Published : 12 Jun 2026, 11:34 AM
জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন পড়ে ৯ রানে। উইকেট বাকি ৭টি। সহজ সমীকরণ। কিন্তু ১৯তম ওভারে দুশমান্থা চামিরা দিলেন কেবল ৩ রান। একটু যেন নাটকীয়তার ইঙ্গিত! কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জমল না। শেষ ওভারের প্রথম বলে এলো সিঙ্গল। পরের বলেই রভম্যান পাওয়েলের ছক্কায় ম্যাচের সমাপ্তি।
তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ম্যাচের প্রথম ভাগে শ্রীলঙ্কা আগ্রাসী শুরু করলেও ক্যারিবিয়ানদের ম্যাচে ফেরান জেসন হোল্ডার। পরে দারুণ বোলিং করেন শামাস জোসেফও। দুই পেসারই শিকার করেন তিনটি করে উইকেট। ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা করতে পারে ১৪৭ রান।
রান তাড়ায় ঝড়ো শুরুর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের গতি কমে যায় অনেকটা। তবে শেই হোপ শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে দলকে জিতিয়ে ফেরেন। ৫৪ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।
জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কে বৃহস্পতিবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা লঙ্কানরা প্রথম চার ওভারে তোলে ৩৯ রান। পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসে হোল্ডার প্রথম বলে হজম করেন বাউন্ডারি। তবে এরপরই প্রবলভাবে ফিরে আসেন অভিজ্ঞ এই পেসার। টানা দুই বলে বিদায় করেন তিনি পাথুম নিসাঙ্কা (১৮) ও লাসিথ ক্রুসপুলকে (০)।
পরের ওভারে জোসেফের বলে শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নেন পাভান রাথ্নায়েকে (৪)। ৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
একটু পর জোসেফের বলে ফিরে যান লঙ্কান অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস (২৩ লে ৩৬), দল তখন বেশ বিপদে। পঞ্চম উইকেটে অর্ধশত রানের জুটি গড়েন কামিন্দু মেন্ডিস ও দাসুন শানাকা। তবে তেমন ঝড় তুলতে পারেননি কেউই। ৫৯ রানের জুটি আসে ৪৮ বলে।
২২ রান করতে ২৩ বল খেলে ফেলেন শানাকা। ৩৯ বলে ৫১ রান করে শেষ ওভারে রান আউট হন কামিন্দু।
শেষ দিকে দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়ে দেড়শ ছুঁতে পারেনি তারা। শেষ ৭ ওভারে রান ওঠে মাত্র ৩৯!
ওয়েস্ট ইন্ডিজ রান তাড়ায় অনেকটা এগিয়ে যায় শুরুর জুটিতেই। পাওয়ার প্লেতে শেই হোপ ও ব্র্যান্ডন কিং তোলেন ৬৬ রান।
পাওয়ার প্লে শেষেই বোলিংয়ে এসে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ভাঙেন এই জুটি। ২২ বলে ৩৭ রান করে আউট হন কিং।
তিনে নেমে হেটমায়ার দুই চার ও এক ছক্কায় ৯ বলে ১৭ রান করে আউট হয়ে যান হাসারাঙ্গার বলেই। এরপরই কমে যায় ক্যারিবিয়ানদের রানের গতি। রস্টন চেইস ২৬ বলে করেন ১৬ রান। টানা পাঁচ ওভারে আসেনি বাউন্ডারি।
তবে হোপ ও পাওয়েল কোনো বিপদ হতে দেননি। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৬৫ রানে মাঠ ছাড়েন হোপ।
সিরিজের পরের ম্যাচ রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৪৭/৯ (নিসাঙ্কা ১৮, কুসাল মেন্ডিস ৩৬, ক্রুসপুল ০, রাথ্নায়েকে ৪, কামিন্দু মেন্ডিস ৫১, শানাকা ২২, হাসারাঙ্গা ১, থিকসানা ১, চামিরা ১, মালিঙ্গা ৩*; আকিল ৩-০-২৮-০, ফোর্ড ৩-০-৩২-০, হোল্ডার ৪-০-১৮-৩, জোসেফ ৪-০-২৯-৩, শেফার্ড ২-০-১৭-০, চেইস ৪-০-১৯-১)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯.২ ওভারে ১৪৯/৩ (কিং ৩৭, হোপ ৬৫*, হেটমায়ার ১৭, চেইস ১৬, পাওয়েল ১০*; মাদুশাঙ্কা ৩.২-০-৩৯-০, চামিরা ৪-০-৩২-০, থিকসানা ৪-০-২০-০, মালিঙ্গা ৪-০-২৬-১, হাসারাঙ্গা ৪-০-৩২-২)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০তে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: জেসন হোল্ডার।