Published : 04 Dec 2025, 08:57 AM
ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম ডেলিভারিটি করেছেন যিনি, সেই শন টেইট বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করছেন ছয় মাস ধরে। কোচিংয়ের ক্ষেত্রে তার মূল দর্শন ‘সম্পর্ক গড়া।’ সেই কাজটি এখানে ভালোভাবে করতে পারছেন বলেই জানালেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ফাস্ট বোলার। মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, পেসারদের অনেকের কথাই বললেন তিনি মন খুলে। এদেশের পেসারদের নিয়ে ২০০৭ বিশ্বকাপজয়ী এই ক্রিকেটারের মূল লক্ষ্য, বিশ্ব আসরের জন্য জয়ী মানসিকতা গড়ে তোলা। এখানকার স্পিন-কেন্দ্রীক মানসিকতাও বদলাতে চান তিনি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ৪২ বছর বয়সী সাবেক পেসার ফিরে তাকালেন তার ক্যারিয়ারে। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, শোয়েব আখতার-ব্রেট লির সঙ্গে গতির লড়াইসহ কথা বললেন অনেক কিছু নিয়েই। আর হ্যাঁ, অ্যাশেজ যখন চলছে, শুরুটা তো অ্যাশেজ নিয়েই হতে হতো!
পার্থ টেস্ট দেখার সুযোগ হয়েছিল? বাংলাদেশের টেস্ট চলছিল যদিও…
শন টেইট: একটু-আধটু দেখেছি। বাংলাদেশের খেলা চলছিল। মাঠেই ছিলাম বেশির ভাগ সময়। পরে হাইলাইটস দেখেছি।
ট্রাভিস হেডের ইনিংসটি তো তাহলে দেখতে পারেননি! আমাদের প্রেসবক্সে তো একটি টিভিতে অ্যাশেজ চলছিল…
টেইট: হ্যাঁ, মিস হয়ে গেছে। সামান্য একটু দেখেছি। হাইলাইটস দেখেছি, তবে সরাসরি দেখার ব্যাপারটি তো অন্যরকম।
তাকে অবশ্য অনেকবারই ব্যাট করতে দেখেছি। জানি সে কীভাবে ব্যাট করে, এরকম ইনিংস খেললে কেমন শট সে খেলতে পারে। অবশ্যই খুব ভালো পারফরম্যান্স ছিল। তাকে ওপরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দারুণ ছিল। যদিও পরিস্থিতির কারণে হয়েছে, তবে অন্য কাউকে না পাঠিয়ে তাকে পাঠানো ছিল ট্যাকটিক্যালি দুর্দান্ত। খুবই বিনোদনদায়ী ইনিংস ছিল, সে ভালো খেললে সাধারণত যেমনটি দেখা যায়।
পার্থের ওই উইকেটে শন টেইট বোলিং করলে কেমন করত?
টেইট: জানি না, সম্ভবত খুব একটা ভালো নয়!
কেন? বাউন্স-মুভমেন্ট-ক্যারি, সব ছিল উইকেটে!
টেইট: হ্যাঁ, তা ছিল। তবে যারা খেলেছে ওখানে, সবাই অনেক স্কিলফুল পেসার। ওদের বোলিং হাইলাইটস দেখতেই আমার ভালো লেগেছে। আমার ক্যারিয়ার শেষ, এখন আর ওসব ভেবে লাভ নেই। দুই দলেই দারুণ কিছু ফাস্ট বোলার খেলেছে, যারা যে কোনো উইকেটে ভালো করতে পারে। খুবই প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য ফাস্ট বোলিং দেখেছি।
অ্যাশেজের ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য তো অস্ট্রেলিয়ানরা বিখ্যাত। গ্লেন ম্যাকগ্রা তো প্রতিবারই বলে থাকেন অস্ট্রেলিয়ার ৫-০ ব্যবধানে জিতবে। আরও অনেকেই নানারকম পূর্বানুমান করেন। আপনার প্রেডিকশন কি?
টেইট: জানি না…আমি আসলে এরকম অনুমান খুব একটা করি না। সত্যি বলতে, কিছু বলতে হলে আমাকে বানিয়ে বলতে হবে। তবে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে গেছে মানে, তাদেরকে হারানো এখন খুবই কঠিন হবে। তবে ইংল্যান্ডের দলটাও ভালো। তারা সহজে ছাড় দেবে না। দিনশেষে যদিও অ্যাশেজ জিতবে অস্ট্রেলিয়াই। তবে স্কোরলাইন কেমন হবে, তা জানি না।
অনেকেই তো বলাবলি করছিল, ২০১০-১১ অ্যাশেজের পর সবচেয়ে বাজে অস্ট্রেলিয়া দল এটি, আর ওই অ্যাশেজের পর অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া সবচেয়ে ভালো ইংল্যান্ড দল এবারেরটি। রিকি পন্টিং যদিও এটা শুনে বলেছেন, ‘স্টিল ইউ হ্যাভ টু বিট অস্ট্রেলিয়া ইন অস্ট্রেলিয়া…!’
