Published : 17 Aug 2025, 07:26 PM
অভিজ্ঞতায় দুই দলের তুলনাই চলে না। এক দলের একাদশে ৯ জনেরই আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা। কয়েকজন তো অনেক ম্যাচের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। আরেক দলের কেউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ধারেকাছেও যেতে পারেননি কখনও। একাদশের ৫ ক্রিকেটারের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকই হয়নি! কিন্তু দুই দলের মাঠের লড়াইয়ে দেখা গেল উল্টো চিত্র। উঠতি ক্রিকেটারদের দল পার্থ স্কর্চার্স একাডেমি বেশ সহজেই হারিয়ে দিল নামের ভারে শক্তিশালী বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে।
অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে ৫ উইকেটে হারাল পার্থ স্কর্চার্স একাডেমি।
তিন ম্যাচে নুরুল হাসান সোহানের দলের এটি দ্বিতীয় পরাজয়।
ডারউইনে রোববার বাংলাদেশ ‘এ’ দল ২০ ওভার খেলে কোনোরকমে করতে পারে ১২৩ রান।
তৃতীয় ওভারে ক্রিজে গিয়ে শেষ পর্যন্ত খেলে আফিফ হোসেন ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন ৪৯ বল খেলে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান করেন ১০ নম্বরে নামা রকিবুল হাসান।
রকিবুল পরে বল হাতেও উজ্জ্বল। অন্য বোলাররাও লড়াইয়ের চেষ্টা করেন কিছুটা। কিন্তু ওই পুঁজি নিয়ে পারা যায়নি। স্কর্চার্স একাডেমি ম্যাচ জিতে যায় দুই ওভার বাকি রেখে।
মারারা ওভালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ভালো করতে পারেনি শুরু থেকেই। দ্বিতীয় ওভারে ব্রাইস জ্যাকসনের অফ স্টাম্পের বাইরের বল অনসাইডে বাজে ভাবে স্লগ করার চেষ্টায় থার্ডম্যানে ধরা পড়েন মোহাম্মাদ নাঈম শেখ (৬ বলে ৫)। পরের ওভারে ব্রডি কাউচের বল স্কয়ার ড্রাইভ করে পয়েন্টে তুলে দেন সাইফ হাসান (২ বলে ১)।

আগের দিনের নায়ক জিসান আলম এই ম্যাচে ছন্দ পাননি একটুও। এলবিডব্লিউ হন তিনি (১৩ বলে ৯) অ্যালবার্ট এস্তারহুইসেনের প্রথম ওভারে।
পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে স্রেফ ২৯ রান করতে পারে বাংলাদেশ।
আগের দুই ম্যাচে ছয়ে নেমে ব্যর্থ মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এই ম্যাচে পাঁচে নেমেও পারেননি রানে ফিরতে। কোরি রকিচিওলির তীক্ষ্ন টার্ন করা অফ স্পিনে কিপারের হাতে ধরা পড়েন তিনি (১১ বলে ৬)।
জিসান ও অঙ্কন, দুজনের আউটের সিদ্ধান্তই অবশ্য ছিল সংশয়পূর্ণ।
দলকে উদ্ধার করতে পারেননি অধিনায়ক সোহানও (১৬ বলে ১৪)। রানের জন্য ছটফট করে বড় শটের চেষ্টায় উইকেট হারান তোফায়েল আহমেদ (৮ বলে ১)।
আরেকপ্রান্তে দাঁড়িয়ে একের পর এক সঙ্গীর বিদায় দেখছিলেন আফিফ। তার শুরুটা ছিল বেশ আত্মবিশ্বাসী। ক্রিজে যাওয়ার পরপর কাভার ড্রাইভে চার মারেন তিনি, একটু পর চার মারেন রিভার্স সুইপে। তবে এরপর আর ইনিংসকে সেভাবে গতি দিতে পারেননি তিনিও। এমনকি শেষ দিকেও পারেননি বড় শট খেলতে।
পরপর দুই বলে যখন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি ও নাঈম হাসানকে ফেরান জ্যাকসন, বাংলাদেশের তখন একশ ছোঁয়া নিয়েই শঙ্কা।
কোনোরকমে তিন অঙ্ক ছোঁয়া দলের সেরা ওভারটি আসে একদম শেষে। জ্যাকসনকে টানা দুই বলে মিড উইকেট ও পয়েন্ট দিয়ে ছক্কা মারেন রকিবুল হাসান। তিনি রান আউট হওয়ার পর প্রথম বলেই কাভার ড্রাইভে চার মারেন হাসান মাহমুদ।
ওভার থেকে রান আসে মোট ২০। দলের রান ছাড়ায় ১২০।
স্কর্চার্স একাডেমির রান তাড়া শুরু হয় দ্বিতীয় বলে ছক্কা ও প্রথম ওভারে ১১ রান তুলে। দ্বিতীয় ওভারে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে ব্যাক্সটার হল্টকে বোল্ড করে দেন হাসান মাহমুদ।
দ্বিতীয় উইকেটে জেডেন গুডউইন ও টিগ ওয়াইলি দলকে এগিয়ে নেন একটু। রকিবুলের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলার চেষ্টায় গুডউইন ফেরেন ১৭ রানে।
এরপর অধিনায়ক স্যাম ফ্যানিং ও নিক হবসন ভালো করতে পারেননি। ওয়াইলির লড়াই শেষ হয় ৩১ রানে নাঈম হাসানের বল স্টাম্পে টেনে এনে।
৮১ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে সম্ভাবনা কিছুটা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পরের জুটিতেই স্কর্চার্স একাডেমিকে জিতিয়ে দেন জোয়েল কার্টিস ও ম্যাথু স্পুর্স।
এখনও পর্যন্ত স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি না খেলা কার্টিস অপরাজিত থাকেন ৩৪ বলে ৪৪ রান করে, স্পুর্স ১৬ বলে অপরাজিত ২৪।
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পরের ম্যাচ মঙ্গলবার নর্দান টেরিটরি স্ট্রাইকের বিপক্ষে।
বাংলাদেশ ‘এ’: ২০ ওভারে ১২৩/৯ (নাঈম ৯, জিসান ৫, সাইফ ১, আফিফ ৪২*, অঙ্কন ৬, সোহান ১৪, তোফায়েল ১, মৃত্যুঞ্জয় ১৪, নাঈম ০, রকিবুল ১৬, হাসান ৪*; কাউচ ৪-০-২০-১, জ্যাকসন ৪-০-৪৫-৩, এস্তারহুইসেন ৪-০-২১-২, রকিচিওলি ৪-০-১৫-১, স্পুর্স ৪-০-১৭-১)।
পার্থ স্কর্চার্স একাডেমি: ১৮ ওভারে ১২৬/৫ (হল্ট ১, গুডউইন ১৭, ওয়াইলি ৩১, ফ্যানিং ৩, কার্টিস ৪৪*, হবসন ৩, স্পুর্স ২৪*; নাঈম ৪-০-৩১-২, হাসান ৩-০-১৬-১, মৃত্যুঞ্জয় ৩-০-২৯-০, রকিবুল ৪-০-১৮-২, সাইফ ৩-০-২৩-০, তোফায়েল ১-০-৭-০,)।
ফল: পার্থ স্কর্চার্স একাডেমি ৫ উইকেটে জয়ী।