Published : 23 Jun 2026, 10:17 PM
পাবনার বেড়া উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর ও হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার সকালে বেড়া সি অ্যান্ড বি এলাকা থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়, পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যবসায়ীর স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন বেড়া মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার সরকার।
আহত মিজানুর রহমান (৪০) বেড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনজেল খানের ছেলে। তার হোটেল ও গাড়ির ব্যবসা রয়েছে।
আর সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সরদার (৩৫) সাঁথিয়া উপজেলার করমজা সরদারপাড়া গ্রামের পাশা সরদারের ছেলে।
থানায় করা অভিযোগের বরাতে পুলিশ জানায়, বেড়া পৌরসভার সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যবসায়ী দুই ভাই গোলাম মোস্তফা ও মিজানুর রহমান মার্কেট নির্মাণ করছেন। গত ১৯ জুন শ্রমিকদল নেতা রিপন তার লোকজন নিয়ে এসে দুই ভাইয়ের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দুই-তিনদিনের মধ্যে চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যান।
পরে চাঁদা না পেয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিপন সরদারসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে মিজানুর রহমানকে তুলে পার্শ্ববতী সাঁথিয়া উপজেলার করমজা বাজারের একটি অফিসে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সেখানে মিজানুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় তার হাতে থাকা প্রায় দুটি সোনার আংটি এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
পরে আহত ব্যবসায়ীকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারধরের ফলে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের হাত ও পা ভেঙে গেছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাইপ দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে অভিযোগে জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
আহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অভিযুক্ত রিপন সরদারসহ কয়েকজন তাদের পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন।
“আমাদের যৌথ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কাছে আলাদাভাবে চাঁদা দাবি করা হতো। পরে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছিল। সম্প্রতি আবার চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শ্রমিকদল নেতা রিপন সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ওরা আমাকে আগে মারছে তাই আমি মারছি। ওরা এর আগে সেনাবাহিনীর কাছে আমাকে নিয়ে অভিযোগ করে কিন্তু সেনাবাহিনী সেই অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি বরং ওদেরকে পানিশমেন্ট দেওয়া হয়েছে।
“এরপর ওর ভাই আমাকে বলছে, ভাই যা হওয়ার হয়েছে আমরা সমস্যাটা সমাধান করে ফেলি। কিন্তু ওরা এই সমস্যাটা সমাধান করেনি এবং ওরা এখনো আওয়ামী লীগ আমলের মত ভাব নিয়ে চলে।”
মারধরের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার লোকজন দুই একটা বাড়ি-বুড়ি দিয়েছে এটা নিয়ে মিথ্যা কথা বলে লাভ নাই। আর চাঁদা ও আংটির কথাটা মিথ্যা, আমি এটা নেই নাই। আর আমি এই ধরণের রাজনীতিও করি না। মূলত ওরা আওয়ামী লীগ করে বলেই আজকে এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে।”
এ বিষয়ে বেড়া মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার সরকার বলেন, “অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা আসলেই মামলা নথিভুক্ত করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”