টেইট: একদম! দল যেমনই হোক, অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হবে আপনার!
দেখুন, সেরা দল বা বাজে দল, লোকে মিডিয়ায় এসব বলে আলোচনা জমানোর জন্য, প্রভাবের জন্য। সত্যিটা আপনিও জানেন, আমিও জানি। বড় বড় কথা বলা বা এসব হলো আসলে মাইন্ড গেম আর আলোচনায় থাকার জন্য। বাস্তবে এসবের মূল্য নেই।
রিকি পন্টিং যথার্থই বলেছেন, দিনশেষে… ভারতে গিয়ে ভারতকে হারানো কঠিন। ইংল্যান্ডে গিয়ে ইংল্যান্ডকে হারানো কঠিন। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো কত কঠিন, গোটা ক্রিকেট বিশ্ব জানে। প্রথম টেস্টেই তো দেখলেন। এই দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, আরেক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার জশ হেইজেলউড ছিল না। কেউ কি সেই ঘাটতি বুঝতে পেরেছে?
ইংল্যান্ড পরের টেস্ট জিতলে লড়াই জমে যাবে। তবে গোলাপি বলের টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো আরও কঠিন। শিগগিরই সবাই উত্তর পেয়ে যাবে, কোন দল কেমন।
আপনার অ্যাশেজ স্মৃতির কোনটি মনে পড়ে? মাত্র তিনটি টেস্ট খেলেছেন, দুটিই অ্যাশেজে। সেই মহাবিখ্যাত ২০০৫ অ্যাশেজে…
টেইট: অনেক বছর আগের ঘটনা… ২০ বছর হয়ে গেছে। খুব বেশি মনে নেই। ওই অ্যাশেজ ঘিরে হাইপ ছিল অন্যরকম, বিশাল ইভেন্ট ছিল। তবে আমার জন্য সবই অনেকটা অস্পষ্ট হয়ে গেছে। বয়স একদমই কম ছিল, সম্ভবত ২২, অভিজ্ঞতা ছিল না। এরকম একটি সিরিজের অংশ হতে পারা দারুণ। তবে আমরা হেরে গেছি সিরিজ, তাই সুখস্মৃতি নেই।
সিরিজজুড়ে দারুণ সব অভিজ্ঞতা অবশ্য হয়েছে। ওই বছর অস্ট্রেলিয়া দলের অংশ হওয়া, অ্যাশেজে খেলা, এসব বিরাট ব্যাপার ছিল আমার ও আমার পরিবারের জন্য। কিন্তু অনেক বছর পর সেবার আমরা অ্যাশেজ হাতছাড়া করি, মনে রাখার মতো কিছু তো নয় তা!
অনেকের চোখেই সেটি আধুনিক ক্রিকেটের সেরা টেস্ট সিরিজ। আমরা টিভিতে দেখেছি, পড়েছি অনেক। মাঠে ব্যাপারটি কেমন ছিল?
টেইট: প্রচণ্ড চাপের ছিল। হাই-স্টেকস ক্রিকেট, একদম প্রপার ক্রিকেট। যদিও আমি মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছিলাম, শেষ দুটি। ছোট্ট অভিজ্ঞতা আমার। তবে তাতেই বুঝে গিয়েছিলাম, টেস্ট ক্রিকেট মানে কী। যারা খেলেছে ওই সিরিজে, সবাই হয়তো ক্রিকেটীয় মান, চাপ, উত্তেজনা, সব মিলিয়ে সবকিছুর চূড়া দেখে ফেলেছে।
তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে আমার জন্যও ছিল শেখার দারুণ মঞ্চ। তবে স্রেফ তিন ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ার আমার। ওসব নিয়ে তাই ভাবিই না।

ছোট্ট টেস্ট ক্যারিয়ার হলেও খেলেছেন রিকি পন্টিং, শেন ওয়ার্নদের সঙ্গে। ওয়ার্ন তো ততদিনে আর সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলেন না। টেস্টেই তার সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ওই সিরিজে তো তিনি অতিমানবীয় বোলিং করেছিলেন। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?
টেইট: আমার জন্য সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ওই কিংবদন্তিদের সঙ্গে খেলা, তাদের সঙ্গে ড্রেসিং রুমে থাকা, কাছ থেকে দেখা ও শেখা। এখন কোচিংয়ে আসার পর আমি উপলব্ধি করি, আমার ভেতরে কোচিংয়ের অনেক কিছুই গড়ে উঠেছে ওই গ্রেটদের মাধ্যমে। এত শিখেছি ওদের কাছ থেকে, শেন ওয়ার্ন, রিকি পন্টিং… এমনকি মাইকেল ক্লার্ক… তখন থেকেই তার ক্রিকেটবোধ ছিল খুব তীক্ষ্ন।
আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসেও ওয়ার্নিকে পেয়েছিলাম আমি। এখন খেলা নিয়ে আমার অনেক ধারণা, নানা কিছুর আইডিয়া যা কাজে লাগাই, অনেকগুলোরই উৎস আসলে সেই সময়ের ওয়ার্নি। ও তো জিনিয়াস ছিল। রাজস্থানে শেন ওয়াটসনকেও পেয়েছি। এখন ও তো কোচিং করাচ্ছে। কিন্তু ওই সময়েও ওর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, যা এখন আমার কাজে লাগছে।
কোচদের সবারই আলাদা ধরন আছে। আমার কোচিংয়ের ভিত গড়ে উঠেছিল ওই কিংবদন্তিদের সংস্পর্শ থেকে। আমার গোটা ক্রিকেট জীবনই গড়ে দিয়েছে এটি।
মানে কি, তখন থেকেই আপনি জানতেন যে ক্যারিয়ার শেষে কোচিং করাবেন?
টেইট: না না না, কোনোভাবেই না। তখন কি কেউ ধারণা করতে পারে? কোচিং করানোর ভাবনা সময়ের সঙ্গে এসেছে। তরুণ ক্রিকেটারদের সহায়তা করতে সবসময়ই উপভোগ করি আমি। কোচিংয়ের মাধ্যমে সেটি করা যাচ্ছে, খেলটায় থাকতে পারছি, খেলাটার অংশ হতে পারছি, এটা আমার জন্য দারুণ ব্যাপার।
চোটের কারণে আপনার ক্যারিয়ার বেশি দীর্ঘ হয়নি, মাঠের বাইরেই বেশি সময় কাটাতে হয়েছে, আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে এসবই বেশি আলোচিত হয়। অনেকের মনেও থাকে না কিংবা জানে না, ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অর্ধেকের বেশি উইকেট এসেছে বিশ্বকাপে। ২০০৭ বিশ্বকাপে ২৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা জয়ে রেখেছেন বড় অবদান। ২০১১ বিশ্বকাপে উপমহাদেশের আসরে ১১ উইকেট। আপনার ক্যারিয়ারের সেরা প্রাপ্তি কি এটিই?
টেইট: অবশ্যই। বিশ্বকাপ জয় (২০০৭) অবশ্যই এবং অবশ্যই আমার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য, সেরা অর্জন। দলটা তো গ্রেট সব ক্রিকেটারে ভরা ছিল। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল দলটির মানসিকতা। এতটা খুনে মানসিকতা, প্রত্যেকের ভেতর এতটা লড়িয়ে মনোভাব দেখিনি আর কোনো দলে।
মাঠের বাইরে সবকিছু সিম্পল রাখতাম আমরা। মাঠে নামলেই সবাই বারুদ ছড়িয়ে দিত যেন। পরস্পরের ওপর আমাদের বিশ্বাসও ছিল প্রবল। প্রত্যেকেই দলের জন্য যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত ছিল, পারলে জীবন দিয়ে দেয়। একটা ক্রিকেট দলে এরকম কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন। ক্রিকেট দলের এমন মানসিকতা বিরল।
এভাবেই আসলে বিশ্বকাপ জিততে হয়। কোনো ম্যাচ হারিনি আমরা। অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল।
টুর্নামেন্টজুড়ে আপনি ফিট থাকতে পেরেছিলেন, এটাও তো বড় ব্যাপার ছিল!
টেইট: হ্যাঁ, বিস্ময়করভাবে মাঠে টিকে ছিলাম! (হাসি)।
আমাদের ফিটনেস ট্রেনার ছিল তখন জাস্টিন কর্ডি, পরে বাংলাদেশেও কাজ করেছে সে। আমাকে ফিট রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল সে এবং ভালোভাবেই পেরেছিল।
গোটা দলের আবহই ছিল অসাধারণ, সবাই এজন্য উজ্জীবিত ছিল। গ্লেন ম্যাকগ্রা তো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছিল (২৬ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট)। ব্রেট লি খেলতে পারেনি চোটের কারণে, আমার তাই বিশেষ দায়িত্ব ছিল। ওই টুর্নামেন্ট আমার ক্যারিয়ারের হাইলাইট, কোনো সংশয় নেই।
২০১২-১৩ বিপিএলের সময় স্বাক্ষাতকারে আপনি বলেছিলেন, শোয়েব আখতারের গতির রেকর্ড ভাঙতে চান। পরে সেটি আর হয়নি। পেছন ফিরে তাকালে, আক্ষেপ হয় কিছুটা?
টেইট: মোটেও না! একটু্ও নয়! ওই রেকর্ড হয়নি তো কী, দ্বিতীয় দ্রুততম ডেলিভারিটি তো আমার!
হ্যাঁ, কিন্তু অনেকেরই সেটা মনে থাকে না। ওই সময়ের গতির লড়াইয়ে আলোচনায় শোয়েব বা ব্রেট লির মতো অতটা উচ্চারিত হয় না আপনার নাম…
টেইট: বলতে পারেন তা। এমনকি যখন আমি খেলেছি, তখনও আমাকে নিয়ে আলোচনা কমই হয়েছে। অবশ্য ইনজুরিতেই বেশি থাকতাম… শোয়েব-লি লম্বা সময় খেলেছে।
এখন আর ওসব ভাবি না। তখন অবশ্য মজাই লাগত গতির লড়াই। আমার ধারণা, গতিময় বোলার আমরা সবাই খেয়াল রাখতাম, কে কত গতি তুলছে।
শোয়েবের সঙ্গে এটা নিয়ে পরে কথাও হয়েছে আমার। আমি যখন পাকিস্তানের বোলিং কোচ ছিলাম, তখন তার সঙ্গে বেশ সময় কাটিয়েছি, ঘুরতে গেছি, মজা করেছি বেশ। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ। সেই সময়ের গতির লড়াই নিয়েও হেসেছি আমরা। মাঠের বাইরে শোয়েব দারুণ, খুবই প্রাণবন্ত ও আন্তরিক।
স্পিডগান থেকে আনুষ্ঠানিক একটি সংখ্যা বা ধারণা পাওয়া যায়। মাঠে আপনারা যারা খেলেন, তাদের আরও ভালো বোঝার কথা। আসলে সবচেয়ে গতিময় কে ছিল? আপনারা তিনজন ছাড়াও শেন বন্ড অনেক জোরে বল করতেন…
টেইট: জানি না, সত্যিই জানি না। কে বলতে পারবে এটা!
আপনি পুরোনোদের কাছে জিজ্ঞেস করুন, জেফ টমসনকে যারা খেলেছেন, সবাই বলেন যে অন্য সবার চেয়ে অনেক এগিয়ে সবচেয়ে গতিময় ছিলেন তিনি। প্যাট্রিক প্যাটারসনের কথা বলেন কেউ কেউ।
লি আর শোয়েবের ব্যাপার ছিল, তারা লম্বা সময় খেলেছে। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর গতিময় বোলিং করেছে। শোয়েব তো প্রতিটি স্পেলেই গতি ধরে রাখত। কখনও কখনও সবাই শুধু সবচেয়ে দ্রুত ডেলিভারিগুলোর তালিকা দেখে। সেটা তো কয়েকটা ডেলিভারির ব্যাপার। কিন্তু লি-শোয়েবরা ধারাবাহিকভাবে করেছে ম্যাচের পর ম্যাচ। ক্যারিয়ারজুড়ে গতি ধরে রেখেছে। অবিশ্বাস্য ব্যাপার তা।
ফাস্ট বোলিংয়ে শরীরের ওপর অনেক ধকল যায়। আমার চেয়ে বেশি তা আর কে জানে! এজন্যই লি-শোয়েবদেরকে কুর্নিশ জানাতে হবে। শেন বন্ডও দারুণ ছিল। তবে শোয়েবকে আমি একটু আলাদা চোখে দেখি। সে সত্যিই বিধ্বংসী ছিল।
আপনার অ্যাকশনও তো শরীরের ওপর অনেক চাপ ফেলেছে…
টেইট: হ্যাঁ, শরীরের ওপর দিয়ে অনেক গেছে… আমার ক্যারিয়ারটা সত্যিই সংক্ষিপ্ত হয়েছে। তবে সত্যিই বলছি, আবার শুরু করলেও আমি কিছু বদলাতে চাইব না। যা হয়েছে, খারাপ নয়। আমি আমার মতোই থাকতে চাইব।
নেটে ব্রেট লির সঙ্গে গতির প্রতিযোগিতা হয়েছে কখনও?
টেইট: নাহ, কখনও হয়েছে বলে মনে পড়ে না। তার চেয়ে আমার বয়স বেশ কম। আমার কাছে তিনি ছিলেন মেন্টরের মতো। বিশেষ করে, প্রথম যখন অস্ট্রেলিয়া দলে এলাম, বছর দুয়েক আমার খুব ভালো মেন্টর ছিলেন লি।
বেড়ে ওঠার দিনগুলিতে অনেক ক্ষেত্রেই তাকে অনুসরণ করতাম। তার কাছ থেকে শিখেছি অনেক। যদি গতি ছাড়া আমাদের বোলিংয়ে আর মিল ছিল না। অ্যাকশন, বোলিংয়ের ধরন আলাদা, ব্যক্তিত্ব ভিন্ন। তবে নিজের শেখার তাগিদেই তার কাছাকাছি থাকতাম, প্রচুর কথা বলতাম।
যদিও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বড় নয় আপনার, যাদেরকে বোলিং করেছেন, তাদের মধ্যে সেরা ব্যাটসম্যান কে?
টেইট: সাচিন টেন্ডুলকার ও ভিরাট কোহলির বিপক্ষে সামান্য খেলেছি। তাদেরকে চূড়াতেই রাখতে হবে। কেভিন পিটারসেন, আমার অভিষেক সিরিজেই তার অভিষেক। তিনিও শীর্ষ কাতারে থাকবেন। তাকে বল করা খুব কঠিন ছিল।
আরেকজনের কথা বলতেই হবে, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। তিনি হয়তো দুনিয়ার সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন না, কিন্তু বিধ্বংসী ছিলেন। তার বিপক্ষে বোলিং করতে উপভোগ করতাম, কারণ সেটা প্রচণ্ড চ্যালেঞ্জিং ছিল। এত বেশি শট খেলতেন এবং এত ধরনের শট, তাকে বোলিং করাটা কঠিন ছিল।

কিছু ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই ঘুরে বেড়ায়, আপনার ১৫০ কিলোমিটার গতির অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে ম্যাককালাম অফ ব্যালান্সড হয়েও স্কুপ করে ছয় মারছেন, ১৫৩ কিলোমিটারের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মারছেন, ১৫৫ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে স্কুপ শটে ছক্কা মারছেন…
টেইট: সেটাই বলছিলাম। বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান, সবসময়ই কিছু না কিছু চেষ্টা করতেন। এজন্যই লড়াইটি বেশি উপভোগ করতাম।
নিজের ভিডিও ক্লিপ দেখতে পছন্দ করেন?
টেইট: খুব একটা নয়। কখনও কখনও দেখি, যদি চোখে পড়ে। কখনও অনেকে পাঠায় তাদের চোখে পড়লে।
কখনও কখনও কি স্মৃতিকাতর হন একা একা?
টেইট: মাঝেমধ্যে… হ্যাঁ, নস্টালজিয়া পেয়ে বসে কিছুটা। নানা সময়ে নানা কিছু মনে পড়ে। ক্যারিয়ার… এমনকি আইপিএলের সময়টাও মনে পড়ে খুব। রাজস্থানে যখন ছিলাম, ওয়ার্নি ছিল, পরে রাহুল দ্রাবিড়…. খেলার আনন্দটা দারুণভাবে পেয়েছিলাম ওখানে। আইপিএলে খুব বেশি ম্যাচ খেলতে পারিনি, ২০টির মতো খেলেছি মনে হয় (চার মৌসুম মিলিয়ে ২১টি, সবকটিই রাজস্থানে)… কিন্তু সময়টা খুব উপভোগ করেছি।
আপনার মনে আছে নিশ্চয়ই, একটা পর্যায়ে আমি ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়েছিলাম কিছুদিনের। খেলার আনন্দটা হারিয়ে ফেলেছিলাম তখন। খেলার প্রতি ভালোবাসা ও তাড়নাও কিছুটা হারিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু রাজস্থানে প্রথম যে মৌসুমে খেললাম (২০০৯-১০), খেলার প্রতি সেই ভালোবাসা ফিরে পেয়েছিলাম। শেন ওয়ার্ন যেভাবে দল চালাত, খুবই উপভোগ্য ছিল সবকিছু। স্রেফ আনন্দ নিয়ে খেলা বা মজা নিয়ে খেলার কথা যদি বলেন, ওই আইপিএল ছিল আমার ক্যারিয়ারের সেরা।
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে এটা তো খুবই জনপ্রিয় কথা যে, ‘শেন ওয়ার্ন ওয়াজ দা বেস্ট ক্যাপ্টেন অস্ট্রেলিয়া নেভার হ্যাড’, আপনারও তেমন মনে হয়?
টেইট: জানি না। আমার এত জটিল করে কিছু ভাবতেই ভালো লাগে না। আইপিএলে ওয়ার্নি দুর্দান্ত নেতৃত্ব দিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের একটা বৈশিষ্ট্য হলো, যুগে যুগে দারুণ সব অধিনায়ক এসেছে। আমার নিজের অভিজ্ঞতায় রিকি পন্টিং ও মাইকেল ক্লার্ক অসাধারণ অধিনায়ক। এর আগে তো অ্যালান বোর্ডার, মার্ক টেইলর, স্টিভ ওয়াহরা ছিলেনই।
ভালো অধিনায়কের কমতি অস্ট্রেলিয়ার কখনোই হয়নি। তাই ওয়ার্নের অধিনায়ক না হওয়াটাও হয়তো খুব বড় ব্যাপার হয়ে ওঠেনি।
ভালো অধিনায়কের কমতি না থাকলেও পেস বোলিং অধিনায়ক তো ছিলই না। প্যাট কামিন্স কি আপনাকে চমকে দিয়েছেন?
টেইট: বিরল তো বটেই, তবে অবাক হইনি। সবসময়ই সে স্মার্ট ক্রিকেটার ছিল। এখন তো খুবই ভালো নেতা হয়ে উঠেছে।
যেটি বলছিলাম, সব দেশ এত ভালো অধিনায়ক যুগের পর যুগ পায় না। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া কখনও কমতি হয় না। আমাদের সংস্কৃতিতেই আছে এটা।
নেটে যাদেরকে বোলিং করেছেন, সেরা ব্যাটসম্যান কাকে মনে হয়েছে?
