অ্যাশেজ
Published : 05 Jan 2026, 02:54 PM
আগের দিন জাগানো সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিলেন জো রুট। চমৎকার ব্যাটিংয়ে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস খেলে দারুণ এক কীর্তি গড়লেন ইংলিশ গ্রেট। জবাবে ট্রাভিস হেডের ব্যাটে শুরুটা ভালোই করল অস্ট্রেলিয়া। অ্যাশেজে আরেকটি সেঞ্চুরির দুয়ারে দাঁড়িয়ে বাঁহাতি এই ওপেনার।
সিডনি টেস্টে সোমবার ইংল্যান্ডকে প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রানে থামিয়ে ব্যাটিং করছে অস্ট্রেলিয়া। ২ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে তারা। এখনও ২১৮ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।
ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা হেডের সামনে অ্যাশেজে তৃতীয় সেঞ্চুরির হাতছানি। ১৫ চারে ৮৭ বলে ৯১ রান করে অপরাজিত আছেন তিনি। ক্রিজে তার সঙ্গী নাইটওয়াচম্যান মাইকেল নিসার।
হেডের আগে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান রুট। ৭২ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা ডানহাতি ব্যাটসম্যান খেলেন ১৬০ রানের ইনিংস। তার ২৪২ বল ও ৩৯৮ মিনিট স্থায়ী ইনিংসটি গড়া ১৫ চারে।
অস্ট্রেলিয়ায় আগের তিন সফরে কোনো সেঞ্চুরি করতে না পারা রুট এবার উপহার দিলেন দুটি। শেষ টেস্টে তিন অঙ্কে পা রেখে এই সংস্করণে সেঞ্চুরির সংখ্যায় অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিংকে স্পর্শ করলেন তিনি। দুইজনেরই টেস্টে শতক এখন ৪১টি করে।
তালিকায় রুটের উপরে আছেন কেবল দুইজন। সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি জ্যাক ক্যালিসের সেঞ্চুরি ৪৫টি। আর ৫১ সেঞ্চুরি করে ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকার।
আগের দিন বৃষ্টির বাধায় খেলা হয় স্রেফ ৪৫ ওভার, ইংল্যান্ড করতে পারে ৩ উইকেটে ২১১ রান। প্রথম বলে চার মেরে নতুন দিন শুরু করেন রুট। এরপর ধীরলয়ে এগোতে থাকেন তিনি।
কিন্তু ৭৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা হ্যারি ব্রুক টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। দিনের তৃতীয় ওভারে স্কট বোল্যান্ডের বলে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি। এক ছক্কা ও ৬টি চারে গড়া ইংলিশ সহ-অধিনায়কের ৮৪ রানের ইনিংস। ভাঙে রুটের সঙ্গে তার ১৬৯ রানের জুটি।
দুই ওভার পর ইংলিশ শিবিরে ছোবল হানেন মিচেল স্টার্ক। কট বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়ে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক বেন স্টোকসকে শূন্য রানে ফেরায় অস্ট্রেলিয়া।
দ্রুত ২ উইকেট হারানোর ধাক্কা ইংল্যান্ড কাটিয়ে ওঠে রুট ও জেমি স্মিথের ব্যাটে। দুইজনেই দেখেশুনে খেলে বাড়াতে থাকেন রান। জমে ওঠে তাদের যুগলবন্দি।
কিছুক্ষণ পর আসে রুটের সেই কাঙ্ক্ষিতক্ষণ। ৯৯ রান থেকে ডাবল নিয়ে তিন অঙ্কের ঠিকানায় পা রাখেন তিনি, ১৪৬ বলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যা তার ৫৯তম সেঞ্চুরি।
ক্যামেরন গ্রিন 'নো বল' করায় কাভারে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান স্মিথ। তখন ২২ রানে খেলছিলেন তিনি।
ম্যাচে নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই দলকে সাফল্য এনে দেন মার্নাস লাবুশেন। অফ স্টাম্পের বাইরের নিরীহ শর্ট বলে উড়িয়ে মেরে ডিপ কাভারে ধরা পড়েন স্মিথ। ১ ছক্কা ও ৬টি চারে ৪৬ রান করেন তিনি, ভাঙে ৯৪ রানের বন্ধন।
এরপর উইল জ্যাকসকে নিয়ে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটি গড়েন রুট। এর মাঝেই ২২৬ বলে ১৫০ স্পর্শ করেন রুট। টেস্টে এনিয়ে ১৭ বার দেড়শ ছুঁলেন তিনি।
জ্যাকসকে ফিরিয়ে তাদের ৫২ রানের যুগলবন্দি ভাঙেন মাইকেল নিসার। এরপর আর বেশিক্ষণ টেকেনি ইংল্যান্ডের ইনিংস। ৯ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে চারশর আগে গুটিয়ে যায় তারা।
নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন রুট। ডানপাশে ঝাঁপিয়ে দারুণ ফিরতি ক্যাচ নেন মাইকেল নিসার।
ব্যাটিংয়ে নেমে তিন বলের মধ্যে দুইবার জীবন পান জ্যাক ওয়েদেরল্ড। ম্যাথু পটসের বলে তার কঠিন ক্যাচ নিতে পারেননি রুট। এক বল পর ব্রাইডন কার্সের বলে অস্ট্রেলিয়া ওপেনারের ক্যাচ ছাড়েন বেন ডাকেট।
তবুও ইনিংস বড় করতে পারেননি ওয়েদেরল্ড। স্টোকসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর দলকে টানেন হেড ও লাবুশেন। তাদের ব্যাটে দেড়শ পেরিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার রান।
কার্সকে টানা দুই চারে ৫৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন হেড। পঞ্চাশের পথে ছিলেন লাবুশেনও। কিন্তু হুট করে যেন মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন তিনি। স্টোকসের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয়ে তার ৭ চারে গড়া ৪৮ রানের ইনিংস, ভাঙে ১০৫ রানের জুটি।
ততক্ষণে সেঞ্চুরির কাছে পৌঁছে যান হেড। কিন্তু দিনের শেষ ওভারের প্রথম বলে স্টোকসের বল নিসারের কনুইয়ে আঘাত করে। এরপরই নামে বৃষ্টি। পরে দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করে দেন আম্পায়াররা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯৭.৩ ওভারে ৩৮৪ (আগের দিন ২১১/৩) (রুট ১৬০, ব্রুক ৮৪, স্টোকস ০, স্মিথ ৪৬, জ্যাকস ২৭, কার্স ১, পটস ১*, টং ০; স্টার্ক ২৩-২-৯৩-২, নিসার ১৮.৩-২-৬০-৪, বোল্যান্ড ২৬-২-৮৫-২, গ্রিন ১৮-০-৮৫-১, ওয়েবস্টার ৫-০-২০-০, হেড ৪-০-২০-০, লাবুশেন ৩-০-১৪-১)
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৩৪.১ ওভারে ১৬৬/২ (হেড ৯১*, ওয়েদেরল্ড ২১, লাবুশেন ৪৮, নিসার ১*; কার্স ৯-১-৪৩-০, পটস ৭-০-৫৮-০, টং ১০-০-৩১-০, স্টোকস ৮.১-২-৩০-২)