Published : 02 Jan 2026, 08:28 AM
সেবার প্রয়োজন ছিল ৩ বলে ২ রান। এবার ২ বলে ১ রান। দুবারই জয়টাকে মনে হচ্ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার। কিন্তু কোনোবারই ধরা দেয়নি সেই জয়। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটির স্মৃতিই যেন এবার ফিরিয়ে আনল রংপুর রাইডার্স। দুই উপলক্ষের যোগসূত্র আরও বেশি পোক্ত হলো মাহমুদউল্লাহর সৌজন্যে। দুবারই তিনি শেষ সময়ের খলনায়ক।
১০ বছর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটি নিয়ে নতুন করে বলার আছে সামান্যই। বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিরন্তন দুঃখগাঁথার অংশ হয়ে আছে সেটি। শেষ ওভারে মুশফিকুর রহিমের টানা দুটি বাউন্ডারির পর যখন ৩ বলে প্রয়োজন ২ রান, তখন স্লোয়ার শর্ট বলে ছক্কার চেষ্টায় আউট হন তিনি। পরের বলে ফুল টসে ছক্কার চেষ্টায় আউট হন মাহমুদউল্লাহ। শেষ বলে সিঙ্গল নেওয়ার চেষ্টায় রান আউট হন মুস্তাফিজুর রহমান। ভারত জিতে যায় ১ রানে।
এবার বিপিএলে বৃহস্পতিবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ১৬০ রান তাড়ায় রংপুর রাইডার্স এগিয়ে যাচ্ছিল অনায়াসেই। ২২ রানে লিটন দাসকে হারানোর পর শতরানের জুটি গড়েন দাভিদ মালান ও তাওহিদ হৃদয়। শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৩৮ রানের। উইকেট বাকি তখনও ৯টি।
ষোড়শ ওভারের প্রথম বলে হৃদয়ের বিদায় দিয়ে রংপুরের বেগ পাওয়ার শুরুর। কাইল মেয়ার্স ও খুশদিল শাহ পারেননি ভালো কিছু করতে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেললেও মালান পারেননি প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে (৫০ বলে ৬৩*)।
তার পরও ম্যাচ ছিল রংপুরের মুঠোয়। শেষ ওভারে প্রথম বলে খুশদিল আউট হওয়ার পর নুরুল হাসান সোহান গিয়ে চার মারেন প্রথম বলেই। চার বলে তখন প্রয়োজন স্রেফ তিন রানের।
কিন্তু রিপন মন্ডলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেই সমীকরণ মেলাতে পারেনি রংপুর। ২ বলে যখন প্রয়োজন ১ রান, আউট হয়ে যান তখন সোহান। শেষ ডেলিভারিতে বল ফাঁকায় পাঠাতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। সিঙ্গল নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
পরে সুপার ওভারেও অসাধারণ বোলিং করে মাত্র ৬ রান দেন রিপন। রাজশাহী জিতে যায় তিন বলেই।
হাতের মুঠো থেকে জয় ফেলে দিয়ে ‘টাই’ করে এবং পরে সুপার ওভারে হারার পর রংপুরের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের মনে পড়ল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেই ম্যাচের কথা।
“দাভিদ মালান ও তৌহিদ হৃদয় যেভাবে ব্যাট করছিল, পুরো ইনিংসই নিয়ন্ত্রণে মনে হচ্ছিল। তারপর শেষ ওভারে নুরুল হাসান সোহান চমৎকার একটি বাউন্ডারি মারল। এরপর অনেকটা আসলে ভারতের ওই ম্যাচটির মতো হয়ে গেল। আমরা যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হেরেছিলাম, ৩ বলে ১ রান নিতে পারিনি, ওই জিনিসটার মতো হয়ে গিয়েছে।”
এই হারেও অবশ্য একটা ইতিবাচক দিক খুঁজে নিয়েছেন আশরাফুল।
“অবশ্যই এটা খারাপ আমাদের জন্য। তার পরও আমি মনে করি, শুরুর দিকেই এমন হওয়া ভালো। লম্বা টুর্নামেন্ট, এখনও ৮টি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করি, আমরা কালকেই (শুক্রবার) সঠিক পথে ফিরব।”
শুক্রবারের ম্যাচে রংপুরের প্রতিপক্ষ সিলেট টাইটান্স।