অসাধারণ দৃঢ়তায় ভারতকে ঠেকিয়ে দিলেন রবীন্দ্র

প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ছিলেন ব্যর্থ। বল হাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে ধরা দেয়নি কোনো উইকেট। কে জানত, রাচিন রবীন্দ্রের জন্য অপেক্ষা করছে অভিষেক রাঙানোর আরও বড় উপলক্ষ! শেষ ইনিংসে কঠিন সময়ে ধৈর্যের পরীক্ষায় জিতে নিউ জিল্যান্ডকে নিশ্চিত হার থেকে বাঁচালেন তিনি, এনে দিলেন জয়ের সমতুল্য ড্র।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Nov 2021, 11:15 AM
Updated : 29 Nov 2021, 01:00 PM

শেষ উইকেট জুটিতে এজাজ প্যাটেলকে নিয়ে রবীন্দ্র ঠেকিয়ে দিলেন ভারতের নিশ্চিত জয়। তাদের দৃঢ়তায় শেষ সেশনের নাটকীয়তায় ড্র হয়েছে কানপুর টেস্ট। জয়ের পথে থাকা ভারত ফিরেছে একরাশ হতাশা নিয়ে।

র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দুই দলের ম্যাচের শেষ দিন শুরু হয় জমজমাট লড়াইয়ের সম্ভাবনায়। ম্যাচটি জিততে ভারতের মাটিতে রেকর্ড গড়তে হতো এক নম্বর নিউ জিল্যান্ডকে। ২৮৪ রানের লক্ষ্যে পঞ্চম ও শেষ দিনে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ২৮০ রান। ভারতের দরকার ছিল ৯ উইকেট।

টম ল্যাথাম ও নাইটওয়াচম্যান উইলিয়াম সমারভিল সাবধানী ব্যাটিংয়ে প্রথম সেশন কাটিয়ে দেন। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানরা করেন হতাশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউ জিল্যান্ড। হুট করে আসা ব্যাটিং ধসে বদলে যায় চিত্র; ৭৬ রানের মধ্যে ৮ উইকেট হারায় তারা।

ম্যাচ বাঁচাতেই তখন তাদের হিমশিম খাওয়ার অবস্থা।

খাদের কিনারা থেকে নিউ জিল্যান্ডকে ড্রয়ের স্বস্তি এনে দেন রবীন্দ্র ও এজাজ। শেষ উইকেটে তারা কাটিয়ে দেন ৮.৪ ওভার। ৯১ বল খেলে ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন রবীন্দ্র। আর এজাজ ২৩ বল মোকাবেলা করে সঙ্গ দেন তাকে। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউ জিল্যান্ডের রান ৯ উইকেটে ১৬৫।

১ উইকেটে ৪ রান নিয়ে সোমবার খেলতে নামা নিউ জিল্যান্ডকে দারুণ শুরু এনে দেন ল্যাথাম ও সমারভিল। কিন্তু লাঞ্চ বিরতির পর প্রথম বলেই ভাঙে তাদের ১৯৪ বল স্থায়ী ৭৬ রানের জুটি। উমেশ যাদবকে হুক শট খেলে ক্যাচ তুলে দেন সমারভিল (১১০ বলে ৩৬)।

এরপর ল্যাথাম ও কেন উইলিয়ামসন চালিয়ে যান লড়াই। ১২৮ বলে ফিফটি তুলে নেন ল্যাথাম। ৫২ রান করা নিউ জিল্যান্ড ওপেনারকে বোল্ড করে রবিচন্দ্রন অশ্বিন টেস্টে ভারতের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় জায়গা করে নেন তৃতীয় স্থানে। এই অফ স্পিনার ছাড়িয়ে যান ৪১৭ উইকেট নেওয়া হরভজন সিংকে।

দলকে বিপদে ফেলে অভিজ্ঞ রস টেইলর এলবিডব্লিউ হয়ে যান রবীন্দ্র জাদেজার বলে। চা বিরতির পর উইলিয়ামসনকেও ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি এই স্পিনার এলবিডব্লিউ করে। মাঝে হেনরি নিকোলসকে দ্রুত ফেরান আকসার প্যাটেল।

রবীন্দ্র খেলতে থাকেন দেখেশুনে। মনোযোগ দেন উইকেট ধরে রাখায়। তবে বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মাঝে।

অশ্বিনের বলে কিপার-ব্যাটসম্যান টম ব্লান্ডেল হয়ে যান বোল্ড। কাইল জেমিসন ও টিম সাউদিকে এলবিডব্লিউ করে দেন জাদেজা। ভারতের জয় তখন এক উইকেট দূরে।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানো দলটি শেষ পর্যন্ত নিতে পারেনি কাঙ্ক্ষিত সেই উইকেট। রবীন্দ্র ও এজাজের প্রতিরোধ টিকে যায় শেষ পর্যন্ত। নিউ জিল্যান্ডকে এনে দিল মহামূল্যবান ড্র।

অভিষেক টেস্টে ভারতের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি ও ফিফটির রেকর্ড গড়া শ্রেয়াস আইয়ার জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। টেস্ট ক্যারিয়ারে পা দিয়েই ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি পাওয়া ভারতের সপ্তম ক্রিকেটার তিনি।

এই নিয়ে টানা ১০ টেস্টে অপরাজিত রইলো নিউ জিল্যান্ড, তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ।

ড্র দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র শুরু করল এই প্রতিযোগিতার গত আসরের শিরোপাজয়ী নিউ জিল্যান্ড। গতবারের রানার্সআপ ভারত শুরু করেছে আগেই। আগামী শুক্রবার শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত ১ম ইনিংস: ৩৪৫

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৯৬

ভারত ২য় ইনিংস: ২৩৪/৭ ডিক্লে:

নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৮৪) (আগের দিন ৪/১) ৯৮ ওভারে ১৬৫/৯ (ল্যাথাম ৫২, সমারভিল ৩৬, সমারভিল ২৪, টেইলর ২, নিকোলস ১, ব্লান্ডেল ২, রাচিন ১৮*, জেমিসন ৫, সাউদি ৪, এজাজ ২*; অশ্বিন ৩০-১২-৩৫-৩, আকসার ২১-১২-২৩-১, উমেশ ১২-২-৩৪-১, ইশান্ত ৭-১-২০-০, জাদেজা ২৮-১০-৪০-৪)

ফল: ম্যাচ ড্র

ম্যান অব দা ম্যাচ: শ্রেয়াস আইয়ার

সিরিজ: দুই টেস্টের সিরিজ প্রথম ম্যাচ শেষে সমতায়

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক