Published : 22 Apr 2026, 08:04 PM
বাংলাদেশের পাঁচ পেসারের সঙ্গে কথা বলছিলেন বোলিং কোচ শন টেইট। একটু পরে পেসারদের সেই সম্মেলনে যোগ দিলেন কোচ ফিল সিমন্স। শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার অনুশীলনের ফাঁকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলল তাদের আলোচনা। সেই বৈঠকের বিষয়বস্ত অনুমান করা কঠিন। তবে একাদশ চূড়ান্ত সভায় এই পেসারদের নিয়েই মাথা ঘামাতে হবে সিমন্স, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নির্বাচকদের। খেলবেন কোন তিনজন?
প্রথম দুই ম্যাচে একই পেস আক্রমণ নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। সেখানে ছিলেন না দলের সফলতম পেসারই। প্রথম ম্যাচে টসের ঠিক আগে হাঁটুর ব্যাথায় তিনি ছিটকে পড়েন। পরের ম্যাচেও তাকে দেখা যায়নি। এখন তিনি ফিট। কৌতূহল তাই স্বাভাবিকভাবেই জেগে উঠছে। মুস্তাফিজকে কি খেলানো হবে? সেটি হলে বাদ পড়বেন কে!
মুস্তাফিজের বদলে প্রথম ম্যাচে শেষ সময়ে একাদশে জায়গা করে নেন শরিফুল ইসলাম। সাধারণ হিসেবে তারই বাইরে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই দুই ম্যাচেই এতটা দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তিনি, বাঁহাতি এই পেসারকে এখন একাদশ থেকে বাইরে রাখা কঠিন।
বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টকে অবশ্য এই পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। পেস আক্রমণে প্রতিযোগিতা এত তীব্র যে, কাকে রেখে কাকে খেলাবেন, এই ঝামেলায় মধুর এই যন্ত্রণায় প্রায়ই পড়েন তারা। শেষ ম্যাচেও তাদেরকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মুস্তাফিজকে বাইরেই রাখা হতে পারে একটি সমাধান। তবে ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে তাকে রাখা হয়নি। চোট-টোট বাধা হয়ে না দাঁড়ালে তাকে শেষ ওয়ানডেতে তাই দেখতে পারার সম্ভাবনাই প্রবল।
আরেকটি সমাধান হতে পারে নাহিদ রানাকে বিশ্রাম দেওয়া। গতিময় বোলারের শারীরিক ধকল বিবেচনা করে টানা তিন ম্যাচে তাকে না খেলানোর ভাবনা থাকতেই পারে। বিশেষ করে, গরম যখন এত তীব্র। তাকে যত্ন নিয়ে সামলানোর ব্যাপার তো আছেই।
তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে রাখা হয়নি তাকেও। তাই বিশ্রামের সুযোগ তার থাকছে এই ম্যাচের পর। নাহিদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন যিনি, সেই বোলিং কোচ শন টেইট কোনো সমস্যাই দেখছেন না ২৩ বছর বয়সী ফাস্ট বোলারকে এই ম্যাচে খেলাতে।

“আমার মনে হয়, সে যেভাবে বোলিং করছে, তাতে সে ঠিকঠাক আছে। খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট। খেলার বিভিন্ন পর্যায় থাকে- টুর্নামেন্টের আগে, টুর্নামেন্টের পরে, যখন বিশ্রামের সময় থাকে, তখন কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া যায়। নাহিদ রানাকে নিয়ে যা জানি, তা হলো, সে দারুণ ফিট। খুবই ফিট।”
“সে খুব দ্রুতগতিতে বল করে বটে, কিন্তু সে অসাধারণ এক অ্যাথলেটও। আমার মনে হয়, সে এই মুহূর্তে যেভাবে বোলিং করছে, প্রতিপক্ষ দলগুলো তার মুখোমুখি হতে চাইবে না। তার বিপক্ষে খেলতে তারা ততটা আগ্রহী হবে না। নাহিদ রানা যদি দলের বাইরে থাকে, প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে তারা এতে খুশিই হবে!”
টেইটের কথায় স্পষ্ট আভাস, নাহিদ থাকছেনই একাদশে। সেক্ষেত্রে আরেকটি সমাধান হতে পারে তাসকিনকে বাইরে রাখা।
যদিও তিনি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতা ও দারুণ অভিজ্ঞ, তবে প্রথম দুই ম্যাচে একটু বিবর্ণ ছিলেন তিনি। তিনটি উইকেট যদিও নিয়েছেন, তবে নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না।
শেষ ম্যাচের স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে তানজিম হাসানকেও। তবে চোটের কারণে গত আড়াই মাসে কোনো ম্যাচ না খেলা পেসারকে হুট করে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নামানোর সম্ভাবনা সামান্যই।
তবে শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজের চোট নিয়ে কোনোরকম শঙ্কা থাকলে হয়তো তাকে আবারও বাইরেই রাখা হবে।
একাদশ যেমনই হোক, লক্ষ্য থাকবে ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় করা এবং র্যাঙ্কিংয়ে মহামূল্য কিছু রেটিং পয়েন্ট পাওয়া। বোলিং কোচ জানালেন, সেই প্রত্যাশার কথা খুব ভালো করে জানে দলও।
“আমার মনে হয়, সিরিজ জেতার চাপ সবসময়ই থাকে। সেই চাপটা যেরকমই হোক না কেন। এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেট এবং এখানে সিরিজ জেতাটাই প্রত্যাশিত। বিশেষ করে যখন গত ম্যাচটা জিতে একটা অবস্থানে এসেছি আমরা। আগামীকাল জেতার আশা রাখি। আমরা এভাবেই ভাবি।”
“ছেলেরা স্বচ্ছন্দে আছে। গতকাল আমরা এখানে এসেছি। আমার কাছে ওদেরকে স্বচ্ছন্দই মনে হচ্ছে। প্রতিটি জয় থেকে কিছুটা আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায় এবং আমার মনে হয়, শেষ ম্যাচটা জেতার প্রত্যাশাও আছে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।”