Published : 15 Apr 2026, 06:18 PM
শীর্ষ ক্রিকেটারদের প্রায় সবাই খেলছেন আইপিএল ও পিএসএলে। কিন্তু তার পরও নিউ জিল্যান্ডের জাতীয় দল ও ‘এ’ দল ভিন্ন ভিন্ন সফরে আছে আলাদা দুটি দেশে এবং কোনো দলই খুব দুর্বল নয়। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য চুক্তিতে চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের প্রায় অর্ধেকই ব্যস্ত বিভিন্ন সিরিজ-টুর্নামেন্টে। বাংলাদেশে আসা দলের কোচ রব ওয়াল্টার বললেন, নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের গভীরতা বাড়াতে এভাবেই পরিকল্পনা সাজিয়ে থাকেন তারা।
শীর্ষ ১৬-১৭ জন ক্রিকেটারকে ছাড়াই এবার বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউ জিল্যান্ড দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগের দিন বৃহস্পতিবার হাম্বানটোটায় শুরু হচ্ছে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সঙ্গে নিউ জিলান্ড ‘এ’ দলের আনঅফিসিয়াল টেস্ট সিরিজ। দুই ম্যাচের সেই সিরিজের আগে সেখানে একদিনের ম্যাচের সিরিজও খেলেছে কিউইরা। মূল ক্রিকেটারদের বড় অংশ তো খেলছেন ভারত ও পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে।
বাংলাদেশ সফরে আসা দলটিকে ‘বি’ দল বা ‘সি’ দল বলা হলেও তাদেরকে জাতীয় দলের মতোই সমীহ ও সম্মান করছেন বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স। বাংলাদেশে আসার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নিউ জিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার বললেন, অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বড় মঞ্চে সুযোগ দেওয়াটা তাদের পরিকল্পনারই অংশ।
“আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মানসম্মত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি করানোটা আমাদের জন্য সবসময়ই একটা বাড়তি প্রাপ্তি। এই বাংলাদেশ দলটা খুবই মানসম্মত। সম্প্রতি পাকিস্তানকে হারিয়ে তারা সেটা প্রমাণও করেছে। তাই আমাদের অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বিদেশের পরিবেশে মানসম্মত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি করাতে পারাটা আমাদের জন্য একটা বিরাট ইতিবাচক দিক।”
“অভিজ্ঞতা তো বাজারে পাওয়া যায় না, কঠিন পরিস্থিতিতে নেমেই সেটা অর্জন করতে হয় খেলতে হয়। তাই এই দলটিকে নিয়ে আমাদের সেই সুযোগটা আছে, ভালো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সেই পরিস্থিতিতে তাদের খেলা দেখার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা শিখতেই থাকব। আমাদের মূল চালিকাশক্তি হলো ক্রমাগত শেখা এবং ক্রিকেটার হিসেবে ও দল হিসেবে আরও ভালো হওয়া। আমরা সেটাই করে যাব।”
শ্রীলঙ্কায় সফরে ‘এ’ দলের একদিনের ম্যাচে থাকা কয়েকজন ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে দলে। ‘এ’ দল থেকে আরও বেশি সংখ্যক ক্রিকেটারকে কেন বাংলাদেশ সফরের দলে রাখা হলো না, সেটির কারণও ব্যাখ্যা করলেন ওয়াল্টার।
“আমরা চেষ্টা করি, যতটা সম্ভব সুযোগ কাজে লাগাতে। এই মুহূর্তে যেমন, আমাদের ৫৪ জন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলছে, সেটা আইপিএলে হোক বা পিএসএল, এখানে কিংবা শ্রীলঙ্কায়। এই সংখ্যাটি দেশে আমাদের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের প্রায় অর্ধেক। আমাদের জন্য এটা একটা বিশাল ইতিবাচক দিক।”
“বিপুল সংখ্যক ক্রিকেটারকে বিভিন্ন স্তরে আমরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দিচ্ছি, এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি যে, শুধু অল্প কিছু ক্রিকেটারকে নয়, বরং আমাদের পুরো সিস্টেমকেই শক্তিশালী করছি। আমরা বুঝি যে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক জগৎ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, কারণ অনেক ক্রিকেটার বিভিন্ন দিকে আকৃষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত আমাদেরই সেই বিষয়টির খেয়াল রাখতে হয় এবং নিশ্চিত করতে হয় যে, যার সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি না কেন, আমরা যেন প্রস্তুত থাকি।”
বাংলাদেশে আসার পর প্রথম অনুশীলন সেশনেই কন্ডিশনের ছোবল অনুভব করেছে কিউইরা। প্রচণ্ড গরমে ঘেমেনেয়ে একাকার ছিল গোটা দল। সিরিজের আগে মানিয়ে নেওয়ার সময়ও খুব বেশি নেই তাদের। তবে কন্ডিশন নিয়ে কোনো আপত্তিও নেই কোচের।
“এটা স্পষ্টতই ভিন্ন (কন্ডিশন), কিন্তু এখানে আসার আগেই আমরা এমনটা আশা করেছিলাম এবং আমাদের ধারণাও ছিল। অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগেই। প্রথম ম্যাচের আগে স্রেফ এক-দুই দিন হয়তো পুরোপুরি অভ্যস্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, কিন্তু যেমনটা আমি বললাম, আমরা প্রস্তুতির সময় থেকেই এ ব্যাপারে জানতাম।”