Published : 10 May 2026, 09:44 PM
প্রথম দুই ম্যাচে রান তাড়ায় মোহাম্মাদ নাঈম শেখ আউট হয়ে যান শুরুর ছয় ওভারের মধ্যে। এবার প্রথমবার আসরে আগে ব্যাটিং করল তার দল। ইনিংসের শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত খেললেন নাঈম। মাঝের সময়টুকুতে প্রতিপক্ষের বোলারদের গুঁড়িয়ে দারুণ এক ইনিংস উপহার দিলেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় রাউন্ডে রোববার রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১৩৬ বলে ১৪৫ রানের ইনিংস খেলেন নাঈম। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ওপেনারের ইনিংসটি গড়া ১২ ছক্কা ও ৫ চারে। লিস্ট এ ক্রিকেটে তার ১১তম সেঞ্চুরি এটি।
ছয় নম্বরে নেমে ৫ ছক্কা ও ৪ চারে ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ইয়াসির আলি চৌধুরি। ভালো শুরু পেয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি মোহামেডান অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় (২১ বলে ৩৫) ও পারভেজ হোসেন (৫৬ বলে ৪৬)। আফিফ হোসেন যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।
ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৫০ ওভারে মোহামেডান করে ৬ উইকেটে ৩৪৫ রান। জবাবে ১৬.৫ ওভারে রূপগঞ্জ ৫ উইকেটে ৫৩ রান করার পর বৃষ্টির কারণে আর খেলা হতে পারেনি। সোমবার রিজার্ভ ডেতে হবে বাকি ম্যাচ।
মোহামেডানের হয়ে পাঁচ ওভারে ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি।
বৃষ্টি বাগড়া দিয়েছে দিনের বাকি পাঁচ ম্যাচেও। আবাহনী লিমিটেড ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যাচও গড়িয়েছে রিজার্ভ ডেতে।
৫০ ওভারে আবাহনী করে ৬ উইকেটে ২৮৩ রান। জবাবে ব্রাদার্স ১২ ওভারে ১ উইকেটে ৪৯ রান করার পর আর খেলা হয়নি।
আবাহনীর হয়ে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন, ১১৩ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায়। ৫ ছক্কায় ও ৪ চারে ৭৬ বলে ৭৭ রান করেন এসএম মেহেরব।
আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন এবার ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৪০ বলে ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন।

সাভারের বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে ঢাকা লিওপার্ডসের হয়ে সেঞ্চুরি করেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা আরেক ওপেনার জাকির হাসান। ১৩৪ বলে ১২ চার ও ৫ ছক্কায় ১৩৭ রান করেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার পঞ্চম সেঞ্চুরি এটি।
জাকিরের দল যদিও জিততে পারেনি। তাদের বিপক্ষে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ১ রানে জিতেছে সিটি ক্লাব।
৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০৬ রান করে লিওপার্ডস। জবাবে সিটি ক্লাব ২০.১ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান করার পর বৃষ্টিতে আর খেলা হয়নি। তখন ডিএলএস পদ্ধতিতে ১ রানে এগিয়ে ছিল তারা।
৮ চারে ৬৪ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন সিটির মিজানুর রহমান।
গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে অগ্রনী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন শাহাদত হোসেন সবুজ। পাঁচ নম্বরে নেমে ১৭ চার ও এক ছক্কায় ১২১ বলে ১৩২ রান করেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার প্রথম সেঞ্চুরি এটি।
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ম্যাচটি ডিএলএস পদ্ধতিতে ৬০ রানে জিতেছে গুলশান। ৫০ ওভারে তারা করে ৫ উইকেটে ৩০১ রান।
জবাবে অগ্রণী ব্যাংক ২ উইকেটে ৮৯ রান করার পর বৃষ্টি নামে। পরের তাদের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬ ওভারে ১৯৩। ১৩২ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। ওপেনার মাহফিজুল ইসলামের ৫৭ বলে ৫৩ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি দলটির আর কেউ।
ম্যাচ সেরা হন সেঞ্চুরিয়ান সবুজ।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ডিএলএস পদ্ধতিতে ২১ রানে জিতেছে।
রূপগঞ্জ ৪৭.৫ ওভারে অলআউট হয় ২২৭ রানে। ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৫৬ বলে সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন হাবিবুর রহমান সোহান।
জবাবে প্রাইম ব্যাংক ২৪.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১০৮ রান করার পর বৃষ্টিতে খেলা হয়নি। ডিএলএস পদ্ধতিতে তখন ২১ রানে এগিয়ে ছিল তারা। ৮ চারে ৭১ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন শাহাদাত হোসেন।
প্রাইম ব্যাংকের শামীম মিয়া ১০ ওভারে ৪৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচ সেরা।
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ডিএলএস পদ্ধতিতে ১০ রানে জিতেছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স।
রাজধানীর ক্রিকেটার্স একাডেমিতে বসুন্ধরা করে ২৩৫ রান। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন। তার ৬০ বলের ইনিংস গড়া ৬ চার ও ৫ ছক্কায়। ৭৭ বলে ৫৯ রান করেন ইমরানউজ্জামান।
গাজী গ্রুপের ইনিংসের মাঝপথে বৃষ্টি নামলে তাদের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪ ওভারে ১৯৪। ১৮৩ রানে গুটিয়ে যায় তারা ৩২.১ ওভারে।
৩৯ রানে ৪ উইকেট নেন লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ম্যাচ সেরা হন তিনিই।