Published : 15 May 2026, 10:30 PM
আরেক দফায় বৃষ্টি হানা দিয়েছে তখন। ব্যাট-বল রেখে সবাই ড্রেসিং রুমের পথে ছুটছেন। কিন্তু নাঈম হাসান যেন নেট ছেড়ে আসতেই চাচ্ছিলেন না। আরও দুটি ডেলিভারি তিনি করলেন ফাঁকা নেটে। এরপর বৃ্ষ্টি মাথায় নিয়ে ছুট দিলেন।
ওই যে বাড়ি দুটি ডেলিভারি করা, নেটে ঘাম ঝরানো, আপাতত এসবেই সীমাবদ্ধ নাঈমের জাতীয় দলের অধ্যায়। একাদশে তার সুযোগ হচ্ছে না। সিলেট টেস্টেও তার খেলার কোনো সম্ভাবনা নেই। সবশেষ সিরিজে দারুণ বোলিং করা একজন ক্রিকেটারের জন্য এটা মেনে নেওয়া কঠিন বটে। তবে সত্যিটা হচ্ছে, তার সুযোগ পাওয়ার সুযোগ আপাতত নেই। সেই বাস্তবতা তুলে ধরেই ক্রিকেটের বিখ্যাত একটি উদাহরণ তুলে ধরলেন মুশফিকুর রহিম। নাঈমকে প্রেরণা জোগাতে মুত্তিয়া মুরালিদারান ও রাঙ্গানা হেরাথের ক্যারিয়ারের নজির টেনে আনলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
নাঈমের টেস্ট অভিষেক সেই ২০১৮ সালে। বয়স তখন মোটে ১৮। টেস্ট অভিষেকে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। কিন্তু এই সাড়ে সাত বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে খেলতে পেরেছেন মোটে ১৪ টেস্ট। পারফরম্যান্স খারাপ নয়। উইকেট নিয়েছেন ৪৮টি।
সবশেষ খেলেছেন তিনি গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে। প্রথম টেস্টে এক ইনিংসে ৫টিসহ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। পরের টেস্টে ৩টি। এমন পারফরম্যান্সের পরও আর সুযোগ মেলেনি।
তার সুযোগ আসত, যদি দেশের মাঠে এখন তিন স্পিনার নিয়ে খেলত বাংলাদেশ। কিন্তু দেশের মাঠেও এখন স্পোর্টিং উইকেটের কৌশল বেছে নিয়েছে দল। সেখানে অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে খেলছেন তাইজুল ইসলাম। সেখানে নাঈমকে খেলানোর সুযোগ আসলেই আপাতত নেই।
বিশ্ব ক্রিকেটে এমন নজির যে কম নেই, নাঈমের প্রসঙ্গে সেটিই বললেন মুশফিক। সেখানেই বললেন বাংলাদেশের সাবেক স্পিন কোচ লঙ্কান গ্রেট রাঙ্গানা হেরাথের কথা।
“এটা আসলে নাইমের ক্ষেত্রে যদি নির্দিষ্ট করে বলেন, এটা শুধু বাংলাদেশ দলে নয়। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এরকম একজন-দুজন ক্রিকেটার থাকে… হয়তো এমন কোনো (খারাপ) পারফরম্যান্সও করে না, যে কারণে তারা দলের বাইর। কিন্তু কোনো অপশন বা কম্বিনেশনের কারণে তারা দলের বাইরে থাকে।”
“মুরালিদারান যখন ৮০০ উইকেট পেয়েছে, রাঙ্গানা হেরাথ জীবনেও চিন্তা করেনি সে চারশর বেশি উইকেট পাবে। তিনি যদি চিন্তা করতেন যে, শুধু খেলেই যাচ্ছে, কোনোদিন সুযোগ আসবে না, তাহলে তো হতো না।”
কিংবদন্তি মুরালিদারান ছিলেন বলে ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় সুযোগ খুব বেশি পাননি হেরাথ। ২০১০ সালে মুরালিদারান যখন শেষ টেস্ট খেলেন, হেরাথের তখন ২২ টেস্ট খেলে উইকেট ৭১টি। ৫ উইকেট নিতে পেরেছিলেন ৪ ইনিংসে। তার বয়স ততদিনে পেরিয়ে গেছে ৩২।
সেই হেরাথ পরে ক্যারিয়ার শেষ করেছেন টেস্ট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে। ৯৩ টেস্টে উইকেট তার ৪৩৩টি। ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন মোট ৩৪ বার, ম্যাচে ১০ উইকেট ৯ বার।
মুশফিকের বিশ্বাস, নাঈমও ঠিকই পরিশ্রম আর নিবেদন দিয়ে নিজের জায়গা করে নেবেন।
“ওর (নাঈম) হাতে যেটা আছে, আমি যেটা দেখে সত্যিই সন্তুষ্ট যে দিনের পর দিন নিজের কাজটা করে যাচ্ছে, কীভাবে বোলিংয়ে আরও নিজের ধারটা বাড়াতে পারে এবং ব্যাটিংয়ে আরও কীভাবে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করতে পারে। এসব দেখে আমি মুগ্ধ।”
“ওর জন্য ব্যাপারটি কঠিন। কারণ ভালো খেলেও দলের বাইরে থাকলে বাড়তি তাড়না নিয়ে কাজ করা কঠিন। তবে সে খুব ভালো ছেলে, ভালো মানুষ, যে সবসময় চিন্তা করে যে কীভাবে উন্নতি করা যায়। আমি নিশ্চিত, সময়ের সঙ্গে নাঈম অনেক উন্নতি করবে এবং আমি মনে করি, নিজের জায়গাটা নিজেই বানিয়ে নিতে পারবে একদিন।”