Published : 15 Sep 2025, 12:56 PM
পাকিস্তান দল বাজে পারফর্ম করলে কথার তোপ দাগাতে কখনোই পিছপা হন না সেখানকার সাবেক ক্রিকেটাররা। সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ আছে এবারও। তবে এবার তীড় ছুড়ছেন তারা ভারতের দিকেও। এশিয়া কাপের ম্যাচে হাত না মেলানোর ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেটারদের ওপর বেজায় চটেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকে।
এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটিতে রোববার পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারায় ভারত। তবে মাঠের ক্রিকেট ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন সুরিয়ারকুমার ও তার দলের অন্য ঘটনা। টসের সময় পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগার সঙ্গে হাত মেলাননি ভারতীয় অধিনায়ক। ম্যাচের পরও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাননি ভারতীয়রা।
প্রতিবাদে পরে পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন বয়কট করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। সংবাদ সম্মেলনে হতাশা প্রকাশ করেন তাদের কোচ মাইক হেসন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়, টসের সময় দুই অধিনায়ককে করমর্দন করতে না করায় ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে তারা।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সুরিয়াকুমার এই জয় উৎসর্গ করেন ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে এবং সংহতি প্রকাশ করেন গত এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার শিকারদের পরিবারের সঙ্গে।
প্রেক্ষাপট যেমনই হোক, উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে এই ঘটনা। বিতর্কের ঝড়ও শুরু হয়ে গেছে।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রাশিদ লাতিফ সামাজিক মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আইসিসির।
“হ্যাঁ, আপনারা ভারতীয় ক্রিকেট, আপনারা বিশ্বের সেরা দল। তবে খেলা শেষে হাত না মেলালোয় আপনাদের আসল রূপ ফুটে উঠেছে। পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা অপেক্ষা করছিল, কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটাররা ড্রেসিং রুমে চলে যায়। আইসিসি কোথায়?”
সাবেক এই কিপার-ব্যাটসম্যান পরে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বললেন, ভারতের এই পদক্ষেপের জের অনেক দীর্ঘ হবে।
“দুই দেশের মধ্যে আগেও যুদ্ধ হয়েছে। তবে কখনোই আমরা হাত মেলানো বাদ দেইনি। এবারের ঘটনার দাগ অনেক দিন রয়ে যাবে। আমরা দেশের জন্য খেলি। তবে আজকে যা হয়েছে, মোটেও ঠিক হয়নি।”
“আপনাদের অস্বস্তি যৌক্তিক হতে পারে। তবে মাঠে নামার পর সঠিক পথেই খেলা উচিত। পেহেলগাম হামলার জন্য পাকিস্তান দায়ী হয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করুন। ভারতের উচিত ছিল সঠিক পথে লড়াই করা, কিন্তু সেটিও তারা ঠিকভাবে করতে পারেনি। তাদের এভাবে সরে যাওয়া উচিত হয়নি।”
পারফরম্যান্সের জন্য ভারতের প্রশংসা করছেন শোয়েব আখতারও। তবে হাত না মেলানোর ব্যাপারটি মানতে পারছেন না সাবেক এই ফাস্ট বোলার।
“আমি সত্যি বলতে ভাষাহীন হয়ে পড়েছি। এরকম কিছু দেখাটা হতাশাজনক এবং জানি না কী বলব। ভারতকে টুপি খোলা অভিনন্দন… স্রেফ বলব, এই ব্যাপারগুলো রাজনৈতিক বানিয়ে ফেলবেন না। এটা তো ক্রিকেট ম্যাচ, এটাকে রাজনীতিময় করবেন না।”
“আমরা তো আপনাদেরকে নিয়ে ভালো ভালো কথাই বলছি। হাত না মেলানো নিয়ে অনেক কিছু বলতে পারি। লড়াই-বিবাদ তো হয়েই থাকে, ঘরের মধ্যেও ঝগড়া হয়। ভুলে যান এসব, সামনে তাকান। এটা তো স্রেফ ক্রিকেট খেলা। হাত মেলান, মাধুর্য মেলে ধরুন।”
নিজ দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে নানারকম বিতর্কিত কথা বলতে যিনি দ্বিধা করেন না, সেই বাসিত আলি এবার ধুয়ে দিয়েছেন ভারতকে। সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান প্রশ্ন রাখলেন আইসিসির প্রধান ও ভারতীয় বোর্ডের সাবেক কর্তা জয় শাহর কাছে।
“এটা তো এশিয়া কাপ, তাই না? আইসিসি আসর যখন হবে, বিশ্বকাপে যদি এরকম হয়, তখন আইসিসির প্রধান কী বলবে? সে তো একজন ভারতীয়! এটা ভাবার ব্যাপার। হাত না মেলালে কি আপনি নায়ক হয়ে যাবেন? মোটেও না।”
“ক্রিকেটকে যে বোঝে, অনুধাবন করতে পারে, যারা ক্রিকেট নিয়ে লিখে, তারা কখনও এসবকে স্বাগত জানাবে না। আমি যদি পাকিস্তানি নাও হই, ইংলিশ-অস্ট্রেলিয়ান হলেও এসবের প্রশংসা করব না।”
পাকিস্তানের সাবেক কিপার-ব্যাটসম্যান কামরান আকমল বললেন, এমন কিছু তিনি আগে কখনও দেখেননি। তার মতে, ভারতীয় ক্রিকেটারদের বাধ্য করা হয়েছে এসব করতে।
“জীবনে প্রথমবার এরকম দেখলাম যে টসের সময় হাত মেলায়নি। ম্যাচের পর করমর্দন হয়নি। এসবে ক্রিকেটের ভালো কিছু হচ্ছে না। এতে ভালো কিছু হবে না, আরও খারাপের দিকে যাবে।”
“বেচারা ক্রিকেটারদের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে এসবে। এটা খুবই নিচু কাজ, খুবই নিচু কাজ। ওই বেচারাদের বাধ্য করা হয়েছে এসব করতে।”
গ্রুপ পর্বের পর সব ঠিক থাকলে সুপার ফোর পর্বেও দেখা হবে এই দুই দলের। দেখা হতে পারে ফাইনালেও।