Published : 24 Jul 2025, 05:45 PM
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে পরস্পর ধন্যবাদ দেওয়া আর কৃতজ্ঞতা জানানোর ঢেউ বয়ে গেল। সব সদস্য দেশকে সভায় উপস্থিত করতে পারায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে কৃতিত্ব দিলেন এসিসি ও পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি। সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে দেখিয়ে হাসতে হাসতে আমিনুল বললেন, “ইটস অল অ্যাবাউট লিডারশিপ…।” যেটির মানে, নাকভির নেতৃত্বে কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।
কৃতিত্ব যারই হোক বা আড়ালে যা কিছুই ঘটুক, শেষ পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সব সদস্য দেশকে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভায় পাওয়া গেছে, এটা বড় ব্যাপার অবশ্যই। সবচেয়ে বড় দুর্ভাবনা ছিল যাদেরকে নিয়ে, সেই বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) প্রতিনিধি অনলাইনে যোগ দিয়েছেন সভায়।
তবে সবচেয়ে বড় যে সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষা ছিল, সেটি নিয়ে চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি। নাকভি জানালেন, এশিয়া কাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে দ্রুতই।
ঢাকার একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার দুপুরে এসিসির এই সাধারণ সভাটি হয়। এই প্রথম এসিসির বড় পর্যায়ের কোনো সভার আয়োজক হলো বাংলাদেশ। সভার আগে বুধবার রাতে ছিল আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য ডিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি সেখানে ফুটিয়ে তোলা হয় নানা প্রদর্শনীতে। আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ দল ও সফরে আসা পাকিস্তান ক্রিকেট দলও।
এজিএম শেষে সংবাদ সম্মেলনে মহসিন নাকভি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান বিসিবিকে। এই অঞ্চলে ক্রিকেট রাজনীতির অস্থিরতা নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে গত কিছুদিনে। বিশেষ করে এবারের এজিএম ঘিরে ছিল নানা গুঞ্জন। সেটি নিয়েই বার্তা থাকল নাকভির কথায়, যিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও।
“প্রথমত, এজিএম খুব ভালো হয়েছে। এসিসিতে আমাদের ২৫ জন মেম্বার আছে, সবাই এই সভায় যোগ দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ যারা এখানে এসেছে এবং যারা অনলাইনে যোগ দিয়েছে। আমি সত্যিই আমিনুল ভাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই তার ও বিসিবিকে তাদের আতিথেয়তার জন্য, যেভাবে তারা আমাদের দেখভাল করেছে, অসাধারণ এই দুটি দিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি এসিসির পক্ষ থেকে তাদেরকে জানাতে চাই, তারা যেভাবে সবকিছু আয়োজন করেছে।
“আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ক্রিকেটের জন্য কাজ করার। আমরা কেউই আমাদের কোনো সংস্থার ভেতরে রাজনীতি চাই না। দারুণ আবহে খুবই ভালো সভা ছিল। আশা করি, ভবিষ্যতেও এই ধরনের মিটিং করব আমরা।”

সংবাদকর্মীদের মূল কৌতূহল ছিল অবশ্য এশিয়া কাপ ঘিরে। নাকভি অনুরোধ করলেন অপেক্ষা করতে।
“এটা ঘোষণা করা হবে দ্রুতই। আমরা আলোচনা করছি বিসিসিআইয়ের সঙ্গে। আশা করি, দ্রুত সমাধান করতে পারব।”
এশিয়া কাপ নিয়ে আরেকটি প্রশ্নে আবার তার ছোট্ট উত্তর, “আমরা এটা দ্রুত ঘোষণা করব।”
এসিসির সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডের যে দূরত্ব এবং এজিএমে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে শেষ পর্যন্ত যে অনিশ্চয়তা সেটিকে বড় করে দেখতে চান না এসিসি প্রধান।
“কিছু দেশ ঢাকায় আসতে পারেনি। এটা সবসময়ই হয়। আমি সিঙ্গাপুর যেতে পারিনি, আটকে গিয়েছিলাম। এটা স্বাভাবিক বিষয়, বেশির ভাগ লোকই এসেছে। কিছু মানুষ আসতে পারেনি তাঁদের ব্যস্ত সূচির জন্য। পুরো ২৫টি দেশই ছিল, এসিসি ও বিসিবির জন্য ভালো বিষয় হচ্ছে যে, সবাই অংশ নিয়েছে।”
এশিয়া কাপ নিয়ে প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসতেই থাকে। তবে নাকভির কথা বদলায় না।
“এসিসি ও বিসসিআইয়ের বিষয় এটা। আমি আশা করি জমে থাকা বিষয়গুলো সমাধান করতে পারব এবং আশা করি এশিয়া কাপও হবে।”
“ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করুন।”