টেইট: অবশ্যই রিকি পন্টিং। পুল ভালো খেলত, সবই ভালো লেখত। ম্যাথু হেইডেনের কথাও বলতে হবে। পাত্তাই দিত না যেন বোলারদের।
নেটে কি তাদের সঙ্গে আগুনে লড়াই হতো?
টেইট: কখনও কখনও হতো। হয়তো কিছু একটা নিয়ে ওদের সঙ্গে কিছু হলো, কখনও ওরা খোঁচা দিল বা এমনিই হয়তো খুব ভালো খেলছে, তখন লড়াই হতো মাঝেমধ্যে। এমনিতে বেশির ভাগ সময় ম্যাচের প্রস্তুতিই ছিল মুখ্য।
গতির কথা চলছে, বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্রুততম বোলার নাহিদ রানা এখন আপনাকে পেয়েছে মেন্টর হিসেবে। ১৫০ কিলোমিটার তো তিনি বেশ কবার ছাড়িয়েছেন। আপনার মতো ১৫৫ ছুঁতে পারে? বা ১৬০…?
টেইট: কেন নয়? অবশ্যই পারবে, যদি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যায়। তবে আমি এসব নিয়ে ওকে একটুও চাপ দিতে চাই না। গতি ভালো, তবে গতিই সব নয়। ১৬০ কিলোমিটার ছুঁতে পারলে ভালো, কিন্তু এর চেয়ে বেশি জরুরি বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেওয়া ও নিয়মিত ভালো করা।
এই প্রক্রিয়ায় গতিও বেড়ে গেলে দারুণ। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি, তাকে দলে রাখতে হবে। বাংলাদেশের হয়ে যথেষ্ট খেলার সুযোগ সে পাচ্ছে না। যেভাবেই হোক, দলে তাকে আরও বেশি রাখতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সে সত্যিকারের বিরল এক সম্পদ।
আশা করি, সাদা বলের ক্রিকেটে সামনে তাকে আরও বেশি কাজে লাগানো হবে। কারণ, আামি জানি, কেউই তার বল খেলতে চায় না। আপনি যে কোনো প্রতিপক্ষ বা ব্যাটসম্যানকে জিজ্ঞেস করুন, কেউ তার মুখোমুখি হতে চায় না।
তাকে তাই আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং অবশ্য ভালোভাবে দেখভাল করতে হবে। গতি ওর বাড়তেই থাকবে আরও।
টুকটাক কিছু ব্যাপার ছাড়া ওর সবকিছু ঠিকঠাক আছে। কিন্তু ম্যাচ আরও বেশি খেলাতে হবে। বেশি খেলালে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পড়লে আমরা বুঝতে পারব পণ্য কতটা প্রস্তুত।
এখনও পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটেই তাকে বেশি দেখা গেছে। তবে সেটাও যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশে অবশ্য পেসারদের বেশি খেলানোও কঠিন। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো জায়গায় ওকে বোলিং করতে দেখলে আরেকটু ভালোভাবে বিচার করতে পারব। আগামী বছরই এসব জায়গায় সফর আছে আমাদের।
বেশি ম্যাচ খেলাতে বলছেন, তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারটিও তো গুরুত্বপূর্ণ…
টেইট: সেটা তো অবশ্যই লাগবে। তাকে খুব ভালোভাবে সামলাতে হবে। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে তাকে আরও বেশি দেখতে চাই। আমাদের জন্য সে দারুণ এক অস্ত্র। তবে আমি নির্বাচক নই, সিদ্ধান্ত তো আমার নয়।
ওটিস গিবসন পেস বোলিং কোচের দায়িত্বে থাকার সময় থেকে বাংলাদেশে একরকম পেস-বিপ্লবের মতো হয়েছে। অ্যালান ডোনাল্ড সেটিকে সামনে এগিয়ে নিয়েছেন আরও। আপনার কি চাওয়া? কাজের দর্শন কেমন?
টেইট: আমি ব্যাপারটাকে যেভাবে দেখি, বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতাতে সহায়তা করতে চাই। ব্যস। এখন ফাস্ট বোলিং গ্রুপ হিসেবে আমরা কিভাবে সহায়তা করতে পারি, সেটিই আমার কাজ। আপনি যেমন বললেন, গত কয়েক বছরে দারুণ কিছু করার ধারাবাহিকতায় এই ছেলেরা আজকের পর্যায়ে এসেছে। আমি তাদেরকে এমন পর্যায়ে নিতে চাই, যেখানে জয়ী আচরণ ও জয়ী মানসিকতা গড়ে উঠবে। এখনও ওরা পুরোপুরি সেখানে যেতে পারেনি।
আমাদের দেশের মানসিকতা এখনও স্পিন-কেন্দ্রীক। পেস বোলিংয়ের উন্নতি হয়েছে, পেস বোলিংয়ে বিকল্প বেড়েছে। কিন্তু ম্যাচ জয়ের ভাবনায় স্পিনই প্রাধান্য পায়। স্পিনারদের জন্যই উইকেট তৈরি করা হয়। কিন্তু আমাদের তো এখন পেসার আছে অনেক, ম্যাচ জেতানোর পেসার আছে। মনোভাবেও পরিবর্তন আসা উচিত, পেসারদের জন্য উইকেট তৈরি করা উচিত।
এটা আসলে চিন্তাধারার একটি প্রক্রিয়া। আস্তে আস্তে পরিবর্তনটা আনতে হবে। কাজটা যদিও খুব কঠিন এবং সেটা বোধগম্যই। এত বছর ধরে ব্যাটসম্যান ও স্পিনারদেরই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। রাতারাতি সেখানে বদল আসবে না। কিন্তু একটু একটু করে ভাবনায় পরিবর্তন এনে যদি আমরা পেসারদের অনুপ্রাণিত করতে পারি, তাহলে দারুণ হবে।
আমার কাজের একটি অংশ হলো, পেসারদের তৈরি রাখা ও প্রেরণা জোগানো। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, সুযোগটা এলে ওরা যেন নিজেদের মেলে ধরতে পারে, সেজন্য তৈরি রাখা, যেন তারা বাংলাদেশকে ম্যাচ জিতিয়ে দেখিয়ে দিতে পারে।
এভাবেই জয়ী মানসিকতা গড়ে ওঠে, এভাবেই বিশ্বমানের হয়ে উঠতে হয় এবং বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো জায়গায় বড় দলগুলির সঙ্গে লড়াই করা যায়।
এটিই আমার লক্ষ্য। আমি এখানে কারও অ্যাকশন বদলে দেওয়া, কাউকে আমূল বদলে দিতে আসিনি।

টেকনিক্যাল কাজ তাহলে আপনার পরিকল্পনায় খুব বেশি নেই?
টেইট: কিছুটা তো হবেই। টুকটাক নানা কিছু ফাইন টিউন করতেই হয় সবসময়। তবে অনেক বেশি কিছু নয়। কাজ অনেক হয়েছে, এখন ফলাফল দেখানোর সময়।
ভিডিও বিশ্লেষণ বা এসবের ওপর কতটা নির্ভর করেন?
টেইট: খুব বেশি না। যখন প্রয়োজন হয়, তখন ব্যবহার করি। আমাদের খুব ভালো একজন অ্যানালিস্ট আছে। মাচ সংক্রান্ত কিছু ব্যাপারে অ্যানালিস্টের সহায়তা নিয়ে ফাস্ট বোলারদের নিয়ে কাজ করি। তবে সত্যি বলতে, আমি অতিবিশ্লেষণী কোচ বা অতটা টেকনিক্যাল কোচ নই। সম্পর্ক গড়ে কাজ করার ধরন আমার, চেষ্টা করি কিছু জটিল না করতে, ফাস্ট বোলারদের জন্য কাজটা সহজ রাখতে এবং তাদের ভাবনা পরিষ্কার রাখতে।
মুস্তাফিজ তো পুরো আপনার উল্টো ঘরানার বোলার। অনেকের চেয়েও তিনি ভিন্ন। তাকে কোচিং করানোর ব্যাপারটি কেমন?
টেইট: সত্যি বলতে, ওকে তেমন কিছু বলতে হয় না। আমি স্রেফ তার সঙ্গে একটা সম্পর্ক গড়ে তুলেছি। বেশ ভালো সম্পর্ক আমাদের। এটা বুঝে গেছি, ওর কিছু জানার দরকার হলে আমার কাছে এসে কথা বলবে। ও যদি কথা বলার প্রয়োজন মনে না করে, তাহলে আমরা স্রেফ রিল্যাক্সড থাকি এবং আমার মূল কাজ থাকে, ওর খুশি থাকাটা নিশ্চিত করা। মুস্তাফিজকে কখনোই অতি-কোচিং দেওয়ার চেষ্টা করি না।
দল হিসেবে, বোলিং গ্রুপ হিসেবে আমাদের তো মিটিং হয়। সেই আলোচনায় সে সম্পৃক্ত থাকে, নিজের কথা তুলে ধরে এবং অন্য বোলারদের সহায়তা করে। এটা দারুণ, সে পেস বোলিং গ্রুপের নেতা এবং অনেক ব্যাপারেই মতামত দেয়।
আমরা যতদূর জানি, মুস্তাফিজ খুব একটা কথা বলেন না…
টেইট: আগের চেয়ে এখন বেশি বলে, একটু বেশি কথা বলে। আমরা জানি, সে খুব বেশি কথা বলে না। আমি এমন একটা আবহ তৈরির চেষ্টা করি, যেন সে কথা বলতে পারে। প্রধান কোচও চান, মুস্তাফিজ যেন তার ভাবনাগুলো প্রকাশ করে।
সৈয়দ খালেদ আহমেদকে মোটামুটি টেস্ট বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেখা হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে। গত বিপিএলে আপনার কোচিংয়ে দারুণ বোলিং করেছেন এই পেসার। সীমিত ওভারে তিনি আদৌ কতটা কার্যকর হতে পারেন?
টেইট: অবশ্যই সে একটা বিকল্প হতে পারে। আমি তো তাকে সব সংস্করণের উপযোগী বলেই মনে করি। আশা করি, আরেকটি বিপিএলে সে ভালো করবে এবং এমন কিছু করবে যেন, টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেতে পারে। বিপিএলে কাজ করেছি, ওর সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক আমার।
বোলিং মিটিংয়ে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় কে থাকেন?
টেইট: তাসকিন… এমনিতেও সে অনেক কথা বলতে পছন্দ করে। মুস্তাফিজের মতো সেও বোলিং গ্রুপের নেতা। অনেক দিন ধরে খেলছে এবং তাকে দেখি অন্য বোলারদের সঙ্গে অনেক কথা বলতে।
আপনার মেয়াদ ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এমন কিছু কি আশা করা যায় যে, আপনার কোচিংয়ে কেউ একজন আপনার মতো ২৩ উইকেট নেবে এবং দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে সহায়তা করবে?
টেইট: কেন নয়! ঠিক এই কথাটিই কিন্তু আমি ওদেরকে বলি। বড় টুর্নামেন্টগুলোতেই নিজেদের মেলে ধরতে হয়, লোকে এসবই মনে রাখে। বিশ্বকাপে পারফর্ম করলেই সত্যিকারের সমীহ পাওয়া যায়। সেই মানসিকতাই থাকতে হবে। বিশ্বের শীর্ষ দলগুলির সঙ্গে খেললেও ভালো করতে হবে এবং উইকেট নিতে হবে। এই মানসিকতাই আমরা গড়তে চাই।
আশা করি, দুই বছর পর বিশ্বকাপ আসতে আসতে ছেলেরা ওই জায়গায় চলে যাবে। এই ছেলেদের তাড়না আছে, ভালো করার ক্ষুধা আছে। বিশ্বকাপে ভালো করাই লক্ষ্য।
অনেক বছর হলো বাংলাদেশ খেলছে। বড় বড় আসরগুলোতে স্রেফ অংশ নেওয়ার জন্য খেলে লাভ নেই। আগেরগুলার কথা বলতে পারব না। এবার এশিয়া কাপে আমাদের ফাইনালে খেলা উচিত ছিল। এরপর ফাইনালে যে কোনো কিছুই হতে পারত। ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপেও আমাদের উচিত বড় কিছু করার মানসিকতা নিয়েই যাওয়া।
কোনো টেস্ট দলের প্রধান কোচ হওয়ার ইচ্ছে আছে?
টেইট: জানি না, ভাবিনি। কোচিং করাতে আমার ভালো লাগে। সবচেয়ে ভালো লাগে বিভিন্ন সংস্কৃতির অংশ হওয়াটা। পাকিস্তান দলে ছিলাম, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান, বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি দল, এখন বাংলাদেশে… বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে এত কিছু জানা যায়! এই বৈচিত্র আমার কোচিংয়েও সহায়তা করে।
আমি এমনিতেও উপমহাদেশে অনেক সময় কাটাই। আমার স্ত্রী ভারতীয়। ভবিষ্যতেও উপমহাদেশে লম্বা সময় কোচিং করাব, এটা নিশ্চিত।
এখন তো ছুটি আপনাদের। বিপিএলে টিভিতে চোখ রাখবেন পেসারদের পারফম্যান্সে?
টেইট: আপাতত অ্যাডিলেইডে যাব বাড়িতে। পরিবার থেকে অনেক দূরে থাকতে হয় আমাদের। কিছুটা সময় কাটাব। হ্যাঁ, বিপিএলে তো চোখ রাখতেই হবে। এমনিতেও পেসারদের সঙ্গে আমার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চলতেই থাকে ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপে।
বিপিএলে পেসারদের জন্যও একটা ভালো সুযোগ, আমার পরামর্শের বাইরে নিজ নিজ দলের কোচদের পরামর্শ নেওয়ার। কে জানে, বড় উপকার তো হতেও পারে। কিছুদিনের জন্য মাথা থেকে আমাকে সরিয়ে রাখল ওরা, এটাও খারাপ নয়।
বিপিএলের কথা যখন এলোই, গত বিপিএলে চিটাগং কিংসের কাছ থেকে পারিশ্রমিক পেয়েছেন এখনও পুরোপুরি?
টেইট: দয়া করে জিজ্ঞেস করবেন না, এটা নিয়ে কথাই বলতে চাই না।