Published : 25 Apr 2026, 05:20 PM
বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ড তৃতীয় ওয়ানডের আগের দিনের ঘটনা। চট্টগ্রামে বাংলাদেশের অনুশীলনের প্রায় পুরোটা সময় মাঠের এক পাশের প্রান্তের নেটে শুধু রিশাদ হোসেনকে নিয়েই কাজ করেন মুশতাক আহমেদ। তরুণ লেগ স্পিনারের রান আপ, ডেলিভারি স্ট্রাইডে হাত ও কাঁধের অবস্থান, রিলিজ পয়েন্ট, অনেক কিছুই ঠিকঠাক করে দিতে দেখা যায় তাকে। লম্বা সেশন শেষে ফিরে যাওয়ার শিষ্যর দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশের স্পিন কোচ বলছিলেন, “এই রকম সেশনই দরকার। এরকম পরিশ্রম করতে হবে। এগুলোওই সত্যিকারের কাজে লাগে…।”
স্পিন বোলিং কোচ স্পিনারদের নিয়ে কাজ করবেন, সেটা স্বাভাবিক ঘটনা এবং চলমান প্রক্রিয়াই। তবে সিরিজের মাঝে এমন লম্বা সেশনে নিবিড়ভাবে কাজ করার ব্যাপারটিই বলে দিচ্ছিল, বিশেষ কিছু একটা নিয়ে কাজ চলছে। মুশতাক নিজেই এবার খোলাসা করলেন তা।
খেলোয়াড়ি জীবনে মুশতাক অসাধারণ গুগুলি করতেন। তার গুগলিতে বিভ্রান্ত হয়েছে বিশ্বের বাঘা বাঘা অনেক ব্যাটসম্যান। রিশাদের গুগলিও তিনি নিতে চান সেই পর্যায়ে।
এমনিতে রিশাদ গত কিছুদিনে নিয়মিতই গুগলি ব্যবহার করছেন। এই ডেলিভারিতে ব্যাটসম্যানকে বিপাকে ফেলছেন, উইকেট নিচ্ছেন। তবে এই অস্ত্রটি এখনও তার মারণাস্ত্র হয়ে ওঠেনি বলেই মনে করেন মুশতাক। দুজনের সাধনা চলছে এখন গুগলি ক্ষুরধার করা নিয়েই।
“নানা ধরনের বৈচিত্র্য, ক্রিজ ব্যবহার করা (এসব নিয়ে কাজ চলছে)। তার গুগলির জন্যও… তার গুগলির আরও কিছুটা উন্নতি করতে হবে। যেমন গুগলির অ্যাঙ্গল, ডানহাতিদের জন্য কোন দিকে বল করতে হবে, স্টাম্পের কাছ ঘেষে নাকি স্টাম্পের দূর থেকে। মৌলিকভাবে শক্তিশালী, ‘রিপিটেবল’ অ্যাকশন দিয়ে ক্রিজ ব্যবহার করা… সবসময় যে কথাটি আমি ব্যবহার করি। আমি মনে করি, একজন লেগ স্পিনারের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।।”
“আপনারা জানেন, লেগ স্পিনাররা অনেক সময় খরুচে হতে পারে। তাই আমরা তার অ্যাকশন নিয়ে কাজ করতে চাই, যাতে সে নিখুঁত হতে পারে। সে যেন শুধু ভালো ডেলিভারি করার চেয়ে ভালো ওভার করতে পারে। তার অনেক উন্নতি হয়েছেও।”
চট্টগ্রামে ওই বোলিং সেশনের পরদিন সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের একাদশে রাখা হয়নি রিশাদকে। তবে সেটিকে ‘বাদ’ পড়া মানতে নারাজ মুশতাক। বরং ২৩ বছর বয়সী লেগ স্পিনারের মানসিকতা পোক্ত করা ও দলের স্পিন গভীরতা বাড়ানোর প্রয়াসেই সেটিকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলছেন তিনি।
“আমার মনে হয়, এটা তার (রিশাদের) অগ্রগতিরই একটা অংশ। মাঝেমধ্যে বাইরে বসে থাকলে মানসিকতা কেমন থাকে! তার মনকে শক্তিশালী করে তোলা কোচ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানেই হলো দারুণ টেম্পারমেন্ট থাকা। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি এটা মনস্তাত্ত্বিক খেলা। কারণ স্কিল কাউকে এখানে নিয়ে আসতে পারে, কিন্তু এখানে মানসিকতা দিয়ে টিকে থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টিকে থাকতে হলে শক্তিশালী মানসিকতা থাকতে হবে।”
“তাই আমি মনে করি, রিশাদের ক্ষেত্রে একজন কোচ হিসেবে এটা আমাদের এবং আমার দায়িত্ব তাকে মানসিকভাবে আরও শক্ত করে তোলা। তাকে তো বাদ দেওয়া হয়নি। গত ওয়ানডেতে সে খুব ভালো বোলিং করেছে, কিন্তু আমরা অন্য স্পিনারদেরও আরও শক্তিশালী করতে চাই। তাই যখন কিছু ঘটে, তখন আমরা সব স্পিনারদেরই কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ দিই। হ্যাঁ, এটা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব যে, যখন কেউ খেলছে না, তখন তারা যেন মানসিকভাবে খুব ইতিবাচক থাকে।”
রিশাদের গুগলির ধার কতটা বাড়ছে, তা বোঝা যাবে শিগগিরই। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু সোমবারই।