জয়াবর্ধনের ছোঁয়ায় শাণিত আরিফুল

ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন কক্ষের দিকে আসছিলেন আরিফুল হক। মাঠের এক পাশে তখন নক করছিলেন সাকিব আল হাসান। এগিয়ে গিয়ে হাত মেলালেন আরিফুলের সঙ্গে, চাপড়ে দিলেন পিঠ। একটু আগে আরিফুলের ব্যাটিং তাণ্ডব মাঠের বাইরে থেকে দেখেছেন সাকিব। ম্যাচ জেতানো ইনিংসটি দেখে তিনি অভিভূত।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Nov 2017, 12:48 PM
Updated : 21 Nov 2017, 12:48 PM

শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৬।উইকেট বাকি দুটি। রাজশাহী কিংসের জয়কে মনে হচ্ছিল কেবলই সময়ের ব্যাপার। কিন্তু পরেরসময়টুকু রাজশাহীকে উপহার দিল দুঃস্বপ্ন। অসাধারণ ব্যাটিংয়ে জেতালেন খুলনা টাইটানসকে।৪টি চার ও ২ ছক্কায় ১৯ বলে অপরাজিত ৪৩!

সেই জয়ও চার বল বাকি থাকতে।শেষ ৩ ওভারের ওই ১৪ বলে ৩৭ রান তুলে জিতেছে খুলনা। তার মধ্যে একটি বল খেলে জুনাইদ খানরান নেননি, একটি ছিল ওয়াইড। বাকি ১৩ বলে ৩৬ রান একাই করেছেন আরিফুল!

৩ ওভার বাকি থাকতে রাজশাহীকিংস যখন অপেক্ষায় জয়ের, আরিফুল তখন মনে কষছিলেন অন্য হিসাব। ম্যাচ শেষে জানালেন, পথটাপাড়ি দেওয়ার বিশ্বাস তার ঠিকই ছিল।

“আমার বিশ্বাস ছিল যে, আমিশেষ পর্যন্ত টানতে পারলে আমরা জিতব। আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। একটা ব্যাপার ছিল, ফিল্ডারযখন অনেক বাইরে থাকে, মিস হিট হলেও দুই রান হওয়ার সুযোগ থাকে। আমার লক্ষ্য সেটিই ছিল,হয় ছক্কা মারব, অথবা দুই নেব…।”

৩ ওভারে যখন প্রয়োজন ৩৬, হোসেনআলির এক ওভারে ১৮ রান নিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আরিফুল। মনে মনে জয়ের যে ছক আঁকছিলেনআরিফুল, সেটার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল অনভিজ্ঞ এই পেসারের ওভারকে যতটা পারা যায় কাজেলাগানো।

“হোসেন আলির ওভারটিই টার্গেটকরেছিলাম, কারণ এরপর বিদেশি বোলাররা আসবে। হোসেন চেষ্টা করছিল ব্লকে বল করার। আমারলক্ষ্য ছিল মারব। হয়ত বড় শট খেলব, নয়ত দুই নেব। এটায় সফল হয়ে গেছি।”

ঘরোয়া ক্রিকেটে বরাবরই এরকমশট খেলার জন্য পরিচিত আরিফুল। তবে সমস্যা ছিল ধারাবাহিকতায়। একটি-দুটি নজরকাড়া ইনিংসখেলেই ঘুমিয়ে যেত তার ব্যাট। এবার বিপিএলের প্রথম ভাগে রেখেছেন ধারাবাহিকতার প্রমাণ।আগের ম্যাচটিতেই ২৫ বলে ৩৪ করেছিলেন ৩ ছক্কায়। এর আগে আরেক ম্যাচে ২৫ বলে ৪০ করেছিলেনচার ছক্কায়।

এবার এই ধারাবাহিকতার রহস্যতার ব্যাটিংয়ের একটি খুঁত ঠিক করে ফেলা। সেটি চিহ্নিত করে সারিয়েও দিয়েছেন খুলনার কোচমাহেলা জয়াবর্ধনে। লঙ্কান কিংবদন্তির পরামর্শ আরিফুলকে করেছেন শাণিত।

“আগে আমার ব্যালান্সে সমস্যাছিল হয়ত। এবার মাহেলা আমার ব্যালান্স নিয়ে কাজ করেছেন। আমার ‘বডি ওয়েট’ পেছনে যেত মারারসময়। এবার সেটি নিয়ে কাজ করেছেন মাহেলা। সেটায় উপকার হয়েছে।”

কোচ তার ব্যাটিং নিয়ে কাজকরেছেন, আর তাকে মানসিক সমর্থন দিয়ে অফুরন্ত বিশ্বাস জুগিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

“রিয়াদ ভাই অনেক সমর্থন দিচ্ছেন।বলেছেন যে শেষ মৌসুমে অনেক ম্যাচে শেষ করে এসেছিস। অপরাজিত ছিলি বেশি, এবারও চিন্তাকরবি অপরাজিত থাকার। অধিনায়কের কথা আমাকে সাহায্য করছে।”

এবার বিপিএলের আগে জাতীয় লিগেরসবশেষ ম্যাচে অপরাজিত সেঞ্চুরি করেছেন। হোক অন্য সংস্করণ, তবু আত্মবিশ্বাসী ছিলেন রানেরমধ্যে থাকায়।

“জাতীয় লিগ আর এটা আলাদা খেলা।কিন্তু আসলে পার্থক্য তেমন কিছু না। রান টানা করতে থাকলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।”

ঘরোয়া ক্রিকেটে এমনিতে তিনিঅলরাউন্ডার। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নতুন বলেও বোলিং করেন নিয়মিতই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেসেঞ্চুরি ৪টি, উইকেটে ৭৯টি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করেছেন দুটি, উইকেট আছে ৪৭টি।

এক মৌসুম আগে ঢাকা প্রিমিয়ারলিগে মোহামেডানের হয়ে আবাহনীর বিপক্ষে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করেছিলেন। গত প্রিমিয়ারলিগেই আবার খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। আট-নয় নম্বরে নামানোয় ব্যাটিংয়ের সুযোগও অবশ্যখুব একটা পাননি।

গত কয়েক মৌসুমে বিভিন্ন সংস্করণেএরকম টুকরো টুকরো পারফর‌ম্যান্স ছিল। এবার বিপিএলে একটু ধারাবাহিক এখনও পর্যন্ত। ধারাবাহিকতাবজায় থাকলে তার অপেক্ষায় হয়ত বড় পুরস্কার। কে জানে, হয়ত খুলে যাবে জাতীয় দলের দুয়ার।রঙিন পোশাকে ছয়-সাত নম্বরে এমন একজন ‘হিটার’ যে অনেক দিন ধরেই খুঁজছে বাংলাদেশ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক