Published : 07 Jul 2025, 10:49 PM
প্রথম দিনের ডাবল সেঞ্চুরিকে ট্রিপলে রূপান্তর করে অনন্য কীর্তি গড়লেন ভিয়ান মুল্ডার। চারশ ছোঁয়ার হাতছানিতেও ইনিংস ছেড়ে দিয়ে আরও বড় বিস্ময়ের জন্ম দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। আরেকটি দাপুটে দিনে রানের পাহাড় গড়ে প্রোটিয়ারা ছুটছে বড় জয়ের পথে।
বুলাওয়ায়োতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন প্রথম সেশনের বিরতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ঘোষণা করে দেয় ৫ উইকেটে ৬২৬ রানে। ওভারপ্রতি রান তোলে তারা ৫.৪৯ করে। ৪৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৩৪ বলে ৩৬৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত রয়ে যান মুল্ডার।
জবাবে মুল্ডারের অর্ধেক রানও করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংসে ৪৩ ওভারে ১৭০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ফলো-অনে পড়ে স্বাগতিকরা সোমবারের খেলা শেষ করেছে ১ উইকেটে ৫১ রানে। ইনিংস হার এড়াতে তাদের এখনও প্রয়োজন ৪০৫ রান। ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় দক্ষিণ আফ্রিকার জয় স্রেফ সময়ের ব্যাপার।
প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও সব আলো কেড়ে নিয়েছেন মুল্ডার। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট নেতৃত্বের অভিষেকে ট্রিপল সেঞ্চুরি, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম অধিনায়ক ও দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি, দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস, দেশের বাইরে সর্বোচ্চ ইনিংস-সহ অনেক কীর্তি গড়েছেন ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।
আগের দিন ২৬৪ রানে অপরাজিত মুল্ডার ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম ২৯৭ বলে। ২০০৮ সালে চেন্নাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭৮ বলে ৩০০ ছুঁয়ে চূড়ায় ভারতের ভিরেন্দার শেবাগ।
প্রথম দিন ১৫ রানে অপরাজিত ডেওয়াল্ড ব্রেভিস এ দিন আর বেশিদূর যেতে পারেননি (৩০)। কাইল ভেরেইনার সঙ্গে জুটিতে ছুটতে থাকেন মুল্ডার। ৩২৪ বলে ৩৫০ রান পূর্ণ করেন তিনি, টেস্টে যা দ্রুততম সাড়ে তিনশর নজির। ২০০৩ সালে পার্থ টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ৪০২ বলে সাড়ে তিনশ স্পর্শ করা অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন নেমে গেছেন দুইয়ে।
ব্রায়ান লারার বিশ্বরেকর্ড থেকে ৩৩ রান দূরে থাকতে লাঞ্চ বিরতিতে যান মুল্ডার। সবাই যখন তার চারশ ছোঁয়ার সম্ভাবনায় রোমাঞ্চিত, সেই রোমাঞ্চে জল ঢেলে দেন তিনি নিজেই। বিরতির পর জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনারকে ব্যাটিংয়ে নামতে দেখে অবাক হয়ে যায় ক্রিকেট বিশ্বের অনেকেই। ম্যাচের যে তখন কেবল চার সেশন পেরিয়েছে!
মুল্ডার ইনিংস ছেড়ে দেওয়ায় ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রায়ান লারার অপরাজিত ৪০০ রানের রেকর্ড তাই অক্ষতই রয়ে গেল। সর্বোচ্চ ইনিংসের এই তালিকায় মুল্ডার আছেন এখন পাঁচ নম্বরে।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই টাকুদজোয়ানাশে কাইটানোকে হারায় জিম্বাবুয়ে। সেই ধারা অব্যাহত রেখে উইকেট হারায় তারা নিয়মিত।
সাত নম্বরে নেমে ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে বলতে গেলে একাই দলকে টানেন শন উইলিয়ামস। তবে সঙ্গীর অভাবে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পাননি এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
৭ চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ বলে ৮৩ রানে অপরাজিত রয়ে যান তিনি। শেষ জুটির ৩৫ ছাড়া জিম্বাবুয়ের ইনিংসে ত্রিশ ছোঁয়া জুটি আর কেবল একটি- চতুর্থ উইকেটে ৩৬।
৪২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার অভিষিক্ত অফ স্পিনার প্রেনেলান সুব্রায়েন। মুল্ডার ও কোডি ইউসুফের শিকার দুটি করে উইকেট।
৪৫৬ রানের লিড নিয়ে জিম্বাবুয়েকে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এক দিনেই দ্বিতীয়বার কর্বিন বশের শিকার হয়ে ফেরেন ডিয়ন মেয়ার্স। নিকোলাস ওয়েলচকে নিয়ে দিনের বাকিটা পার করে দেন কাইটানো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৪৬৫/৪) ১১৪ ওভারে ৬২৬/৫ ডিক্লে. (মুল্ডার ৩৬৭*, ব্রেভিস ৩০, ভেরেইনা ৪২*; মুজারাবানি ২৬-৪-১৩৩-০, চিভাঙ্গা ২৪-৩-১১২-২, মাতিগিমু ২১.৩-১-১২৪-২, মাসাকাদজা ৩৩-২-১৮৪-১, মেয়ার্স ২.৩-০-১৪-০, মাধেভেরে ৭-০-৪৭-০)
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ৪৩ ওভারে ১৭০ (কাইটানো ০, মেয়ার্স ১, ওয়েলচ ১০, মাধেভেরে ২৫, আরভাইন ১৭, সিগা ১২, উইলিয়ামস ৮৩*, মাসাকাদজা ৩, মিতিগিমু ০, মুজারাবানি ৫, চিভাঙ্গা ৪; ইউসুফ ৭-১-২০-২, বশ ৭-১-২৭-১, মুল্ডার ৬-২-২০-২, মুথুসামি ১৩-২-৫৯-১, সুব্রায়েন ১০-১-৪২-৪)
জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ১৬ ওভারে ৫১/১ (মেয়ার্স ১১, কাইটানো ৩৪*, ওয়েলচ ৬*; ইউসুফ ৫-০-১৫-০, বশ ৬-২-২১-১, মুল্ডার ৩-০-৮-০, সুব্রায়েন ২-০-৭-০)
লারার প্রতি সম্মান জানিয়ে ৪০০ ছোঁয়ার চেষ্টা করেননি মুল্ডার
মুল্ডারের অপরাজিত ৩৬৭ রানের ইনিংসে যত রেকর্ড
ব্রায়ান লারার ৪০০ ছোঁয়ার হাতছানি থেকে মুল্ডারের বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত!