Published : 23 Jun 2026, 10:32 PM
আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে বিএনপিকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ কিন্তু বারবার বিপ্লবের সাক্ষী। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি—হয় আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।’
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর দিনে মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে এক সমাবেশে জামায়াত আমির বক্তব্য রাখছিলেন।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্র-এমপিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার চলছে।
শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে একটি মামলায়। এছাড়া প্লট দুর্নীতির কয়েকটি মামলায় সাবেক প্রধামন্ত্রীর কারাদণ্ডের রায় হয়েছে।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গেল বছর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। বিএনপি সরকারও দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
বিএনপি হত্যা, গুমের বিচার চেয়েছিল তুলে ধরে জামায়াত নেতা বলেন, “নির্বাচনের সময় তারা বলেছিলেন নির্বাচিত হলে ফ্যাসিবাদের হাতে যতগুলো খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, নির্যাতন হয়েছে, সবগুলার বিচার তারা করবে।
“ক্ষমতায় বসার পর এখন তাদের সুর পাল্টে গেছে, বিচার তো তারা করছেই না বরঞ্চ আপনারা শুনেছেন চার মাসে ছয়শতের অধিক মানুষ বাংলার মাটিতে নির্মমভাবে খুন হয়েছে “
নিজেদের হাতেই ‘নিজেদের কর্মী খুন হয়েছে’ দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, “নিজেদের কর্মীদের জন্য যাদের দায় ও দরদ থাকে না, তাহলে ২০ কোটি মানুষের জন্য কী দায় ও দরদ থাকবে?”
“ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই তারা এখন হাঁটা শুরু করেছে,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন ব্যাংকে অযাচিত হস্তক্ষেপ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের লোক বসানোসহ প্রশাসনকে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, “এমনকি তারা খেলার মাঠটা পর্যন্ত পরিষ্কার রাখতে পারলেন না। পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, হয় আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।”
সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, “আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সংসদে আমরা প্রত্যেকটি বিষয়ই সেখানে প্রতিবাদ করছি। পাঁচটি বছর সময় কীভাবে পেয়েছেন আপনারাই ভালো জানেন, দেশ ও জনগণও জানে। দুই তৃতীয়াংশ ভোট কীভাবে পেয়েছেন, এই ব্যাপারে রাজসাক্ষী ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে; আপনাদের দলের ভেতর থেকেও পাওয়া গেছে, বিগত সরকারের মধ্য থেকেও পাওয়া গেছে।
“আমরা আপনাদেরকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করব—মজলুম ছিলেন, জালেম হবেন না। মেহেরবানী করে বিচারগুলো নিশ্চিত করুন। শুধু ফ্যাসিবাদের হাতে কেন, এই রাস্তায় (বিজয়নগর কালভার্ট রোড) আমাদের কলিজার টুকরা বিপ্লবের প্রতীক শহিদ ওসমানকে হত্যা করা হয়েছে। যার বিচারও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত চার্জশিট দেওয়া হয় নাই। কাকে খুশি করার জন্য, কোন স্বার্থকে আড়াল করার জন্য এটা করা হচ্ছে—জনগণ জানতে চায়।”
‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্তৃক সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার’ বিচারের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশ আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের একজন তরুণ নেতাকে গলা কেটে স্পষ্ট দিবালোকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় হত্যা করা হয়েছে বলে সমাবেশে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “হত্যা করে মানুষকে দুনিয়া থেকে বিদায় দেওয়া যাবে কিন্তু কোনো আদর্শকে খুন করা যাবে না।”
“যদিও আপনাদের একজন সিনিয়র নেতা ঘোষণা করে দিয়েছেন—নির্মূল করবেন। অতীতে যারা নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারা নিজেরাই আজকে নির্মূল হয়ে গেছেন।”
জামায়াত আমির বলেন, “নির্মূল, নির্মূল বেশি করবেন না। এটা এক ধরনের ভাইরাস। এই ফ্যাসিবাদের ভাইরাস, চাঁদাবাজির ভাইরাস, দুর্নীতির ভাইরাস, দলীয় শাসনের ভাইরাস—এই সকল ভাইরাস মুক্ত করার জন্য আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছে।”
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হলেও ৩টা থেকেই সমাবেশস্থল এলাকায় জোটের নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন।
সমাবেশে শুরু থেকেই বক্তারা আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি করেন। কোনো-কোনো নেতা শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবিও তোলেন।
মাগরিবের আজানের কিছু সময় আগে বক্তব্য শুরু করেন শফিকুর রহমান। আজানের সঙ্গে সঙ্গে তার বক্তব্য শেষ হয়।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরে আমির মো. সেলিম উদ্দিন।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর জামায়াত দক্ষিণ কমিটির সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।