Published : 24 Jan 2026, 09:09 AM
শিরোপা লড়াইয়ে দল হেরে গেছে। ফাইনাল শেষে শরিফুল ইসলামের মুখে হাসি থাকলেও তাতে নেই প্রাণের ছোঁয়া। তার অর্জন অবশ্য স্বাক্ষ্য দিচ্ছে তার শ্রেষ্ঠত্বের। আসরজুড়ে দুর্দান্ত বোলিং করে, রেকর্ডের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে, আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বাঁহাতি এই পেসারই।
বিপিএলের দ্বাদশ আসরের ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে লড়াই জমাতে পারেনি শরিফুলের দল চট্টগ্রাম রয়্যালস। হেরে গেছে তারা ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। তবে এই ম্যাচেই একটি রেকর্ড গড়েছেন শরিফুল। তাসকিন আহমেদকে ছাড়িয়ে বিপিএলের এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেটের কীর্তি এখন তার।
আসরজুড়ে সেরা শিকারিদের তালিকায় না থাকলেও শেষ দুই ম্যাচে অসাধারণ বোলিংয়ে আট উইকেট নিয়ে ওপরের দিকে উঠে এসেছেন রাজশাহীর শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো।
আসরে উইকেট শিকারির তালিকায় সেরা পাঁচে আছেন আরও আছেন নাসুম আহমেদ, রিপন মন্ডল ও হাসান মাহমুদ।
শরিফুল ইসলাম- ১২ ইনিংসে ২৬ উইকেট
ফাইনালে দুটিসহ ১২ ইনিংসে ওভারপ্রতি কেবল ৫.৮৪ করে রান দিয়ে ২৬ উইকেট শিকার করেছেন শরিফুল। গত আসরে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নেওয়া তাসকিনের রেকর্ড অতীত হয়ে গেছে।
এবার একটি ম্যাচে কোনো উইকেট পাননি শরিফুল। বাকি সব ম্যাচে উদযাপনের উপলক্ষ পেয়েছেন তিনি।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ২ উইকেট নিয়ে তিনি শুরু করেন আসর। প্রথম পাঁচ ম্যাচে তার উইকেট ছিল ৮টি।
ষষ্ঠ ম্যাচে আগুনে বোলিংয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের স্বাদ পান তিনি। নোয়াখালীর বিপক্ষে ৫ উইকেট নিতে তিনি দেন কেবল ৯ রান। শেষ দুই ওভারে স্রেফ ১ রানে নেন ৪টি উইকেট।
বিপিএলে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রানে ৫ উইকেট নেওয়ার নজির এটি।
প্রথম ৬ ম্যাচে ১৩ উইকেট নেওয়া শরিফুল পরের ৬ ম্যাচেও নেন সমান ১৩ উইকেট।
নাসুম আহমেদ- ১২ ইনিংসে ১৮ উইকেট
এবার শরিফুল ছাড়া ২০টির বেশি উইকেট পাননি আর কোনো বোলার। ১২ ইনিংসে ১৮ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে তালিকার দুই নম্বরে নাসুম। ৩১ বছর বয়সী বাঁহাতি এই স্পিনার ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৫.৯৭ করে।
আসরে অন্তত ১০ উইকেট পেয়েছেন এমন বোলারদের মধ্যে ইকোনমি রেট ছয়ের নিচে রাখতে পেরেছেন কেবল শরিফুল ও নাসুম।
নাসুমের জন্য আসরের শুরুটা ভালো ছিল না। উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি প্রথম দুই ম্যাচে। একটিতে ৪ ওভারে দিয়েছিলেন ৩৩ রান, অন্যটিতে ২৮।
তৃতীয় ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে ২৬ রানে ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। রংপুরের বিপক্ষে একটি উইকেট পেলেও, উইকেটশূন্য থাকেন তিনি চট্টগ্রামের বিপক্ষে।
প্রথম পাঁচ ম্যাচে যেখানে তার উইকেট ছিল স্রেফ ৩টি, সেখানে ষষ্ঠ ম্যাচেই নেন পাঁচটি। নোয়াখালীকে ৬১ রানে গুটিয়ে চার ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৪৭তম ম্যাচে এসে পান প্রথম পাঁচ উইকেটের স্বাদ।
মাঝে একটিতে উইকেটশূন্য থাকার পর, শেষ পাঁচ ম্যাচে নাসুম নেন ১০ উইকেট।
বিনুরা ফার্নান্দো- ১১ ইনিংসে ১৮ উইকেট
