Published : 30 Mar 2026, 11:18 AM
পাওয়ার প্লের শেষ ওভার থেকে ধরাভাষ্যে প্রশ্নটি উঠতে শুরু করে। পরে ক্রমে তা বাড়তে থাকে। ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, ক্যামেরন গ্রিনকে কেন বোলিংয়ে আনা হচ্ছে না। বিশেষ করে, কেভিন পিটারসেন বারবারই বিস্মিত হচ্ছিলেন। বোলারদের তুলাধুনা হওয়ার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত বোলিংয়ে দেখাই গেল না কলকাতা নাইট রাইডার্সের অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারকে। ম্যাচের পর প্রশ্নটি উঠতেই কলকাতা অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে আঙুল তুললেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দিকে।
আইপিএলের নতুন মৌসুমের দ্বিতীয় দিনে রোববার ২২০ রানের পুঁজি নিয়েও খুব একটা লড়াই করতে পারেনি কলকাতা। রোহিত শার্মা ও রায়ান রিকেলটনের ৭২ বলে ১৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটির পর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স শেষ পর্যন্ত অনায়াসেই জিতে যায় ৬ উইকেটে।
কলকাতার বোলাররা বেদম মার খেয়েছেন সবাই। বিশেষ করে, পেস আক্রমণে ছিল না তেমন ধার। মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর অন্য কয়েক পেসারের চোটে দলটি জেরবার। প্রথম ম্যাচে তাদের পেস আক্রমণে থাকা ব্লেসিং মুজারাবানির এটি ছিল আইপিএল অভিষেক। বৈভাব আরোরা ও কার্তিক তিয়াগি ঘরোয়া ক্রিকেটেই বড় নাম নয়। এই পেস আক্রমণ কোনো প্রভাব রাখতে পারেনি ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে।
গ্রিন বোলিং না করায় তাই বিস্ময় জাগছিল। অলরাউন্ড সামর্থ্যের কারণেই তো রেকর্ড পারিশ্রমিকে তাকে দলে নিয়েছে কলকাতা!
ম্যাচের দুদিন আাগে অনুশীলনে তাকে পুরোদমে বোলিং করতে দেখা গেছে। খেলা শুরুর আগেও অনুশীলন পিচে বোলিং করেছেন তিনি। ম্যাচে ফিল্ডিংও করেছেন সবটুকু দিয়ে। যেটির মানে, দৃশ্যত চোট সমস্যা তার নেই। তাকে বোলিংয়ে না দেখে তাই ধারাভাষ্যকাররা বিস্মিত হচ্ছিলেন বারবার।
ম্যাচের পর টিভি সাক্ষাৎকারে পেসারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নে রাহানে নিজেই ব্যাপারটি তুলে ধরে জানালেন, ইচ্ছে থাকলেও গ্রিনকে বোলিংয়ে আনতে পারেননি তিনি।
“আশা করি, গ্রিন দ্রুতই বোলিং শুরু করতে পারবে, তখন দলীয় সমন্বয় আরেকটু ভিন্ন হবে। এখন ভারসাম্যের কথা ভাবতে হচ্ছে আমাদের। দেখতে হবে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কে বোলিং করতে পারে। ব্যাটিংয়ের কথা বললে, আমরা আজকে দারুণ ব্যাট করেছি। তবে ব্যাট-বলের ভারসাম্য খুঁজে বের করা জরুরি। আশা করি, গ্রিন দ্রুতই বোলিং করতে পারবে। তখন আমাদের দলীয় সমন্বয় ঠিকঠাক হবে।”
পাল্টা প্রশ্ন ছুটে গেল তখনই, ‘গ্রিন কেন বোলিং করতে পারছেন না?’
রাহানেও ঝটপট বললেন, “এই প্রশ্ন আপনার জিজ্ঞেস করতে হবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে…।”
রাহানে কথাটি বললেন হাসিমুখে। কিন্তু বিরক্তি স্পষ্ট মিশে থাকল তার কথার ধরনে। এমনভাবে তিনি বললেন, প্রশ্নকর্তারাও তাৎক্ষণিক একটু অপ্রস্তুত হয়ে কথা বলতে পারলেন না কয়েক সেকেন্ড।
রাহানের কথায় স্পষ্ট, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া থেকে ম্যাচে বোলিংয়ের অনুমতি এখনও পাননি গ্রিন। চোটপ্রবণ এই অলরাউন্ডারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছে অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড। সবশেষ ৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তিনি মাত্র ৭.১ ওভার হাত ঘুরিয়েছেন।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নিজেদের ক্রিকেটাদের নিয়ে এবার বেশ সাবধানী পদক্ষেপ নিয়েছে আইপিএলে। চোট থেকে সেরে ওঠার পথে থাকা মিচেল স্টার্ক, জশ হেইজেলউড ও প্যাট কামিন্স এখনও মাঠে নামার অনুমতি পাননি। ন্যাথান এলিস তো ছিটকেই গেছেন চোটের কারণে।
গত ডিসেম্বরে নিলামে ক্যামেরন গ্রিনকে এবার ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছে কলকাতা, আইপিএলের ইতিহাসে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক, বিদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ। অলরাউন্ড সামর্থ্যের কারণে আইপিএলে চোখ ধাঁধানো অঙ্কের পারিশ্রমিক এবারই তার প্রথম নয়। ২০২৩ আইপিএলের নিলামে তাকে সাড়ে ১৭ কোটি রুপিতে নিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। সেই সময় সেটি ছিল বিদেশিদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক।
প্রথম আসরে মুম্বাইয়ের হয়ে একটি সেঞ্চুরিসহ ৪৫২ রান করেন গ্রিন, উইকেট নেন ৬টি। পরের আসরে তবু তাকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে দিয়ে দেয় মুম্বাই। সেবার বেঙ্গালুরুর হয়ে ১০ উইকেট নিতে পারলেও ব্যাটিংয়ে ভালো করেননি (১৩ ইনিংসে কোনো ফিফটি ছাড়া ২৫৫ রান)। গত আসরে তিনি খেলতে পারেননি চোটের কারণে।