রাজশাহীর নাহিদ রানাকে দেখে যেভাবে চমকে গিয়েছিলেন মুশফিক
“একটা তরুণ ক্রিকেটারের মধ্যে এটা দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম এবং খুব খুশি হয়েছিলাম”, নাহিদ রানাকে প্রথম দেখার স্মৃতি মনে করলেন মুশফিকুর রহিম।
নাহিদ রানা তো এখন বাংলাদেশের পেস সেনসেশন। গোটা ক্রিকেট বিশ্বের বা ক্রিকেট খেলাটিরই সম্পদ। তবে একটা সময় তিনি ছিলেন রাজশাহীর উঠতি এক ক্রিকেটার। তখনই তার একটি বিশেষ ব্যাপার আলাদা করে চোখে পড়ে মুশফিকুর রহিমের এবং তরুণ একজন ক্রিকেটারের মধ্যে সেই গুণ দেখে চমৎকৃত হন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
এটুকু শুনে অনেকে ভাবতে পারেন গতির কথা। নাহিদ রানার প্রথম নজর কাড়ার ব্যাপার তো গতি দিয়েই। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম বোলার তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে, বিশেষ করে জাতীয় লিগে গতির রথ ছুটিয়েই দ্রুত উঠে এসেছেন তিনি আজকের পর্যায়ে। তবে মুশফিক অবাক হয়েছিলেন আরেকটি ব্যাপার দেখে।
সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক ফিরে গেলেন কয়েক বছর পেছনে, যখন জাতীয় লিগে রাজশাহীতে তিনি সতীর্থ হিসেবে পেয়েছিলেন নাহিদকে। তরুণ ফাস্ট বোলারের শেখার তীব্র ক্ষুধা মুগ্ধ করেছিল তাকে।
“ওকে আমি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকেই চিনি। গত দুই বছর সিলেটের হয়ে খেলেছি (জাতীয় লিগে), তবে রাজশাহীর হয়ে যখন সবশেষ খেলেছিলাম, চারটি চার দিনের ম্যাচ খেলেছিলাম, তখনই নাহিদ রানাকে কাছ থেকে দেখা এবং ওর সাথে খেলা। তখন থেকে একটা ব্যাপার খুবই ভালো লেগেছিল। তখনই জানতাম যে ভবিষ্যতে ও জাতীয় দলে অবশ্যই খেলবে। তখন থেকেই ওর শেখার যে আগ্রহ বা নিজেকে উন্নত করার যে ইচ্ছাটা ছিল, এটা সাধারণত তরুণ ক্রিকেটারদের কম থাকে, কিংবা কারও থাকলেও সে হয়তো নিজে থেকে ওটা বলতে চায় না, হয়তো একটু সংকোচ বোধ করে। কিন্তু ওকে দেখেছি, ও কখনও সংকোচ করত না।”
“ও আমাকে জিজ্ঞেস করত, বা ওখানে তখন ফরহাদ ভাই (ফারহাদ রেজা) ছিলেন, ফরহাদ হোসেন, জুনায়েদ সিদ্দিক ছিল, অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার ছিল, সবসময় জানতে চাইত যে, আরেকটু কী করলে কী হয়, লাইফ স্টাইল কেমন থাকা উচিত। একটা তরুণ ক্রিকেটারের মধ্যে যেটা দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম এবং সত্যিই খুব খুশি হয়েছিলাম।”
সেই নাহিদ রানা সময়ের পরিক্রমায় এখন তিন সংস্করণেই তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন। গতি ও বাউন্সের পাশাপাশি তার পরিণত মানসিকতার কথা নিয়মিতই বলে থাকেন কোচ-অধিনায়কেরা। তাকে চিনতেন বলেই এসব দেখে অবাক হননি মুশফিক।
“ওর যে অগ্রগতি হয়েছে, এটায় কখনও বিস্মিত হইনি, আগেই ওই সময়ে বুঝতে পেরেছিলাম, ওর এই ইচ্ছাটা আছে। এমনকি এখনও এত ভালো করার পর ও যেভাবে চিন্তা করে, নির্দিষ্ট ব্যাটসম্যানদের নিয়ে যেভাবে ভাবে বা ওর ওয়ার্ক এথিকস, খাওয়া-দাওয়া নিয়ে যেভাবে চিন্তা করে, এটা ভালো আভাস। যে কোনো তরুণ ক্রিকেটার যদি এরকম হয়, তাহলে আসলে দলের আবহও ভিন্ন হয়ে যায়।”
বাংলাদেশের পরের টেস্ট সিরিজ আগামী জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ায়। নাহিদ রানা তো বটেই, সব ঠিকঠাক থাকলে ২১ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার সেখানে টেস্ট খেলবেন মুশফিকও। ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের আশা, নাহিদ ও বাংলাদেশের পেস আক্রমণ ঝড় তুলবে অস্ট্রেলিয়ায়।
“এটা তো অনেক বড় একটা স্বপ্ন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে টেস্ট খেলা। নাহিদ রানার মতো যদি এরকম একজন স্পিড স্টার যদি থাকে… শুধু ও নয়, আমাদের তাসকিন বলেন, শরিফু, আমাদের যে আট-দশজন মূল পেস বোলারের একটা গ্রুপ আছে, আশা করব তারা সুস্থ থাকবে এবং আশা করি, নিজেদের মেলে ধরবে।”
