Published : 22 Apr 2026, 08:39 PM
চতুর্থ ডেলিভারির গতি ১৪৯.৬ কিলোমিটার। পঞ্চমটির গতি ১৪৭.২ কিলোমিটার। আর শেষটির ১৪৯.১ কিলোমিটার। আলি রাজার এই তিনটি ডেলিভারিতেই ধরা দিল উইকেট। দারুণ এক হ্যাটট্রিক করে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখালেন পাকিস্তানের ১৮ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার।
হ্যাটট্রিকই শুধু নয়, রাজার শেষ তিনটি বৈধ ডেলিভারিতে উইকেট পড়েছে ৪টি!
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বুধবার করাচি কিংসের ইনিংসের শেষ ওভারের ঘটনা এটি। পেশাওয়ার জালমির বোলার রাজা ওয়াইড দিয়ে ওভার শুরুর পর তার প্রথম বলে চার মারেন আব্বাস আফ্রিদি। দ্বিতীয় বলে আসে এক রান। তৃতীয় বল ছক্কায় ওড়ান খুশদিল শাহ।
পরের ডেলিভারিটি ছিল ওয়াইড। কিন্তু রান নিতে ছুটে যান নন স্ট্রাইকে থাকা আব্বাস আফ্রিদি। খুশদিল তাকে ফিরিয়ে দিলেও, ফিরতে তিনি পারেননি। কিপারের থ্রোয়ে বল ধরে স্টাম্প ভেঙে দেন রাজা, রান আউট হয়ে ফেরেন আফ্রিদি।
এরপর শুরু হয় রাজার হ্যাটট্রিক যাত্রা। চতুর্থ বলে ওয়াইড ইয়র্কার খুশদিল ঠিকমতো খেলতে না পারলেও, বল চলে যায় লং অনের দিকে। দৌড়ে দুই রানও নিয়ে ফেলেন তিনি। তবে শট খেলার সময়ই তার পা স্টাম্পে লেগে পড়ে যায় বেলস। রিপ্লে দেখে হিট উইকেট আউট দেন টিভি আম্পায়ার।
পঞ্চম বলটি আরেকটি ইয়র্কার, এবার বোল্ড হয়ে ফেরেন শাহিদ আজিজ। শেষ বলে ফুল টসে বোল্ড হন হাসান আলি। হ্যাটট্রিকের আনন্দে ডানা মেলেন রাজা।
১৮ বছর ৩৫ দিন বয়সে এই স্বাদ পেলেন রাজা। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে তার চেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি আর কেউ। পিএসএলে হ্যাটট্রিক করা সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারও তিনিই।
পিএসএলে সপ্তম হ্যাটট্রিক এটি, চলতি আসরে প্রথম। রাজার আগে এই স্বাদ পেয়েছেন মোহাম্মাদ আমির, জুনাইদ খান, ইমরান তাহির, মোহাম্মাদ সামি, আব্বাস আফ্রিদি ও আকিল হোসেন।
এই ম্যাচে চার ওভারে ৪১ রানে ৪ উইকেট নেন রাজা। তার প্রথম শিকার ছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন অস্ট্রেলিয়ান তারকা। অফ স্টাম্প উড়ে যায় কয়েক হাত পেছনে।
রাজার পেশাদার ক্রিকেটে অভিষেক ২০২৪ সালে। চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে দারুণ বোলিং করেন তিনি। পাঁচ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন যৌথভাবে আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। এখন পর্যন্ত ১৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন তিনি ২৫টি।