১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রথম ৫ ওভারে ৪ ক্যাচ মিস ভারতের, তবু পারল না বাংলাদেশ

ভারতের বাজে ফিল্ডিংয়ের পরও বড় রান করতে পারেনি বাংলাদেশ, পরে নিজেরাই ক্যাচ ছাড়ার খেসারত দিয়ে হেরে গেছে ম্যাচ।

প্রথম ৫ ওভারে ৪ ক্যাচ মিস ভারতের, তবু পারল না বাংলাদেশ
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের একটি চিত্র। ছবি: ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Jun 2026, 11:22 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:30 PM

হাতে যেন ঘি মাখিয়ে নেমেছিলেন ভারতের ফিল্ডাররা। প্রথম ৫ ওভারেই ৪টি ক্যাট হাতছাড়া! ইনিংসজুড়ে গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে বেশ কিছু ভুল করলেন তারা। বোলিংয়ে ওয়াইড-নো দিলেন ১০টি। তার পরও বড় রান তুলতে পারল না বাংলাদেশ। মাঝারি পুঁজি নিয়ে প্রয়োজন ছিল শুরুতে দ্রুত কিছু উইকেট। উল্টো প্রথম ওভারেই জীবন পেয়ে ঝড়ো ফিফটি করলেন শেফালি ভার্মা। এরপর কিছুটা লড়াই করলেও জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারল না বাংলাদেশ।

আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ জয়ের পর এবার ভারতের সঙ্গে পেরে উঠল না বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে ৫ উইকেটে হেরে গেল নিগার সুলতানার দল। 

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বৃহস্পতিবার ২০ ওভারে বাংলাদেশ তুলতে পারে ৮ উইকেটে ১৩৬ রান। দলের কোনো ব্যাটার ৩৫ রান পর্যন্তও যেতে পারেননি। 

আগের ম্যাচে এই পিচেই ১৫৮ রানের পুঁজি নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছিল ভারত। এই ম্যাচে যদিও উইকেট একটু শুষ্ক ছিল, স্পিন ধরেছে কিছুটা। তবে শেফালির ৩৪ বলে ৫৩ রানের ইনিংসেই জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে যায় ভারত। পরের দিকে কিছু উইকেট হারালেও ম্যাচ শেষ করে দেয় তারা ১৯ বল বাকি রেখে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভারেই খায় ধাক্কা। ভারতের একাদশে ফেরা রেনুকা সিং ফেরান দিলারা আক্তারকে। বাংলাদেশের এই ওপেনারকে পাঁচ ইনিংসের চারবার আউট করলেন এই পেসার। 

এরপরই ক্যাচ মিসের মহড়া শুরু। শ্রী চারানির বলে ১ রানে জুয়ায়রিয়া ফেরদৌসের ক্যাচ নিতে পারেননি ইয়াস্তিকা ভাটিয়া। জীবন পেয়ে পরের ওভারে রেনুকাকে দুটি চার মারেন জুয়ায়রিরা। তবে এর দ্বিতীয়টিতে মিড উইকেট সীমানায় সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন ভারতের সেরা ফিল্ডার বলে বিবেচিত রাধা ইয়াদাভ। 

পরের ওভারে শ্রী চারানির পরপর দুই বলে বেঁচে যান সোবহানা মোস্তারি। দুটি ক্যাচই ছাড়েন নান্দিনি শার্মা প্রথমটি শর্ট কাভারে, পরেরটি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে। 

সেই নান্দিনি পরে নিজের বোলিংয়ে ক্যাচ নিয়ে থামান জুয়ায়রিয়াকে। তবে ততক্ষণে এই ব্যাটার রান করেছেন ৫ চারে ৩১ বলে ৩৩। জুটি হয়ে গেছে ৫১ রানের।

জুয়ায়রিয়ার মতোই দুই দফায় জীবন পেয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি সোবহানা। ২৬ বলে ২২ করে তিনি রাধার শিকার হন। এই ইনিংসের পথে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ১ হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি এই সংস্করণে। 

অধিনায়ক নিগার অবশ্য শুরু থেকেই বেশ সাবলীল ব্যাটিংয়ে রান বাড়ান। নান্দিনির এক ওভারে তিনটি চার মারেন তিনি। তবে দলের জন্য তার প্রয়োজন ছিল শেষ পর্যন্ত থাকা। কিন্তু ১৬ ওভার শেষেই স্টাম্পড হয়ে যান তিনি (২৬ বলে ৩২) রাধার স্পিনে।

আরেক প্রান্তে শারমিন আক্তার পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারছিলেন না। ১২ বলে ১০ রান করা ব্যাটারকে শেষ পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয় কিংবা তিনি উঠে যান। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে ‘রিটায়ার্ড আউট’-এর প্রথম ঘটনা এটি। 