রাজশাহীর শিরোপা জয়ে বল হাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন বিনুরা। বিশেষ করে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ও ফাইনালে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি পেসার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেটের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হন ম্যান অব দা ম্যাচ। ফাইনালে নিজের সেরা বোলিংয়ের গল্প লিখেন তিনি নতুন করে। এবার তিন ওভারে স্রেফ ৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি।
দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ফাইনালের সেরা যদিও তানজিদ হাসান, তবে পুরস্কারটি বিনুরা পেলেও বিস্ময়ের কিছু হয়তো থাকত না।
আসরে প্রথম ৯ ম্যাচে তার উইকেট ছিল ১০টি, শেষ দুই ম্যাচেই সেখানে উইকেট ৮টি।
১১ ইনিংসে ওভারপ্রতি ৬.১৪ করে রান দিয়ে দলের সর্বোচ্চ ও যৌথভাবে আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট নিয়েছেন বিনুরা।
রিপন মন্ডল- ৮ ইনিংসে ১৭ উইকেট
গত নভেম্বরে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে দারুণ বোলিং করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন রিপন। ১১ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। বিপিএল শুরুর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে নেমে ম্যাচে উইকেট নেন তিনি পাঁচটি।
সেই ফর্ম তিনি বয়ে আনেন বিপিএলের মঞ্চেও। যদিও রাজশাহীর প্রথম দুই ম্যাচে তিনি সুযোগ পাননি একাদশে। প্রথম সুযোগ পেয়েই নোয়াখালী বিপক্ষে ৪ উইকেট নেন মাত্র ১৩ রান দিয়ে, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। এই পারফরম্যান্স তাকে এনে দেয় ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি।
পরের ম্যাচে সুপার ওভারে দলকে জিতিয়ে আবার তিনি ‘ম্যান অব দা ম্যাচ।’ জয়ের জন্য মূল ম্যাচের শেষ ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ছিল ৭ রান। রিপনের দারুণ বোলিংয়ে তারা নিতে পারে কেবল ৬। পরে সুপার ওভারে রিপনের দুটি ওয়াইডের পরও রংপুর করতে পারে শুধু ৬ রান।
সেদিন মূল ম্যাচে ২ উইকেট নেওয়া রিপন পরের ম্যাচেও শিকার ধরেন দুটি, পরের দুই ম্যাচে একটি করে।
ঢাকার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন তিনি ইনিংসের শেষ তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে।
পরের ম্যাচে সিলেটের বিপক্ষে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আসরের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন বার ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হওয়ার নজির গড়েন রিপন।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে খরুচে বোলিংয়ে উইকেটশূন্য থাকা রিপন সুযোগ পাননি ফাইনালে। তারপরও ৮ ইনিংসে ১৭ উইকেট নিয়ে আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৮.৫৩ করে।
এই পারফরম্যান্স তাকে এনে দিয়েছে ‘ইমার্জিং প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট’ স্বীকৃতি।
হাসান মাহমুদ- ১০ ইনিংসে ১৬ উইকেট
হাসানের দল বিপিএলের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের আসরটা কাটে ভীষণ বাজে। হেরে যায় তারা প্রথম ছয় ম্যাচেই। ১০ ম্যাচের মাত্র দুটিতে জিতে পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে থেকে বিদায় নেয় তারা।
দল ভালো করতে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আলো ছড়ান হাসান। ১০ ইনিংসে ১৬ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে আসরের চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। তার সমান ১০ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়েছেন রংপুরের মুস্তাফিজুর রহমানও।
হাসানের সেরা বোলিং এবার রংপুরে বিপক্ষে ২৬ রানে ৪ উইকেট।