Published : 07 Jun 2026, 11:02 PM
‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বা এই ধরনের নানা তকমার জবাব কথায় নয়, কাজেই দিতে চান তামিম ইকবাল। বিসিবি সভাপতির পদকে বিশাল দায়িত্ব মনে করেন তিনি। দেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করেই প্রমাণ দিতে চান সাবেক এই অধিনায়ক। বিসিবি নির্বাচন সুন্দর ও মসৃণভাবে হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন আগের পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় গত ৭ এপ্রিল। সেই কমিটিতে জায়গা পান সরকারী দল বিএনপি সংশ্লিষ্ট অনেকেই, তাদের মধ্যে কয়েকজনের বাবা মন্ত্রী ও সাংসদ। পরদিনই জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত বলেন, “বিসিবি এখন আর ক্রিকেট বোর্ড নেই, সেটি বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়েছে।”
একই ধরনের নানা আলোচনা, সমালোচনা ও ট্রল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমেও। রোববার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে জিতে পরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হন তামিম। এই পরিচালনা পর্ষদেও সরকারী দল সংশ্লিষ্ট অনেকেই আছেন।
নির্বাচিত সভাপতি হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তামিমকে জিজ্ঞেস করা হলো ‘বাপের দোয়া’ ক্রিকেট বোর্ড ও এই ধরনের নানা সমালোচনা নিয়ে। তামিম উত্তর দিলেন ছোট্ট করে।
“অবশ্যই অনেকে অনেক ধরনের ট্যাগ দিচ্ছে। এটা অবশ্যই তাদের ব্যক্তিগত মতামত। দেখি, বাপের দোয়া থেকে ক্রিকেটের দোয়া করতে পারি কি পারি না ভবিষ্যতে।”
“এখন যা হয়েছে, যা হয়ে গেছে, ওসব নিয়ে আসলে যত বেশি আলোচনা করব, এটার কোনো মূল্য নেই। আমি আশা করি, যে স্বপ্ন দেখেছি, যে কারণে আমি গত দেড় বছর, দুই বছর বা তার আগের থেকেই একটা জার্নিতে ছিলাম, ওই জার্নিটা আমি যেন এখন পূরণ করতে পারি। এটাই হলো সবচেয়ে বড় কথা। চার বছরের যে দায়িত্ব আছে, এই চার বছরে এমন কোনো কিছু করে দিয়ে যেতে পারি বাংলাদেশ ক্রিকেটে, সেসব যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য লাভজনক হয়।”
বিসিবি নির্বাচনে এবার অনিয়মের অভিযোগ তেমন একটা ওঠেনি। মূল অভিযোগের জায়গা ছিল ওই সরকারী দল সংশ্লিষ্টদের আধিক্য নিয়েই। নির্বাচন যথেষ্ট স্বচ্ছ হয়েছে বলেই দাবি করলেন তামিম।
“আমি যে ক্যাটাগরি (ক্লাব) থেকে নির্বাচন করেছি, এখানে প্রচন্ড লড়াই হয়েছে। একজন এক ভোটের কারণে পরিচালক হতে পারেনি, এটাই বলে দেয় কতটা লড়াই হয়েছে। আমাকে বিভিন্নজন বিভিন্ন সময় বলেছে যে, আমরা প্যানেল ঘোষণা করি। কিন্তু প্যানেল ঘোষণা করলে এটা একদম ওয়ান সাইডেড হয়ে যেত। এখানে ১৬ জন প্রার্থী এবং সবাইকে ফেয়ার চান্স দিতে চেয়েছি। উনারাও কিন্তু ওই জিনিসটা বিশ্বাস করেন যে, সবাই সমান সুযোগ পেয়েছে।”
“আমি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ছিলাম, কিন্তু জেলা-বিভাগের কাউন্সিলর তো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। এসব নিয়ন্ত্রণ করেন জেলা প্রশাসকরা। উনারা কাকে কাউন্সিলরশিপ দেবেন না দেবেন, উনাদের ব্যাপার। নির্বাচন পরিচালনা করেছে নির্বাচন কমিশন। আমি এতটুক আপনাদেরকে বলতে পারি, আমার তরফ থেকে যতটুকু ফেয়ার থাকার দরকার ছিল, আমি চেষ্টা করেছি পুরোপুরিভাবে জিনিসটা করার। নির্বাচন আমারে কাছে মনে হয় ভেরি নাইস এন্ড স্মুথলি হয়েছে।”
নির্বাচনের আগেই তামিম একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, পরিচালকদের সবাই যেন ব্যক্তিগত পরিচয় গেটের বাইরে রেখে মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। সভাপতি হওয়ার পরও সেটিই মনে করিয়ে দিলেন তিনি আবার।
“কয়েকদিন আগেও একটা কথা বলেছি যে, ব্যক্তিগত পরিচয় আমার জন্য ম্যাটার করে না, আমার জন্য ম্যাটার করে যে মানুষের কী ইনটেনশন। আমাদের ২৫ জন পরিচালক যদি ঠিক থাকে আর এক পথে থাকে, এটাই আমাদের এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটের দরকার। গত এক-দেড় বছর, দুই বছরে প্রচন্ড পরিমাণ নেতিবাচকতা, অনেক কিছুরই মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। আমি মনেপ্রাণে আশা করি, আজকের পর আমরা একটা ইতিবাচকভাবে সামনে এগোতে পারব।”
ক্রিকেট প্রশাসনে কাজ করার ইচ্ছে তার অনেক আগে থেকেই। সভাপতি হয়ে বাড়তি রোমাঞ্চ নয়, বরং বড় দায়িত্বের ভার অনুভব করছেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
“আমার পরিকল্পনা আর স্বপ্ন অনেক বছর ধরেই ছিল। এমনকি আমার খেলোয়াড়ি জীবনেও। হয়তো প্রেসিডেন্ট হব, এভাবে করে নয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি এই জায়গায় একটা ডিফারেন্স আনতে পারব। যেটা আমাকে এখন প্রমাণ করতে হবে। কাজেই এটা একটা প্রসেসের মধ্যেই ছিল।”
“অনুভূতি মানে… এটা একটা দায়িত্ব। বাড়তি কোনো অনুভূতি নেই যে এখন কিছু হয়েছি বা বড় কোনো কিছু হয়ে গিয়েছি। আমার কাছে মনে হয় যে, এটা বিশাল দায়িত্ব। যেহেতু নানা সময়ে এসব নিয়ে অনেক কথা বলেছি যে এটা করতে চাই, ওটা করতে চাই। এখন সবার কাছে সেসব প্রমাণের সময় এসেছে।”
সেই প্রমাণের পথটা যে কঠিন, সেটিও জানেন তামিম। তবে দেশের ক্রিকেটকে পথে ফেরানোর প্রত্যয় শোনা গেল তার কণ্ঠে।
“দায়িত্বগুলো খুব ভালো করে জানি যে খুব সহজ নয়। সামনে অনেক কঠিন পথ আসবে। আমরা ভুল করব, ভুল থেকে শিখব ও সঠিক কাজ করব। এটাই আমাদের করা উচিত আর আমরা তা করবো। কিন্তু ক্রিকেটারদের যতটুকু সম্মান করা দরকার, শুধু বর্তমান ক্রিকেটার নয়, সব সাবেক ক্রিকেটার ও বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতিটি স্টেকহোল্ডাকে সম্মান করা হবে। গত এক-দেড় বছরে এখানে একটু ঘাটতি ছিল। এই জিনিসগুলো আমাদের ঠিক করতে হবে।”