Published : 22 Jun 2026, 06:43 PM
ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্যের আলোয় ঝলমল হান্নার সরকারের কোচিং ক্যারিয়ার। দেশের সেরা কোচদের একজন হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। এবার আরেকটু বড় চ্যালেঞ্জ নিলেন তিনি। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেলেন সাবেক এই ওপেনার।
এছাড়া যুব দলসহ বয়সভিত্তিক ও বিসিবির বিভিন্ন দল এবং হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) স্কোয়াডে ‘মেন্টর’ হিসেবে কাজ করবেন সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। অস্ট্রেলিয়ায় ইমার্জিং ও এইচপি দলের সফরে জাতীয় দলের আরেক সাবেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েসকে ‘মেন্টর’ হিসেবে দলের সঙ্গে রাখা হবে বলেও জানিয়েছে বিসিবি। দুজনই এখনও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কার্যক্রম সাধারণত চলে পরবর্তী বিশ্বকাপে তাকিয়ে। হান্নানকেও বিশ্বকাপ পর্যন্তই দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব। ২০২৮ সালে আসরটি হওয়ার কথা বাংলাদেশেই। সম্প্রতি শুরু হওয়া যুব দলের ক্যাম্প দিয়ে কাজ শুরু করবেন নতুন কোচ।
২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ১৭ টেস্ট ও ২০ ওয়ানডে খেলেছেন হান্নান। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন ২০১১ সাল পর্যন্ত। খেলা ছাড়ার পর দেশের ক্রিকেটে বিভিন্ন ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে।
প্রায় ৮ বছর বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক ও প্রধান নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। সে =ই সময়টায় বিপিএলে দুরন্ত রাজশাহী ও রাজশাহী কিংসের কোচিং স্টাফে ছিলেন, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ছিলেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ও আবাহনী লিমিটেডে। এছাড়াও জাতীয় লিগে ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগেও কোচিং করিয়েছেন।
পরে এক বছর জাতীয় নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে মেয়াদ শেষের আগেই আবার কোচিংয়ে ফেরেন মাঠের ক্রিকেটে কাজ করার অনুরাগে।
তার কোচিংয়ে গত মৌসুমে উত্তাল সময়ের মধ্যেও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয় আবাহনী। এবারের লিগে শেষ দিন পর্যন্ত শিরোপার লড়াইয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত হয় রানার্স আপ। গত বিপিএলে তার কোচিংয়ে শিরোপা জয় করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। নিলামে দল গড়া থেকে শুরু বিভিন্ন পরিকল্পনা ও দল পরিচালনা দিয়ে তুমুল প্রশংসা আদায় করে নেন তিনি।
জাতীয় পর্যায়ে এবারের আগে কাজ করেছেন তিনি অনুর্ধ্ব-১৭ দলে।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মূল লক্ষ্য থাকে সাধারণত বিশ্বকাপে ভালো ফলাফল ঘিরে। তবে হান্নানের লক্ষ্য আরও বড় ও গভীর।
“খেলোয়াড় তৈরিটাই মূল লক্ষ্য থাকবে। অনূর্ধ্ব-১৯ শেষ হওয়ার পরে অনূর্ধ্ব-২৩ বা এইচপি যেখানে যাবে, সেখানে যেন বড় রকমের সংখ্যা, মানে ৫-৭-১০ জন খেলোয়াড়, যারা বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে, এই ধরনের খেলোয়াড় তৈরিতে লক্ষ্য থাকবে। ফলাফলের দিকে নিশ্চিতভাবেই নজর থাকবে, কিন্তু মূল লক্ষ্য থাকবে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় বা আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির প্রসেসটা নিশ্চিত করা।”
যুব দলের কোচিং প্যানেলে হান্নান ছাড়াও পেস বোলিং কোচ থাকছেন ডলার মাহমুদ, ফিল্ডিং কোচ হিসেবে মোহাম্মদ সেলিম। সবশেষ যুব বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের কোচিং প্যানেলে ছিলেন তারা দুজন।
ট্রেনার থাকছেন মোর্শেদ হাসান সিজার, ফিজিও সাইফউদ্দিন আহমেদ ও পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট হিসেবে থাকবেন সানদিপ কুমার।
গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নাভিদ নাওয়াজের কোচিংয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। ২০২০ যুব বিশ্বকাপের শিরোপা ধরা দিয়েছিল এই শ্রীলঙ্কানের কোচিংয়েই।
এখন আবার দেশি কোচদের ওপরই ভরসা রাখা হচ্ছে। তাদেরকে মেলে ধরার সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ, বললেন বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ রব্বানি।
“আমাদের মূল পরিকল্পনা, তাদেরকে (দেশি কোচ) এক্সপোজার দেওয়া, যেখানে তাদের সুযোগ থাকবে বিকশিত হওয়ার। সেই কারণে যারা আমাদের আন্তর্জাতিক তারকা ছিলেন আগের, তাদেরকে আমরা বিভিন্ন কোচিং রোলে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছি আগামীতে।”