পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া
Published : 01 Feb 2026, 08:38 PM
পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে সুরটা বেঁধে দিলেন সাইম আইয়ুব। ফিফটির দেখা পেলেন বাবর আজমও। পরে শাদাব খানের ঝড়ে দুইশ ছাড়ানো সংগ্রহ গড়ল পাকিস্তান। মোহাম্মাদ নাওয়াজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে লক্ষ্য তাড়ায় আরও একবার মুখ থুবড়ে পড়ল অস্ট্রেলিয়া। রেকর্ড গড়া জয়ে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল স্বাগতিকরা।
লাহোরে রোববার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ১১১ রানে জিতেছে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সংস্করণে সব দল মিলিয়েই যা সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। আগের রেকর্ডটি ছিল ইংল্যান্ডের, ২০০৫ সালে ১০০ রানে জিতেছিল তারা।
সাইম ও বাবরের ফিফটি পর শাদাবের তাণ্ডবে ২০৭ রান তোলে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম দুইশ রান করতে পারল তারা আগের ম্যাচেই করা ১৯৮ রান ছিল তাদের আগের সর্বোচ্চ।
রেকর্ড পুঁজি গড়ার পথে ইনিংস শুরু করতে নেমে দুই ছক্কা ও ছয়টি চারে ৩৭ বলে ৫৬ রান করেন সাইম। ৩৬ বলে অপরাজিত ৫০ রান করতে এক ছক্কা ও তিনটি চার মারেন বাবর। আর পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চারে ১৯ বলে ৪৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন শাদাব।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ফিফটি করতে পারেননি কেউ। ২৫ রানও আসেনি তাদের কারো ব্যাট থেকে। তাতে স্রেফ ৯৬ রানে গুটিয়ে যায় মিচেল মার্শের দল।
প্রতিপক্ষকে একশর আগের গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজটি করেন নাওয়াজ। ৪ ওভারে স্রেফ ১৮ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি। দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতেই দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন বাঁহাতি স্পিনার।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে ম্যাথু কুনেমানকে দুই চার মারা ফাখার জামান ইনিংস বড় করতে পারেননি। সালমান আলি আগাও পারেননি টিকতে। ৩৪ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে টানেন সাইম ও বাবর।
তৃতীয় ওভারে কুপার কনোলিকে টানা তিনটি চার মারা সাইম পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ছক্কা ও চার হাঁকান ম্যাথু শর্টকে। পরের ওভারে অ্যাডাম জ্যাম্পাকে একটি করে ছক্কা মারেন তিনি ও বাবর।
কনোলিকে চার মেরে ৩০ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন সাইম। এরপর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। কুনেমানের বলে ম্যাট রেনশর চোখধাঁধানো ক্যাচে বিদায় নেন পাকিস্তান ওপেনার, ভাঙে ৬৯ রানের জুটি।
ঝড়ের আভাস দিয়ে ফিরে যান খাওয়াজা নাফে। দুই ছক্কা ও এক চারে ১২ বলে ২১ রান করেন তিনি। ক্রিজে গিয়ে তাণ্ডব চালান শাদাব। শর্টকে চার ও ছক্কার পর কনোলিকে টানা দুই ছক্কায় ওড়ান তিনি। ডোয়ার্শিসকে পরপর দুই ছক্কা মারার পরের বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন এই অলরাউন্ডার।
শেষ ওভারের চতুর্থ বলে সিঙ্গল নিয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন বাবর, ৩৬ বলে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ফিফটির (৩৯টি) রেকর্ডটি নিজের করে নেন তিনি। পেছনে ফেলেন ভারতীয় ব্যাটিং গ্রেট ভিরাট কোহলির ৩৮ ফিফটির কীর্তি।
লক্ষ্য তাড়ায় ইনিংসের চতুর্থ বলে অধিনায়ক মার্শকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। শাহিন শাহ আফ্রিদির দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন তিনি। পরের ওভারে শর্টকে বিদায় করে শিকার ধরা শুরু করেন নাওয়াজ।
আফ্রিদি নিজের পরের বলে রেনশর স্টাম্প ভেঙে দেন। ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে কিছুক্ষণ টানেন গ্রিন ও মার্কাস স্টয়নিস। দশম ওভারের প্রথম ও শেষ বলে স্টয়নিস ও গ্রিনকে বোল্ড করে দেন নাওয়াজ।
নিজের শেষ ওভারে তিন বলের মধ্যে জশ ফিলিপি ও কুপার কনোলিকে বিদায় করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন নাওয়াজ। পরের দুই ওভারে আরও দুই ব্যাটসম্যানকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। কুঁচকির সমস্যা ব্যাটিংয়ে নামেননি জ্যাম্পা।
তিন ম্যাচে ১২০ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতে নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২০৭/৬ (ফাখার ১০, সাইম ৫৬, সালমান ৫, বাবর ৫০*, নাফে ২১, শাদাব ৪৬, নাওয়াজ ৫, ফাহিম ১০*; কুনেমান ৪-০-২৭-১, শর্ট ৩-০-৩১-১, কনোলি ৪-০-৪৭-১, ডোয়ার্শিস ৪-০-৩৯-২, জ্যাম্পা ২-০-২০-০, গ্রিন ৩-০-৪৩-১)
অস্ট্রেলিয়া: ১৬.৫ ওভারে ৯৬ (মার্শ ১, শর্ট ২, গ্রিন ২২, রেনশ ১, স্টয়নিস ২৩, ফিলিপি ১৪, ওয়েন ৮, কনোলি ০, ডোয়ার্শিস ৭*, কুনেমান ৫, জ্যাম্পা আহত অনুপস্থিত; আফ্রিদি ৩-০-১৬-২, নাওয়াজ ৪-০-১৮-৫, আবরার ৩-০-১৮-১, নাসিম ২.৩-০-১৭-১, শাদাব ৩-০-১৪-০, ফাহিম ১-০-৬-০)
ফল: পাকিস্তান ১১১ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মাদ নাওয়াজ
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ৩-০তে জয়ী পাকিস্তান
ম্যান অব দা সিরিজ: সালমান আলি আগা