Published : 21 Apr 2026, 11:24 AM
ড. জেকিল অ্যান্ড মি. হাইডের সেই গল্পের মতোই যেন, এক ইনিংসে তিলাক ভার্মা দেখালেন নিজে দুটি চেহারা। যে দুই রূপ পুরোপুরি বিপরীত। শুরুতে তিনি একদম শান্ত, নিস্তরঙ্গ। পরের সময়টায় তিনি এমনই রুদ্ররূপে আবির্ভূত হলেন যে, ব্যাটিং তাণ্ডবে গড়ে ফেললেন রেকর্ড।
আইপিএলে সোমবার গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ৯৯ রানের জয়ের ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন তিলাক। পাঁচ নম্বরে নেমে আট চার ও সাত ছক্কায় অপরাজিত থাকেন তিনি ৪৫ বলে ১০১ রান করে।
ইনিংসটির এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, তিনি ভুলেই গেছেন খেলাটি টি-টোয়েন্টি। সেই তিনিই পরে দেখালেন টি-টোয়েন্টি কাকে বলে। প্রথম ২০ বলে তার রান ছিল ১৭। পরের ২৫ বলে করেন ৮৪ রান!
প্রথম ২০ বলের সঙ্গে পরের সময়টায় তার ইনিংসের স্ট্রাইক রেটের পার্থক্য ২৫১। আইপিএলে যা রেকর্ড।
আগের রেকর্ডটি পেছন ফেলেছেনতিনি অনেক ব্যবধানে। ২০২৪ আসরে গুজরাটের বিপক্ষেই ৪১ বলে শতরানের পথে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে উইল জ্যাকস প্রথম ২০ বলে করেছিলেন ২৭ রান, পরের ২১ বলে করেন তিনি ৭৩।
এ দিন ১৪ ওভার শেষ তিলাকের রান ছিল ১৯। পরের ৬ ওভারে করেন তিনি ৮২ রান। আইপিএলে এটিও রেকর্ড।
শেষ ৬ ওভারে আগের সর্বোচ্চ ছিল কুইন্টন ডি ককের। ২০২২ আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্সে ১৪০ রানের ইনিংসে শেষ ৬ ওভারে করেছিলেন তিনি ৮০ রান।
শেষ ৪ ওভারে তিলাক করেছেন ৬৪, আইপিএলে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৬৮ রানের রেকর্ড এখানে টিম ডেভিডের।
প্রথম ২০ বলে কোনো বাউন্ডারি না মেরেও পরে শতরানের নজির তিলাকের আগে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আছে সেফ আর একটি। ২০২১ সালে বিগ ব্যাশে পার্থ স্কর্চার্সের হয়ে অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে প্রথম ৩২ বলে ২১ রান করা কলিন মানরো পরে অপরাজিত থাকেন ৭৩ বলে ১১৪ রান করে।
পাঁচ বা এর নিচে নেমে আইপিএলে শতরান করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান তিলাক। তার আগে এই স্বাদ পেয়েছেন ডেভিড মিলার, ইউসুফ পাঠান ও বেন স্টোকস।
তিলাকের ১০১ রানের ইনিংসে মুম্বাই ২০ ওভারে তোলে ১৯৯ রান। রান তাড়ায় গুজরাট আটকে যায় ১০০ রানে। গোটা দল মিলেও করতে পারেনি তিলাকের সমান রান।
এই প্রথম মুম্বাইয়ের কোনো ব্যাটসম্যান একাই প্রতিপক্ষের সবার চেয়ে বেশি রান করলেন। সব দল মিলিয়ে আইপিএলে এমন নজির আছে মোট ৯টি। ক্রিস গেইল একাই করেছেন দুই দফায়।
তিলাকের ৪৫ বলের এই সেঞ্চুরি মুম্বাইয়ের হয়ে আইপিএলে দ্রুততম শতরানের রেকর্ডও। সেই ২০০৮ আসরে ৪৫ বলে সেঞ্চুরির যে রেকর্ডটি গড়েছিলেন সানাৎ জায়াসুরিয়া, এত দিনে তা স্পর্শ করতে পারলেন কেউ।