Published : 29 Mar 2026, 11:54 AM
ভিরাট কোহলি ভেবেছিলেন, পাওয়ার প্লেতে ঝড় তুলবেন। কিন্তু দেবদুত পাডিক্কাল নেমেই যেভাবে খেলতে শুরু করলেন, কোহলির পরিকল্পনাও বদলে গেল। তিনি তখন অভিভূত এক দর্শক! পরে নিজেও দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন এই কিংবদন্তি। তবে ম্যাচের পর তুলে ধরলেন তিনি পাডিক্কালের ইনিংস নিয়ে মুগ্ধতা।
আইপিএলের নতুন আসরের উদ্বোধনী দিনে দেখা গেছে ভারতের দুই প্রজন্মের দুই ব্যাটসম্যানের এই ব্যাটিং শৈলী। বেঙ্গালুরুতে শনিবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ২০২ রান তাড়ায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে এগিয়ে নেন এই দুজন।
ওপেনার ফিল সল্টকে দ্বিতীয় ওভারেই হারানোর পর প্রথম বলেই চোখধাঁধানো ফ্লিক শটে ছক্কায় শুরু করেন পাডিক্কাল। এরপর চলতে থাকে তার নান্দনিক ঝড়। দারুণ সব ক্রিকেট শট খেলেই এলোমেলো করে দেন তিনি প্রতিপক্ষের বোলিং লাইন আপ। কোহলি তখন ছিলেন সহযোগীর ভূমিকায়।
দ্বিতীয় উইকেটে ৪৫ বলে ১০১ রানের জুটি গড়েন দুজন। যেখানে পাডিক্কালের রান ছিল ২৬ বলে ৬১! কোহলি করেন ১৯ বলে ৩০। পাডিক্কালের বিদায়ের পর কোহলি নিজের খুনে রূপ মেলে ধরেন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি ৩৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে। সঙ্গে অধিনায়ক রাজাত পাতিদারের ১২ বলে ৩১ রানের ক্যামিও মিলে ২৬ বল বাকি রেখেই ৬ উইকেটের জয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করে বেঙ্গালুরু।
রান তাড়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন কোহলি। তবে ম্যাচের পর তিনি মূল কৃতিত্ব দিলেন পাডিক্কালকে।
“অসাধারণ ইনিংস। একেবারে শুরু থেকেই পাওয়ার প্লেতে আগ্রাসী হওয়ার পরিকল্পনা ছিল আমার। কিন্তু ওকে খেলতে দেখে আমার মনে হলো, ওকে বারবার স্ট্রাইকে পাঠিয়ে আমি এখানে-সেখানে দু-একটা বাউন্ডারি আদায় করে নেই। ও প্রতিপক্ষের হাত কাছ খেলাটা পুরোপুরি বের করে নিয়েছে।”
“আমি ওকে এটাও বলেছিলাম… মিড-অনের ওপর দিয়ে স্লোয়ার বলে যে শটে ও ছক্কা মেরেছে, সেই মুহূর্তেই ওকে বলেছিলাম, ‘শুধু খেলে যাও। তুমি অসাধারণ খেলছো, শুধু ওদেরকে চাপে রাখো আর ওদের কাছ থেকে খেলাটা বের করে নাও। যদি ২৫-২৬ বল বাকি থাকতে ইনিংস শেষ করতে পারি, তাহলে নেট রান রেটের দিক থেকেও আমরা লাভবান হব।’ ওর ইনিংসটা ছিল দুর্দান্ত।”
পাডিক্কালকে কাছ থেকে দেখছেন তিনি অনেক আগে থেকেই। আইপিএল ক্যারিয়ারের প্রথম দুই মৌসুমে বেঙ্গালুরুতে খেলেছেন স্টাইলিশ এই বাঁহাতি। পরে দুই মৌসুম রাজস্থান রয়্যালস ও এক মৌসুম লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসে খেলে আবার বেঙ্গালুরুতে খেলতে টানা দুই মৌসুমে। তার প্রতিভা ও সামর্থ্য ভালোভাবেই জানা কোহলির।
“আমি ওকে কাছ থেকে দেখেছি, ওর স্কিল সবসময়ই আছে এবং এখন ও সেটা কাজে লাগাচ্ছে। ঘরোয়া লাল বলের ক্রিকেটে একটি দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছে। ওর টাইমিং, মাথার অবস্থান, ভারসাম্য—এক কথায় বিশ্বমানের। আত্মবিশ্বাসী থাকলে ব্যাট হাতে ও কী করতে পারে, খুব ভালো করেই জানি এবং আজ রাতে নিজের অসামান্য প্রতিভারই এক ঝলক দেখিয়েছে সে।”
রাঞ্জি ট্রফিতে এবার ৬ ম্যাচে ৬০.৩৩ গড়ে ৫৪৩ রান করেছেন পাডিক্কাল। সেমি-ফাইনালে খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ২৩২ রানের ইনিংস।
আইপিএলের গত আসরে খুব ভালো করতে পারেননি তিনি। ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান এবার শুরুটা করলেন দুর্দান্ত।