড়া চতুর্থ কিউই ক্রিকেটার তিনি।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪০ রানে ৬ উইকেট নেন স্মিথ। পঞ্চম টেস্ট খেলতে নামা এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার প্রথমবার পেলেন পাঁচ উইকেটের স্বাদ।
৫ উইকেটে ৩৬১ রান নিয়ে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নামে নিউ জিল্যান্ড। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ব্লান্ডেল ও ফক্সক্রফট প্রথম ঘন্টা কাটিয়ে দেন নিরাপদেই।
ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে দ্বিতীয় ঘন্টার শুরুতে বিদায় নেন ব্লান্ডেল। একটু পর সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে ফেরেন ফক্সক্রফট। নিউ জিল্যান্ড ইনিংস ঘোষণা করে সেখানেই।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই জোড়া ধাক্কা খায় আয়ারল্যান্ড, কোনো রান না দিয়েই স্টিভেন ডোহেনি ও কেড কারমাইকেলকে শূন্য রানে ফেরান স্মিথ।
সপ্তম ওভারে স্মিথের তৃতীয় শিকার হয়ে ফেরেন অ্যান্ডি বালবার্নি। নিজের পরের ওভারে কার্টিস ক্যাম্ফার ও লর্কান টাকারকে শূন্য রানে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন স্মিথ।
টেস্ট ইনিংসে প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের চার জনকে শূন্য রানে আউট করা প্রথম বোলার হলেন তিনি। পাঁচ উইকেট পেলেন তিনি ২৯ বলে। টেস্টে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে বোলিং স্পেলের শুরু থেকে দ্রুততম পাঁচ উইকেট শিকারের নজির এটি।
হ্যারি টেক্টরের দ্রুত বিদায়ে আইরিশদের স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ৩৮। অল্পতে গুটিয়ে যাওয়ার চোখ রাঙানি তাদের সামনে তখন।
তবে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে সপ্তম উইকেটে ১১৬ রানের জুটিতে দলের স্কোর দেড়শ পার করেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রিন ও মার্ক অ্যাডায়ার। শুরুতে জীবন পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগান ম্যাকব্রিন।
অ্যাডায়ারকে (৮৬ বলে ৪০) ফিরিয়ে জমে যাওয়া এই জুটি ভেঙে ষষ্ঠ শিকার ধরেন স্মিথ। ম্যাকব্রিনকে এক প্রান্তে রেখে বাকিরা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে।
১২ চারে ১০৫ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত রয়ে যান ম্যাকব্রিন।
৩১১ রানের লিড পেয়ে আয়ারল্যান্ডকে ফলো অন করায় নিউ জিল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা মোটামুটি ভালো করে আইরিশরা। প্রথম ৯ ওভার কাটিয়ে দেয় নিরাপদে।
বালবার্নিকে ফিরিয়ে ৪২ রানের শুরুর জুটি ভাঙেন ব্লেয়ার টিকনার। দিনের শেষ দিকে কারমাইকেলকেও ফেরান তিনি। অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন ডোহেনি ও মায়েস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১১৯ ওভারে ৪৯০/৮ (ডিক্লে.) (আগের দিন ৩৬১/৫) (ব্লান্ডেল ১৮৬, ফক্সক্রফট ৯৮, স্মিথ ১৭, ফোকস ০*, টিকনার ০*; অ্যাডায়ার ২০-৬-৬৬-৩, মায়েস ২৩-৯-৫২-০, উইলসন ২৫-২-৮৯-১, ম্যাককার্থি ২৪-২-১৩০-১, ম্যাকব্রিন ২২-২-৯৯-১, টেক্টর ৫-০-৩৩-১)
আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৫ ওভারে ১৭৯ (ডোহেনি ০, বালবার্নি ১৩, কারমাইকেল ০, টেক্টর ১৬, ক্যাম্ফার ০, টাকার ০, ম্যাকব্রিন ৭৩*, অ্যাডায়ার ৪০, মায়েস ৩, ম্যাককার্থি ১, উইলসন ০; স্মিথ ১৪-৩-৪০-৬, ফোকস ১১-৩-৩২-১, টিকনার ৮-১-৪০-১, সিয়ার্স ৮-১-২৭-২, মিচেল ৩-০-১২-০, ফক্সক্রফট ১-১-০-০)
আয়ারল্যান্ড ২য় ইনিংস: ১৮ ওভারে ৬৫/২ (ফলো অন) (ডোহেনি ৩৬*, বালবার্নি ১৪, কারমাইকেল ৬, মায়েস ৪*; স্মিথ, ৪-০-১৯-০, ফোকস ৩-১-১৬-০, টিকনার ৫-২-১৪-২, সিয়ার্স ৪-১-১২-০।