যুব এশিয়া কাপ
Published : 21 Dec 2025, 03:31 PM
ম্যাচের তৃতীয় ওভারে কিষান সিংকে দুই বাউন্ডারি মেরে শুরু। এরপর আর থামাথামির নাম নেই সামির মিনহাসের। ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলারদের ভুগিয়ে চমৎকার এক ইনিংস খেললেন পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ওপেনার। সঙ্গে রেকর্ডের একাধিক পাতায় নাম লেখালেন তিনি।
দুবাইয়ে রোববার যুব এশিয়া কাপের ফাইনালে ১৭২ রান করেন সামির। তার ১১৩ বলের ইনিংসটি সাজানো ৯টি ছক্কা ও ১৭টি চারে।
যুব ওয়ানডেতে সামিরের ইনিংসটি পাকিস্তানের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ। গত বছরের এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষেই ১৫৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন শাহজাইব খান।
অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়লেন সামির। এই প্রতিযোগিতার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এই প্রথম দেখা গেল দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস। সামির ভেঙেছেন ২০১২ সালের ফাইনালে পাকিস্তানেরই সামি আসলামের করা ১৩৪ রানের রেকর্ড।
যুব এশিয়া কাপের ইতিহাসেই সামিরের ইনিংসটি সর্বোচ্চ। চলতি আসরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৭১ রান করেছিলেন ভারতের বৈভাব সুরিয়াভানশি।
এই প্রতিযোগিতায় দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস আছে আর কেবল একটি, শাহজাইবের ১৫৯।
আইসিসি একাডেমি মাঠে এদিন টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে ভালো শুরু এনে দেন সামির। টি-টোয়েন্টি ঘরানার ব্যাটিংয়ে রান বাড়াতে থাকেন তিনি। ২৯ বলে পা রাখেন ফিফটিতে।
এরপর কিছুটা মন্থর হয়ে যায় সামিরের রানের গতি। ৯৯ থেকে দিপেশ দেভেন্দ্রানকে চার মেরে ৭১ বলে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন তিনি। ফিফটি থেকে সেঞ্চুরি ছুঁতে তার লাগে ৪২ বল।
শতকের পর ইনিংসটিকেও আরও এগিয়ে নেন সামির। ১০৫ বলে স্পর্শ করেন দেড়শ। পরের ওভারে দিপেশকে চার বলের মধ্যে দুটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকান তিনি। ওভারের পঞ্চম বলে বাজে তার বিদায়ঘণ্টা। স্লোয়ার ডেলিভারিতে মিড-অনে ধরা পড়েন তিনি।
চলতি এশিয়া কাপে এটি সামিরের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। গ্রুপ পর্বে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১৭৭ রান করেছিলেন তিনি। মালয়েশিয়ার ওয়ানডে স্বীকৃতি না থাকায়, ওই ম্যাচটি পায়নি যুব ওয়ানডের স্বীকৃতি।
এরপর ভারতের বিপক্ষে স্রেফ ৯ রানে আউট হয়ে যান সামির। তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ান ডানহাতি ব্যাটসম্যান। আরব আমিরাতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে করেন ৪৪ রান। আর সেমি-ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেন অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস।
সামিরের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৩৭ রানের জুটি গড়েন আহমেদ হুসাইন। একটি ছক্কা ও ৩টি চারে ৭২ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। সঙ্গে বাকিদের অবদানে ৮ উইকেটে ৩৪৭ রান করে পাকিস্তান।
যুব এশিয়া কাপে এই রান পাকিস্তানের সর্বোচ্চ। টুর্নামেন্টের ফাইনালেও তাদের চেয়ে বেশি রান করতে পারেনি কোনো দল। তিনশ রান হয়েছে আর কেবল দুইবার, যেগুলো করেছে ভারত, ২০১৪ আসরে ৩১৪ ও ২০১৮ আসরে ৩০৪।