Published : 26 Jun 2026, 12:11 AM
চমৎকার ব্যাটিং কন্ডিশনের সুযোগ মুঠোভরে কাজে লাগালেন ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথাম। দুজনই উপহার দিলেন দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস, গড়লেন জুটির রেকর্ড। দিনের বেশিরভাগ সময় একটি উইকেটের জন্য হাপিত্যেশ করা ইংল্যান্ডের জন্য স্বস্তি হয়ে এলো শেষ বিকেলের জোড়া শিকার।
ট্রেন্ট ব্রিজে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩৬১ রান।
দিনের প্রথম ৭২ ওভারে উইকেটশূন্য ইংল্যান্ড পরের ১২.১ ওভারে তুলে নেয় ৪ উইকেট। ভিন্ন দুই ওভারে পরপর দুই বলে আউট হন রাচিন রাভিন্দ্রা ও হেনরি নিকোলস। দিনের খেলা শেষ সেখানেই।
এটুকু বাদ দিলে নিউ জিল্যান্ডের জন্য দিনটা কেটেছে দারুণ। ২২ চার ও ৩ ছক্কায় ২২৪ বলে ১৫৭ রান করেছেন কনওয়ে। ক্যারিয়ারের ১৭তম সেঞ্চুরিতে ২১৪ বলে ১৫ চারে অধিনায়ক ল্যাথাম করেছেন ১৫১।
দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩১৭ রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে যেকোনো উইকেটে নিউ জিল্যান্ডদের সর্বোচ্চ জুটি এটি। আগের সর্বোচ্চও ছিল শুরুর জুটিতে। সেই ১৯৩০ সালে ওয়েলিংটন টেস্টে ২৭৬ রানের জুটি গড়েছিলেন স্টেউই ডেম্পস্টার ও জ্যাকি মিলস।
ইংল্যান্ড-নিউ জিল্যান্ড টেস্টে কনওয়ে ও ল্যাথামের চেয়ে বড় জুটি আছে কেবল একটি। ১৯৬৫ সালে লিডস টেস্টে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৬৯ রানের জুটি গড়েছিলেন জন এডরিচ ও কেন ব্যারিংটন।
টস জিতে ব্যাটিং নেন ল্যাথাম। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ওভারপ্রতি প্রায় চার করে রান তুলে প্রথম ঘন্টায় ৫৪ রান যোগ করেন ল্যাথাম ও কনওয়ে। কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেননি ইংলিশ বোলারা।
প্রথম সেশনে আসে ১০৮ রান। ল্যাথাম পঞ্চাশে পা রাখেন ৬৫ বলে। ৪৫ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়া কনওয়ের পঞ্চাশ ছুঁতে লাগে ৯১ বল।
১৫৭ রানে ভাঙতে পারত জুটি। অফ স্পিনার শোয়েব বাশিরের বল লাগে কনওয়ের প্যাডে। প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল, ব্যাট ছুঁয়ে প্যাডে লেগেছে বল। কিপার জেমি স্মিথও তেমন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। ইংল্যান্ড তাই রিভিউ নেয়নি।
কিন্তু পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটা প্রথমে ব্যাটসম্যানের সামনের প্যাডে লেগেছিল। ইংল্যান্ড রিভিউ নিলে ৭১ রানে শেষ হতে যেত কনওয়ের ইনিংস।
চা বিরতির আগে ১৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ল্যাথাম। ৯৪ রান নিয়ে বিরতিতে যান কনওয়ে। ফিরে এসে অষ্টম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি ১৭৪ বলে। এরপর ম্যাচের প্রথম ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকেই।
ল্যাথাম জীবন পান ১৩৭ রানে, ক্যাচ ফেলে দেন স্মিথ। দেড়শ ছোঁয়ার পর দুই ওপেনার আউট হন পরপর দুই ওভারে। ইংল্যান্ড দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার থামান এই দুজনকে। বেন স্টোকসের শর্ট বল ব্যাটের কানায় লেগে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন ল্যাথাম। জো রুটকে বেরিয়ে এসে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন কনওয়ে।
সাত বলের মধ্যে ওই দুটি উইকেট পায় ইংল্যান্ড।
সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন নিকোলস ও রাভিন্দ্রা। কিন্তু শেষ বেলায় গাস অ্যাটকিনসনের বলে বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে দেন রাভিন্দ্রা। জফ্রা আর্চারের বলে খোঁচা দিয়ে আউট হন নিকোলোস (৪৮ বলে ৩৬)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৮৪.১ ওভারে ৩৬১/৪ (ল্যাথাম ১৫১, কনওয়ে ১৫৭, নিকোলস ৩৬, রাভিন্দ্রা ৭, ও’রোক ০*; অ্যাটকিনসন ১৬-১-৬২-১, আর্চার ১২.১-০-৫৩-১, টাং ১৪-৩-৬০-০, বাশির ২২-২-৯৭-০, স্টোকস ১৩-০-৫৭-১, বেথেল ৪-০-১৮-০, রুট ৩-০-৭-১)