তার বদলে নামা রিতু মনি দারুণ এক শটে রাধার বলে চার মারলেও পরের বলে বোল্ড হয়ে যান ইয়র্কারে। শেষ দিকে দ্রুত রানের জন্য দলের সবচেয়ে বড় ভরসা স্বর্ণা আক্তার ১০ বলে করতে পারেন ১৩ রান। 

শেফালির ইনিংস ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশকে। ছবি: ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম।

শেফালির ইনিংস ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশকে

শেষ ৬ ওভারে কেবল ৪০ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ, বাউন্ডারি আসে মাত্র ৩টি।

আসরে প্রথম খেলতে নেমেই তিন উইকেট নেন রাধা। 

ভারতের রান তাড়া শুরু হয় দ্বিতীয় বলেই শেফালির দুর্দান্ত বাউন্ডারিতে। তবে চতুর্থ বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। নিগারের গ্লাভসে লাগলেও বল জমেনি মুঠোয়। 

পরের বলে বাউন্ডারি মেরে নিজের দ্বিতীয় জীবন উদযাপন করেন শেফালি। সেই উদযাপনের পালা চলতেই থাকে। পরের ওভারে চার ও ছক্কা মারেন সানজিদা আখতার মেঘলার বলে।

ভারতের আরেক ভরসা স্মৃতি মান্দানাকে যদিও দ্রুতই ফেরান মারফা আক্তার। তবে শেফালি ও ইয়াস্তিকা ভাটিয়ার ব্যাটে ঝড়ের বেগে ছুটতে থাকে ভারত। পাওয়ার প্লেতেই রান ওঠে ৬৩।

শেফালি ফিফটি করে ফেলেন ২৯ বলেই।

বিস্ময়করভাবে দলের অভিজ্ঞতম বোলার নাহিদা আক্তারকে ৮ ওভারেও বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক নিগার। নবম ওভারে আক্রমণে এসেই জুটি ভাঙেন বাঁহাতি এই স্পিনার। 

কাট করার চেষ্টায় ব্যাটের নিচের অংশে লেগে বল বাধা পায় কিপার নিগারের প্যাডে। ব্যাটার শেফালি ততক্ষণে ক্রিজের বাইরে চলে গেছেন। স্টাম্পিং করতে সমস্যা হয়নি নিগারের।

পরের ওভারেই নিজের বলে ইয়াস্তিকার ক্যাচ ছাড়েন রাবেয়া। ১৪ রানে জীবন পাওয়া বাঁহাতি ব্যাটার পরে আউট হন রিতু মনিকে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় (১৮ বলে ২৩)। 

রান রেট বাড়ানোর তাগিদ থেকে রিচা ঘোষকে ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন দেয় ভারত। আগ্রাসী এই ব্যাটার ১২ বলে ১০ করে এলবিডব্লিউ হন রাবেয়ার গুগলিতে।

এরপর আঁটসাঁট বোলিং রানের গতি আটকে রাখে পারে। তবে গড়বড় করে ফিল্ডিংয়ে। দুই ব্যাটার প্রায় এক প্রান্তে চলে যাওয়ার পরও জেমিমা রদ্রিগ্সকে রান আউটের সুবর্ণ সুযোগ হারায় তারা। সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট করতে পারেনি হারমানপ্রিত কৌরকে।

পরে মেঘলার ওভারে চার ও ছক্কা মেরে ম্যাচের উত্তেজনা কার্যত শেষ করে দেন জেমিমা। পরে রিতু মনিকে টানা দুটি চার মেরে আউট তিনি (১৫ বলে ২৬) হয়ে যান জয়ের কাছে গিয়ে। 

পরের ওভারে তিন বলের মধ্যে দুটি চার মেরে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন হারমানপ্রিত ও দিপ্তি শার্মা। 

চার ম্যাচের দুটিতে জয়ী বাংলাদেশের পরের ম্যাচ রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লর্ডসে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৬/৮ (জুয়ায়রিয়া ৩৩, দিলারা ৪, সোবহানা ২২, নিগার ৩২, শারমিন ১০, স্বর্ণা ১৩, রিতু ৮, রাবেয়া ২*, নাহিদা ০, মারুফা ২*; শেফালি ২-০-১১-০, রেনুকা ৩-০-২১-১, শ্রী চারানি ৪-০-২১-২, নান্দিনি ৩-০-৩২-১, দিপ্তি ৪-০-২৩-০, রাধা ৪-০-২৮-৩ )।

ভারত: ১৬.৫ ওভারে ১৩৯/৫ (স্মৃতি ৮, শেফালি ৫৩, ইয়াস্তিকা ২৩, রিচা ১০, জেমিমা ২৬, হারমানপ্রিত ১৩*, দিপ্তি ৫*; মারুফা ৩-০-২৮-১, মেঘলা ৩-০-৩৯-০, রিতু ৪-০-২৯-২, রাবেয়া ৩-০-১৯-১, নাহিদা ৩.৫-০-২৪-১)।

ফল: ভারত ৫ উইকেটে জয়ী।

প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: শেফালি ভার্মা।