Published : 07 Jul 2025, 07:42 PM
ভিয়ান মুল্ডার যখন লাঞ্চ বিরতিতে গেলেন, বিশ্বরেকর্ড থেকে স্রেফ ৩৩ রান দূরে তিনি। যেভাবে খেলছিলেন, তার চারশ রানের সম্ভাবনা নিয়ে তখন রোমাঞ্চিত ক্রিকেট দুনিয়া। কিন্তু ব্রায়ান লারার দুই দশক পুরোনো রেকর্ডের পথে না ছুটে বিস্ময় জাগিয়ে বিরতির সময়ই ইনিংস ছেড়ে দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক! তবু তার দুর্দান্ত ট্রিপল সেঞ্চুরির ইনিংসটি জায়গা করে নিল রেকর্ড বইয়ের বিভিন্ন পাতায়।
বুলাওয়ায়োতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে সোমবার ৪৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৩৪ বলে ৩৬৭ রানের ইনিংস খেলেছেন মুল্ডার। ৫ উইকেটে ৬২৬ রানে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে টেস্টের প্রথম চার সেশনেই।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মুল্ডারের কিছু রেকর্ড:
দক্ষিণ আফ্রিকার চূড়া
দক্ষিণ আফ্রিকার ১৩৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এখন মুল্ডারের এটিই। ২০১২ সালে দা ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাশিম আমলার অপরাজিত ৩১১ ছিল আগের সর্বোচ্চ।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডেও এখন চূড়ায় মুল্ডার। ২০০৩ সালে এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রায়েম স্মিথের ২৭৭ ছিল দেশটির অধিনায়কদের মধ্যে আগের সর্বোচ্চ।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ রানও মুল্ডারের। এজবাস্টনের ওই ম্যাচে ৩৬২ রান করে এতদিন এখানে চূড়ায় ছিলেন স্মিথ (২৭৭ ও ৮৫)। তাকে মুল্ডার ছাড়িয়ে গেলেন এক ইনিংসেই।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুল্ডারের চেয়ে বড় ইনিংস আছে আর কেবল একটি। ২০০৯ সালে সুপারস্পোর্ট সিরিজে লায়ন্সের হয়ে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৬৪৮ বলে ৩৯০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ওপেনার স্টিফেন কুক।
লিটল মাস্টারকে ছাড়িয়ে
দেশের বাইরে টেস্টে সর্বোচ্চ ইনিংস এখন মুল্ডারের। এখানে আগের সেরা ছিল পাকিস্তানের লিটল মাস্টার হানিফ মোহাম্মদের ৩৩৭। ১৯৫৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বারবাডোজ টেস্টে ফলোঅনে পড়ে তার ওই স্মরণীয় ইনিংসে ম্যাচ বাঁচিয়েছিল পাকিস্তান। যে কোনো দলের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ এটি।
টেস্ট ক্রিকেটে তিনশ বা এর বেশি রানের ব্যক্তিগত ইনিংস আছে মোট ৩৩টি। দলের দ্বিতীয় ইনিংসে হানিফ ছাড়া তিনশ ছুঁতে পারেন আর কেবল নিউ জিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ২০১৪ সালে ওয়েলিংটনে ভারতের বিপক্ষে ৩০২।
৯৭০ মিনিট উইকেটে থেকে ইনিংসটি খেলেছিলেন হানিফ, দীর্ঘতম টেস্ট ইনিংসের রেকর্ড হিসেবে যা টিকে আছে যুগের পর যুগ।
টেস্ট ইতিহাসে মুল্ডারের চেয়ে বড় ইনিংস আছে কেবল চারটি- ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার মাহেলা জায়াওয়ার্দেনের ৩৭৪, ১৯৯৪ সালে অ্যান্টিগায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লারার ৩৭৫, ২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পার্থে ম্যাথু হেইডেনের ৩৮০ ও ২০০৪ সালে অ্যান্টিগায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লারার অপরাজিত ৪০০।
জিম্বাবুয়েতে রাজা
প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন মুল্ডার। দেশটিতে কোনো ব্যাটসম্যানের আগের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল কুমার সাঙ্গাকারার ২৭০, বুলাওয়ায়োর এই মাঠেই ২০০৪ সালে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে মুল্ডারের চেয়ে বড় ইনিংস কেবল পার্থে হেইডেইনের ওই ৩৮০।
জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংসও এখন মুল্ডারের। ২০০০ সালে নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে মার্ক রিচার্ডসনের ৩০৬ ছিল আগের সর্বোচ্চ।
ঝড়ের বেগে
৩২৪ বলে ৩৫০ রান পূর্ণ করেন মুল্ডার, যা টেস্টে দ্রুততম সাড়ে তিনশ স্পর্শের নজির। চারশর কম বলে এই মাইলফলক ছুঁতে পারেননি আর কেউ। ২০০৩ সালে পার্থে হেইডেনের ৪০২ বল এখন দ্বিতীয় দ্রুততম।
মুল্ডার ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ২৯৭ বলে, যা দ্বিতীয় দ্রুততম। ২০০৮ সালে চেন্নাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭৮ বলে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে রেকর্ডটি ভারতের ভিরেন্দার শেবাগের।
সর্বকনিষ্ঠ
৬১ বছরের রেকর্ড ভেঙে অধিনায়ক হিসেবে টেস্টের সর্বকনিষ্ঠ ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান মুল্ডার (২৭ বছর ১৩৮ দিন)। ১৯৬৪ সালে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৩১১ রানের ইনিংস খেলে আগের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক বব সিম্পসনের (২৮ বছর ১৭১ দিন)।
টেস্ট নেতৃত্বের অভিষেকে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা প্রথম ক্রিকেটারও মুল্ডার।
ওপরে কেবল এডরিচ
মুল্ডারের ৪৯টি চার টেস্টের এক ইনিংসে কোনো ব্যাটসম্যানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১৯৬৫ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে অপরাজিত ৩১০ রানের ইনিংসে ৫২টি চার মেরে চূড়ায় আছেন ইংল্যান্ডের জন এডরিচ।
চার ও ছক্কা থেকে মুল্ডার করেছেন ২২০ রান, এক ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে (চার ও ছক্কা মিলিয়ে) যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এখানেও তার ওপরে আছেন এডরিচ, হেডিংলির ওই টেস্টে তার ব্যাটে বাউন্ডারি থেকে এসেছিল ২৩৮ রান।
লারার প্রতি সম্মান জানিয়ে ৪০০ ছোঁয়ার চেষ্টা করেননি মুল্ডার
ব্রায়ান লারার ৪০০ ছোঁয়ার হাতছানি থেকে মুল্ডারের বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত!