Published : 23 May 2026, 07:37 PM
বয়স পেরিয়ে গেছে ৪০। এই বয়সের বেশ আগেই অবসরে চলে যান অনেকে। কিন্তু এনামুল হক এনাম নিজেকে চেনাচ্ছেন নতুন করে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি খেলছেন অনেক বছর ধরে। মূলত অফ স্পিনার হিসেবেই পরিচিতি ছিল তার, সঙ্গে টুকটাক ব্যাটিং করতেন। সেই তিনি এবারের ঢাকা লিগে নিজেকে তুলে নিচ্ছেন নতুন উচ্চতায়। সাফল্যের পথচলায় এবার তিনি নিজেকে রাঙালেন স্বীকৃত ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিতে।
এনামের স্মরণীয় দিনটিতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস উপহার দিয়েছেন ইরফান শুক্কুর। কিছুটা চমক আছে সেখানেও। এমনিতে তিনি বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান নন। তবে অভিজ্ঞ এই বাঁহাতির ব্যাট থেকে এবার এলো ৭৫ বলে ১২৭ রানের ইনিংস।
ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের আরেকটি জমজমাট দিনে আগ্রাসী সেঞ্চুরি করেছেন ফজলে মাহমুদ রাব্বিও। দলের পরাজয়ের ম্যাচে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ। ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি ইমরানউজ্জামান, ৫ রানের জন্য আজিজুল হাকিম তামিম, ৯ রানের জন্য ইফতিখার হোসেন ইফতি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়ে ঢাকা লিগে ফিরে আগ্রাসী ফিফটি করেছেন মুশফিকুর রহিম।
সিলেট টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে জেতানো তাইজুল সাদা বলের ক্রিকেটে ফিরে নিয়েছেন ৫ উইকেট। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম ৫ উইকেটের স্বাদ পেয়েছেন লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, ৫ উইকেট নিয়েছেন পেসার এনামুল হক আশিকও।
সিটি ক্লাব-প্রাইম ব্যাংক
এবারের লিগের আগে ৮৯ ম্যাচে লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে মাত্র ২টি ফিফটি ছিল এনামের। এই লিগের এক ম্যাচে তিনি করেছিলেন ৫১, আরেক ম্যাচে ৮ ছক্কায় ৯০। এবার করলেন শতরান।
পুবেরগাও ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাঠে এনামের শতরানের ম্যাচটিতে সিটি ক্লাবের কাছে হেরে শিরোপা জয়ের অভিযানে জোর ধাক্কা খায় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা সিটি ক্লাব ৪৬ রানে হারায় ৪ উইকেট। পঞ্চম উইকেটে ৫২ রানের জুটি গড়েন ওপেনার সাদিকুর রহমান ও ছয়ে নামা এনামুল। সাদিকুর ফেরেন ৫৮ রানে। এরপর এনামুল ও শাকিল হোসেন গড়েন ১১৯ রানের জুটি।
শাকিল আউট হন ৫৫ রানে। ৬৪ বলে ফিফটি করা এনামুল পরের পঞ্চাশ করতে খেলেন স্রেফ ৩০ বল। শেষ পর্যন্ত ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৯৭ বলে ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন করেন দুটি করে চার ও ছক্কায় ১১ বলে ২২। ৫০ ওভারে ২৬৬ রান তোলে সিটি ক্লাব।
রান তাড়ায় প্রাইম ব্যাংকের তারকা সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইন আপ সুবিধা করতে পারেনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর ঢাকা লিগে ফেরা তানজিদ করেন ১৭ বলে ৯। আকবর আলি (২৪) ও শামীম হোসেন (৩০) পারেনি বড় ইনিংস খেলতে। দলকে অনেকক্ষণ টেনে ৯৮ বলে ৯৫ রান করে আউট হন আজিজুল।
সিটি ক্লাপের পেসার এনামুল হক আশিক অষ্টম লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলতে নেমে প্রথম ৫ উইকেটের স্বাদ পান (৫/৪১)। সেঞ্চুরির পর নতুন বল হাতে ১০ ওভারে ২৯ রানে ১ উইকেট নেন এনাম।
গাজী গ্রুপ-লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দেয় লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ১৮ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৫ বলে ১২৭ রান করে পায়ে ক্র্যাম্প নিয়ে মাঠ ছাড়েন ইরফান।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা গাজী গ্রুপ ৫৬ রানের মধ্যে হারায় ৫ উইকেট। এর মধ্যে ৩০ বলে ৩১ করে আউট হন প্রিতম কুমার। পরে সাব্বির হোসেন লড়াই করে দলকে টেনে নেন। ১০৪ বলে ৭৯ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। রহিম আহমেদ করেন ৩১।
প্রথম ওভারেই মুনিম শাহরিয়ারকে দারুণ ইয়র্কারে বোল্ড করা আব্দুল হালিম ৩টি উইকেট নেন, সালাউদ্দিন সাকিলও নেন ৩টি।
রান তাড়ায় চার ওভারের মধ্যে দুই উইকেট হারায় রূপগঞ্জ। তবে ইরফান ক্রিজে গিয়েই শুরু করেন পাল্টা আক্রমণ। ৪৩ বলে ফিফটি করেন তিনি। শতরানে পৌঁছে যান স্রেফ ৬৮ বল খেলেই।
সেঞ্চুরির পরও তার ব্যাট থেকে আসতে থাকে বাউন্ডারির স্রোত। কিন্তু তাকে ভোগআতে থাকে ক্র্যাম্প। এরকমই একটি চার মেরে ব্যথায় ক্রিজে পড়ে যান। পরে মাঠ ছেড়েও যান। তবে দল জিতে যায় ১০৬ বল বাকি রেখে।
মোহামেডান-গুলশান
দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটানোর অভিযানে রানের পাহাড় গড়ে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ২৩৭ রানে হারিয়েছে শীর্ষে থাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
বিকেএসপি চার নম্বর মাঠে মোহামেডানের দুই ওপেনার মোহাম্মাদ নাঈম শেখ (৪৮ বলে ৩০) ও পারভেজ হোসেন ইমন (১৪ বলে ১১) ভালো করতে পারেননি। তবে তিনে নেমে ৭৭ বলে ৮৬ করেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়, চারে নেমে মুশফিকুর রহিম করেন ৬২ বলে ৭২। ]

ফিফটির ধারা ধরে রাখেন পরের ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেনও (৫১ বলে ৫৫)। এরপর সময়ের দাবি মেটান ইয়াসির আলি চৌধুরি (২০ বলে ২৯) ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন (২৪ বলে ৪৪)।
বিশাল রান তাড়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে গুলশানের ব্যাটিং। প্রথম ৮ ব্যাটসম্যানের কেউ ১৫ রানও স্পর্শ করতে পারেননি।
বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়া আবির ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলের সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন।
২৬ রানে ৫ উইকেট নেন তাইজুল। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার চতুর্থ ৫ উইকেট এটি। আরেক বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম ৩৭ রানে নেন ৪ উইকেট।
বসুন্ধরা-ব্রাদার্স
দিনের সবচেয়ে বেশি রান প্রবাহ ও রোমাঞ্চ ছড়ানোর ম্যাচে বিকেএসপি তিন নম্বর মাঠে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৭ রানে হারায় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স।
৫০ ওভারে বসুন্ধরা তোলে ৩২৪ রান। ওপেনার আজমির আহমেদ ০ ও নেমে সাইফ হাসান আউট হন ২০ রানে। তৃতীয় উইকেটে ১৯৪ রানের জুটি গড়েন ইমরানউজ্জামান ও ফজলে মাহমুদ রাব্বি। ১১৭ বলে ৯৬ রান রানে আউট হন ইমরান।
১০১ বলে শতরান ছুঁয়ে পরে আগ্রাসী হয়ে ওঠেন ফজলে রাব্বি। ১১৩ বলে ১৩২ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি ক্র্যাম্প নিয়ে। শেষ দিকে ৬ ছক্কায় ২২ বলে ৪৬ করেন জিয়াউর রহমান।

রান তাড়ায় ব্রাদার্সে ওপেনার শাহরিয়ার কমল করেন ৬১ বলে ৬৯, তিনে নেমে আদিল বিন সিদ্দিক ৪৭ বলে ৪১। ছয়ে নেমে ৪২ বলে ৪৫, সাতে নেমে শরিফুল ইসলাম ৪৫ বলে করেন ৫২। পরে দশে নেমে শফিকুল ইসলাম ২৯ বলে ৩১ রান করে ম্যাচ কিছুটা জমিয়ে তুললেও লাভ হয়নি।
ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে ৪৮ রানে ৫ উইকেট নেন আমিনুল। বাংলাদেশের হয়ে ১০ টি-টোয়েন্টি খেলা লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার আগেও এক ম্যাচে নিয়েছেন ৪ উইকেট, লিগে ব্যাট হাতে ফিফটি করেছেন ২টি।
লেপার্ডস-রূপগঞ্জ টাইগার্স
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৩০ রানে হারায় ঢাকা লেপার্ডস।
৪৫ ওভারের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা লেপার্ডস তোলে ৭ উইকেটে ২৭৬ রান।
তিনে নেমে ইফতেখার হোসেন ইফতি ১০৫ বলে করেন ৯১, অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন করেন ৬২ বলে ৭১। পরে মইন খানের ব্যাট থেকে আসে ৫৪ বলে ৬৯।
রান তাড়ায় রূপগঞ্জ ৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর অন্য ব্যাটসম্যানরা খোলসে ঢুকে যায়। কালাম সিদ্দিকি ৫২ রান করতে বল খেলেন ৭২টি।
সপ্তম লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলতে নামা আব্দুল্লাহ ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন ১২৮ বল খেলে। শেষ দিকে ২৯ বলে ৫৭ রান করে ব্যবধান কমান অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মুক্তার আলি।