পুরনো বিতর্কিত টুইটের জন্য ক্ষমা চাইলেন ইংলিশ পেসার

টেস্ট আঙিনায় পা রাখার দিনে দলের সফলতম বোলার, অনেকটা স্বপ্নের ঘোরেই ছিলেন অলিভার রবিনসন। কিন্তু দিনের খেলা শেষ হওয়ার পরপরই এই ইংলিশ পেসারকে নাড়িয়ে দিল দুঃস্বপ্নের হানা। টুইটারে তার ৮-৯ বছর আগের বর্ণবাদী ও ‘সেক্সিস্ট’ সব মন্তব্য প্রকাশ্য হয়ে ঝড় তুলেছে বিতর্কের! পরে বিবৃতি দিয়ে পুরনো সেই সব টুইটের জন্য ক্ষমা চাইলেন ২৭ বছর বয়সী এই পেসার।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 June 2021, 04:42 AM
Updated : 3 June 2021, 06:37 AM

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে বুধবার টেস্ট ক্যাপ পান রবিনসন। দলকে প্রথম উইকেটও এনে দেন তিনিই। অভিষেকের দিনে শিকার করেন দুই উইকেট।

তিনি যখন মাঠে বোলিং ঝলক দেখাচ্ছেন, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উত্তাল তার পুরনো টুইট নিয়ে। ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত তার সেসব টুইটে ছিল সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মুসলিমদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত, এশিয়ান বংশোদ্ভূত ও নারীদের প্রতি ছিল অবমাননাকর মন্তব্য।

রবিনসনের বয়স তখন ছিল ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। সেই সময়টায় তিনি খেলছিলেন লেস্টারশায়ার, কেন্ট ও ইয়র্কশায়ারের দ্বিতীয় দলের হয়ে।

এমন এক দিনে রবিনসনের এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ল, যেদিন খেলা শুরুর আগে দুই দলই লিঙ্গবৈষম্যসহ ক্রিকেটে সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানায়। ইংল্যান্ড দল একটি ট্রেনিং জার্সি উন্মোচিত করে, যেখানে লেখা আছে বর্ণবাদ, লিঙ্গবৈষম্য বিরোধী নানা স্লোগান।

দিনের খেলা চলার সময় বিতর্ক নিয়ে রবিনসনকে কিছু জানায়নি ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট। খেলা শেষে তাকে জানানো হয়। পরে লিখিত ও ভিডিও বিবৃতিতে তিনি ক্ষমা চান।

“এখনও পর্যন্ত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় দিনটিতে আমি বিব্রত আট বছর আগের বর্ণবাদী ও সেক্সিস্ট টুইটের জন্য, যা আজকে প্রকাশ্য হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি এটা স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, আমি বর্ণবাদী ও সেক্সিস্ট নই।”

“নিজের কাজের জন্য আমি ভীষণভাবে অনুতপ্ত ও এমন মন্তব্যের জন্য লজ্জিত। আমার সতীর্থরা ও সামগ্রিক ক্রিকেট খেলাটায় যারা আমার মন্তব্যে আহত হয়েছেন, বিশেষ করে এমন এক দিনে যেদিন আমরা খেলাটায় বৈষ্যম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি ও সচেতনতা তৈরি করছি, তাদের সবার কাছে আমি অকপটে ক্ষমা চাইছি।”

রবিনসনের বিতর্কিত সেসব টুইটের কয়েকটি।

রবিনসনের টুইট বিতর্কে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকেও (ইসিবি)। বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় দলের আশেপাশে ছিলেন রবিনসন, ‘এ’ দলের হয়ে খেলছিলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলন করছিলেন। কিন্তু বোর্ডের কেউ তার এসব পুরনো মন্তব্য খেয়াল করেনি কেন, এমন প্রশ্ন উঠছে।

রবিনসনের পুরনো কাউন্টি ইয়র্কশায়ারের দিকেও আঙুল উঠছে। এই ক্লাবে বর্ণবাদী আচরণ হয়ে আসছে বলে এমনিতেই তদন্ত চলছে তাদের বিরুদ্ধে।

বিবৃতির পরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রবিনসন বলেন, ইয়র্কশায়ারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ার পর ওই সময় তিনি মানসিক অস্থিরতায় ছিলেন। যদিও এটিকে তিনি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন না।

“আজকের দিনটিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল আমার অভিষেক ও মাঠের ক্রিকেট নিয়ে। কিন্তু আমার অতীতের হঠকারী মন্তব্য সেটিকে বিবর্ণ করে তুলেছে।”

“আমি অবিবেচক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিলাম এবং তখন আমার মানসিক অবস্থা যেমনই থাকুক, তা কোনো অজুহাত হতে পারে না। তবে ওই সময়ের পর আমি মানুষ হিসেবে পরিণত হয়েছি ও ওই টুইটগুলোর জন্য পুরোপুরি দুঃখপ্রকাশ করি। গত কয়েক বছরে জীবনকে নতুনভাবে গড়তে কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং যথেষ্ট পরিণত হয়েছি বলে মনে করি।”

অনেক বছর আগের মন্তব্য হলেও হয়তো ক্ষমা চেয়ে পার পাচ্ছেন না রবিনসন। ইসিবির প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন জানান, এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তারা ডিসিপ্লিনারি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পূর্ণ তদন্ত পরিচালনা করবেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক