Published : 15 Apr 2026, 03:04 PM
নিউ জিল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি পর্বে বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফসহ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কয়েক দফায় দেখা গেছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। এই প্রস্তুতি পর্বেই দুই দফায় তাদের দেখা হয়েছে তামিম ইকবালের সঙ্গে। একজনের পরিচয় এখন বিসিবি সাবেক সভাপতি, আরেকজন বর্তমান সভাপতি। পরিবর্তনটা হয়েছে যেন চোখের পলকে। তবে এতে চমকে যাননি বলেই জানালেন বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স। তার দাবি, জীবনের কোনো কিছুই তাকে আর অবাক করে না।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে সিমন্সের আবির্ভাবও ছিল বেশ চমকপ্রদ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ শুরু হওয়ার আগে হুট করেই বরখাস্ত করা হয় সেই সময়ের কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহেকে। নতুন কোচ সিমন্স ঢাকায় চলে আসেন পরদিনই। তখন বিসিবির সভাপতি ছিলেন ফারুক আহমেদ।
সেই ফারুককে বিদায় নিতে হয়েছে পরের মে মাসে। তার জায়গায় সভাপতি হওয়ায় আমিনুল টিকতে পারেননি এক বছরও। গত ৭ এপ্রিল তার বদলে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধানের চেয়ারে বসেন তামিম ইকবাল।
বিসিবিতে এই পালাবদল যখন হয়ে গেল, বাংলাদেশ দলের তখন চলছে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি। মাঠের বাইরের এত বড় পরিবর্তনে ক্রিকেটারদের মনোজগতে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়ার কথা। ক্রিকেটারদের মানসিক প্রস্তুতি তাতে বাধাগ্রস্থ হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন ছুটে গেল কোচের দিকে।
মিরপুরে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে কোচ বললেন, প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ার মতো কিছু দেখেননি তিনি।
“প্রথমত, আমরা যা করি, যেভাবে অনুশীলন করি বা আমাদের যে ক্যাম্প হয়েছে, সেখানে এসবের কোনো প্রভাব পড়েনি। পরিকল্পিতভাবেই এটা শেষ হয়েছিল। ক্রিকেটারদের ওপর এটার প্রভাব পড়েছে কি না, এটা ওদেরকেই জিজ্ঞেস করতে হবে। তবে আমি কোনো মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব দেখতে পাইনি। কারণ, সব কাজই তারা করেছে, বরাবরের মতোই কঠিন পরিশ্রম করেছে, বরং কেউ কেউ আরও বেশি করেছে। সিরিজের প্রস্তুতির জন্য যা যা করা দরকার, এখনও সব করছে তারা।”
নতুন সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে তাদের বার দুয়েক দেখা হয়ে গেছে বলেও জানালেন সিমন্স। এত দ্রুত বোর্ডে এত বড় পরিবর্তনেও অবাক হননি বলেই দাবি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই অলরাউন্ডার শোনালেন তার জীবন দর্শনের কথা।
“জীবনে কোনো কিছুই আমাকে আর অবাক করে না। সেটা বাংলাদেশের ব্যাপার বা এমন কিছুই নয়, জীবনের কথা বলছি। এটা বোঝার মতো যথেষ্ট কিছুর ভেতর দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে যে, সবকিছুই হয় দিনভিত্তিতে। কোনো কিছু নিয়ে তাই আমি বিস্মিত নই।”
সভাপতি পদে তিন দফায় পরিবর্তন এলেও কোচিং স্টাফের কাজ ও দলের প্রস্তুতির সঙ্গে সেসবের কোনো সম্পর্ক চোখে পড়েনি সিমন্সের।
“যেমনটি বললেন, তৃতীয়বার পরিবর্তন হলো এবং দলকে প্রস্তুত করে তোলায় আমার যে ভূমিকা, সিরিজের জন্য আমরা যেভাবে ওদেরকে প্রস্তুত করে তুলি, সেখানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। কোচিং গ্রুপ হিসেবে আমাদের কাজে এটার কোনো প্রভাব পড়েনি।”
“তারা (সভাপতি) তো প্রধান কোচ হিসেবে আসছে না। কাজেই আমি নিজের কাজই চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা কিছু একটার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং কিছু একটা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। সেটা আমরা করেই যাব। আমরা যা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, সেখানে কেউ পরিবর্তন আনতে চাননি। আমরা যা গড়ার কথা বলেছিলাম, এখনও তা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।”
প্রসঙ্গটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এরপরও। তবে চওড়া হাসিতে সিমন্স বলেছেন, “ক্রিকেটের প্রশ্নে যাওয়া যাক…।”