ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে শামীমের বিধ্বংসী ফিফটি

ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বিপর্যয়ের মধ্যে আটে নেমে পাল্টা আক্রমণে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন রংপুর রাইডার্সের ব্যাটসম্যান।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Feb 2024, 03:07 PM
Updated : 28 Feb 2024, 03:07 PM

ওবেড ম্যাককয়ের বলটি ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে। ব্যাট ঘুরিয়ে চোখধাঁধানো রিভার্স স্কুপে ছক্কায় উড়িয়ে দিলেন শামীম হোসেন। ওই ওভারে প্রায় একই ধরনের শটে বল বাউন্ডারিতে পাঠালেন আরও দুবার। শেষ বলের আগে দীর্ঘ আলোচনার পর নতুন করে সাজানো হলো মাঠ। অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরে ফুল লেংথ ডেলিভারি করলেন ম্যাককয়। এবার প্রথাগত ড্রাইভে এক্সট্রা কাভার দিয়ে বল সীমানায় পাঠালেন শামীম। ২৪ রান থেকে এক ওভারেই তিনি পৌঁছে গেলেন ফিফটিতে।

শুধু পঞ্চাশ রানই নয়, ম্যাচের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় টুর্নামেন্টের সেরা ইনিংসগুলোর একটি উপহার দিলেন রংপুর রাইডার্সের তরুণ ব্যাটসম্যান। বিপিএলের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে আট নম্বরে নেমে স্রেফ ২৪ বলে তিনি করেন অপরাজিত ৫৯। পাঁচটি করে চার-ছক্কায় সাজান নিজের ইনিংস।

আগের ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ইনিংস শুরু করে রানের খাতা খোলার আগেই ড্রেসিং রুমের পথ ধরেছিলেন শামীম। এবার লোয়ার-মিডল অর্ডারে নেমে চরম বিপর্যয়ের মধ্যেই সহজাত আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেন ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

১৫তম ওভারে শামীম যখন ক্রিজে যান, ৬ উইকেটে রংপুরের স্কোর স্রেফ ৭৬ রান। নুরুল হাসান সোহানও ওই ওভারে ফিরে গেলে রান হয়ে যায় ৭ উইকেটে ৭৭। সেখান থেকে আবু হায়দারকে নিয়ে রংপুরকে ১৪৯ রানে পৌঁছে দেন শামীম।

অবিচ্ছিন্ন জুটিতে স্রেফ ৩১ বলে ৭২ রান যোগ করেন শামীম ও আবু হায়দার। সেখানে শামীমের অবদান ২২ বলে ৫৮ রান। অবলীলায় র‍্যাম্প ও স্কুপ খেলা শামীম উইকেটের পেছন দিয়ে করেন ২৫ রান।

মেহেদী হাসান মিরাজের বলে রিভার্স স্কুপে ছক্কা মেরে শুরু হয় শামীম-ঝড়। পরের ওভারে চার-ছক্কা মারেন ম্যাককয়কে।

শামীম মূল তাণ্ডব চালান ১৯তম ওভারে। ম্যাককয়ের ওই ওভারে ৩ ছক্কা ও ২ চারে তিনি নেন ২৬ রান। স্রেফ ২০ বলে পূর্ণ করেন পঞ্চাশ।

চলতি আসরে এটিই দ্রুততম ফিফটি। একই দলের সাকিব আল হাসানও ২০ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন।

৮৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে শামীমের পঞ্চম ফিফটি এটি। বিপিএলের গত আসরে বরিশালের বিপক্ষেই ক্যারিয়ার সেরা ৭১ রান করেছিলেন তিনি। ওই ম্যাচের ২৩ ইনিংস পর আবার তিনি পেলেন ফিফটি।

ম্যাচের মাঝ বিরতিতে খেলা সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান টি-স্পোর্টসকে শামীম বলেন, আত্মবিশ্বাসের রসদ থেকেই তার এমন ইনিংস।

"আমার নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল আমি যদি শেষ করতে পারি তাহলে দলের জন্য ভালো কিছু দিতে পারব। (উইকেটের পেছন দিকের শট) এগুলো আমার তাৎক্ষণিক হয়ে যায়। এগুলো আমি ভালো খেলি। আজকেও চেষ্টা করেছি, সফল হয়েছি।"