Published : 25 Apr 2026, 02:48 PM
রিশাদ হোসেন প্রসঙ্গ উঠতেই যেন চোখেমুখে একটা ঝিলিক খেলে গেল ইশ সোধির। যদিও প্রতিপক্ষ ক্রিকেটার, কিন্তু জাত তো একই। তরুণ সম্ভাবনায় একজন লেগ স্পিনারকে দেখে অভিজ্ঞ এক লেগ স্পিনারের যে রোমাঞ্চ, সেসবের সবটুকুই ফুটে উঠল সোধির কণ্ঠে। উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়ায় নিউ জিল্যান্ডের স্পিনার বললেন, বাংলাদেশের এই স্পিনারকে টেস্ট ক্রিকেটে দেখতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সোধির শুরুটাও টেস্ট ক্রিকেট দিয়েই। এই বাংলাদেশে, এই চট্টগ্রামেই তার টেস্ট অভিষেক ২০১৩ সালে। তবে টেস্ট ক্যারিয়ার থমকে আছে ২১ ম্যাচে। সময়ের সঙ্গে তিনি হয়ে উঠেছেন সীমিত ওভারের বিশেষজ্ঞ। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি (১৪০) ম্যাচ খেলার ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের (১৬২) রেকর্ড তার। এবারের বাংলাদেশ সফরেই শীর্ষে উঠতে পারেন টিম সাউদিকে (১৬২) ফিরিয়ে।
রিশাদের পরিচয়ও আপাতত টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞই। ভালো করতে শুরু করেছেন ওয়ানডেতেও। তবে টেস্ট ক্রিকেটের আঙিনা থেকে এখন বেশ দূরেই বলা যায় তাকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রেকর্ডও খুব সমৃদ্ধ হয় এখনও।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সংস্কৃতির কারণে অবশ্য প্রথম শ্রেণিতে ম্যাচ কমই খেলতে পারেন তিনি। অনেক সময় ম্যাচ খেললেও পর্যাপ্ত বোলিং পান না। সবশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচেও চার উইকেটে নিলেও বল করতে পেরেছিলেন স্রেফ ১০ ওভার।
সেই বাস্তবতার কথা তো জানেন না সোধি। তিনি দেখেছেন রিশাদের সম্ভাবনা। সামাজিক মাধ্যমে দুজনের কথা হয় মাঝেমধ্যে। এবার বাংলাদেশে এসে তার সঙ্গে কথা বলতে ও দেখা করতে মুখিয়ে আছেন। রিশাদের বোলিংও যে তিনি যথেষ্ট দেখেছেন, সে ফুটে উঠল তার কথায়। সেই প্রসঙ্গেই বললেন, টেস্টেও রিশাদ হতে পারেন দারুণ কার্যকর একজন।
“সে সত্যিই খুব ভালো খেলছে। সে যে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বিগ ব্যাশে এত ভালো বোলিং করতে পেরেছে, তাতেই বোঝা যায় সে একজন অত্যন্ত বৈচিত্রময় স্পিন বোলার। এশিয়ান লেগ স্পিনারদের সাধারণত দেখা যায়, তাদের বল প্রায়শই বেশ নিচু, স্কিডি এবং ফ্ল্যাট হয়। কিন্তু সে বেশ প্রথাগত, মানে ওপর দিয়ে বল করে এবং অনেক বাউন্স পায়। সম্ভবত এই অঞ্চলে (এশিয়ায়) এমন বোলার অনেকদিন দেখা যায়নি।”
“সে দারুণ সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার, বলে অনেক ঘূর্ণন তৈরি করতে পারে। মাঝেমধ্যে তাকে ইনস্টাগ্রামে বার্তা পাঠাই। তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকাটা বেশ দারুণ ব্যাপার। আমার মনে হয়, তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল এবং আশা করি সে টেস্ট ক্রিকেটেও সুযোগ পাবে। টেস্ট ক্রিকেটে আবার লেগ স্পিনার খেলতে দেখাটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার হবে, আজকাল বেশ বিরল, যা তাই না? সেই স্কিল তার অবশ্যই আছে।”
রিশাদের সঙ্গে ক্রিকেটের বাইরেও নানা কথা হয় সোধির। ২৩ বছর বয়সী এই স্পিনার সময়ের সঙ্গে আরও সমৃদ্ধ হবেন বলেই মনে করেন ৩৩ বছর বয়সী লেগ স্পিনার।
“রিশাদের সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে। যে শুধু ক্রিকেট নিয়েই কথা হয়েছে, তা নয়। মাঝেমধ্যেই তার সঙ্গে কথা বলি। এই সিরিজ চলাকালীন সম্ভবত দেখা হবে এবং সে কেমন খেলছে, এই পরিস্থিতিতে কোনটা তার জন্য ভালো কাজ করছে, ইত্যাদি বিষয়ে একটা ধারণা নেব। সে খুবই প্রতিভাবান বোলার এবং আমার বিশ্বাস সে দিন দিন আরও ভালো হতে থাকবে। আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি উভয় পর্যায়েই তার শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে এবং আমার মনে হয়, দিন দিন আরও ভালো হতেই থাকবে।”