ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
Published : 10 Oct 2025, 06:40 PM
আগের ম্যাচে ভালো শুরুর পর টিকতে না পারা ইয়াশাসভি জয়সওয়াল এবার নিজেকে মেলে ধরলেন। চমৎকার ব্যাটিংয়ে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে শেষ করলেন দিন। অল্পের জন্য সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন না সাই সুদার্শান। তাদের ব্যাটে বড় সংগ্রহের শক্ত ভিত পেল ভারত।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দিল্লি টেস্টের প্রথম দিন কেবল ২ উইকেট হারিয়েছে ভারত। ৩১৮ রান নিয়ে শুক্রবার দিনের খেলা শেষ করেছে তারা।
অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে এদিন সব আলো কেড়ে নেন জয়সওয়াল। ভারতীয় ওপেনারের ২৫৩ বল স্থায়ী ১৭৩ রানের ইনিংসটি সাজানো ২২ চারে। আহমেদাবাদে ইনিংসে ব্যবধানে জেতা প্রথম টেস্টে ৩৬ রান করেছিলেন তিনি।
টেস্টে এটি জয়সওয়ালের সপ্তম সেঞ্চুরি। যার মধ্যে পাঁচবারই দেড়শ ছুঁলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। নামের পাশে ডাবল সেঞ্চুরি আছে দুটি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ ও অপরাজিত ২১৪। আরেকটি দ্বিশতকের হাতছানি তার সামনে।
টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ৮৭ রানে ফেরেন সুদার্শান। টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যানের ১৬৫ বলের ইনিংসে চার ১২টি। জয়সওয়ালের সঙ্গে তার জুটিতে রান আসে ১৯৩।
টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে দেন লোকেশ রাহুল ও জয়সওয়াল। এই সময় কিছুটা দ্রুত রান বাড়ান রাহুল, সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগোন জয়সওয়াল।
আক্রমণে এসেই ৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন জোমেল ওয়ারিক্যান। বাঁহাতি স্পিনারকে সামনে এসে খেলার চেষ্টায় টার্নে পুরোপুরি পরাস্ত হন রাহুল। ৩৮ রানে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর শুরু হয় জয়সওয়াল ও সুদার্শানের জুটির পথচলা। দারুণ ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়াতে থাকেন দুইজন। তাদের দৃঢ়তায় দ্বিতীয় সেশনে কোনো উইকেট হারায়নি ভারত।
প্রথম ৬০ বলে ২৭ রান করা জয়সওয়াল রানের গতিতে দম দিয়ে ৮২ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন। ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে যেতে তার লাগে ৬৩ বল। এই সময়ে বাউন্ডারি মারেন কেবল ছয়টি, তবে সিঙ্গেল-ডাবল নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন তিনি।
৫১তম ওভারে খ্যারি পিয়েরকে লেগ সাইডে খেলে দৌড়ে দুই রান নিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে পা রাখেন জয়সওয়াল, ১৪৫ বলে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি জয়সওয়ালের ষোড়শ শতক। সঙ্গে তার নামের পাশে আছে ১৬টি ফিফটি।
২৩ বছর ২৮৬ দিন বয়সে ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি করে চার গ্রেট ব্যাটসম্যানের পাশে বসেন জয়সওয়াল। ২৪ বছর বয়সের আগে তার সমান ৭টি করে টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ, দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ, ইংল্যান্ডের অ্যালিস্টার কুক ও নিউ জিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন।
এই বয়সে তাদের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করতে পেরেছিলেন কেবল তিন জন- অস্ট্রেলিয়ার স্যার ডন ব্র্যাডম্যান (১২), ভারতের সাচিন টেন্ডুলকার (১১) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের গ্যারি সোবার্স (৯)।
জয়সওয়াল সেঞ্চুরি ছোঁয়ার ৬ ওভার আগে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন সুদার্শান, ৮৭ বলে। ফিফটির পর জীবনও পান তিনি। জাস্টিন গ্রেভসের বলে শর্ট মিড-উইকেটে তার ক্যাচ মুঠোয় রাখতে পারেননি ওয়ারিক্যান। তখন ৫৮ রানে খেলছিলেন সুদার্শান।
একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই দুইজনের জুটিতেই দিন শেষ করবে ভারত। কিন্তু ৬৯তম ওভারে ওয়ারিক্যানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান সুদার্শান। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি।
এরপর, দিনের বাকিটা কাটিয়ে দেন জয়সওয়াল ও ভারত অধিনায়ক শুবমানের গিল। ৬৭ রানের যুগলবন্দিতে ২০ রান করে অপরাজিত আছেন গিল। ২২৪ বলে দেড়শ স্পর্শ করা জয়সওয়াল নতুন দিনে ক্যারিয়ারের তৃতীয় দ্বিশতক করতে পারেন কিনা, সেটাই এখন দেখার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ৯০ ওভারে ৩১৮/২ (জয়সওয়াল ১৭৩, রাহুল ৩৮, সুদার্শান ৮৭, গিল ২০; সিলস ১৬-১-৫৯-০, ফিলিপ ১৩-২-৪৪-০, গ্রেভস ৮-১-২৬-০, পিয়ের ২০-১-৭৪-০, ওয়ারিক্যান ২০-৩-৬০-২, চেইস ১৩-০-৫৫-০)