Published : 01 Jun 2026, 08:29 PM
গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তৃতীয় পেসার নিয়ে ছিল খানিকটা দোটানা। মিরপুরে প্রথম টেস্টে এই ভূমিকায় ছিলেন ইবাদত হোসেন, সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে শরিফুল ইসলাম। অনেকেরই তখন মনে পড়েছে আরেকজনের কথা। হাসান মাহমুদ কোথায়!
ফিট থাকলে হাসান নিশ্চিতভাবেই থাকতেন ওই সিরিজে। কিন্তু ডান হাতের কনুইয়ের চোটে লম্বা সময় ধরেই দলে নেই এই পেসার। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে টানা চার সিরিজে তিনি ছিলেন দর্শক। তার সেই অপেক্ষা, বাংলাদেশের ক্রিকেটের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে। পুরো ফিট হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরছেন এই পেসার।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে নাহিদ রানা, তাসাকন আহমেদের দারুণ বোলিং পারফরম্যান্সের পরও হাসানের অভাবটা টের পেয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেটি ছিল অনুমিতই। নতুন বলে যেমন দুই দিকে সুইং করাতে পারেন, তেমনি পুরোনো বলেও দলের ভরসার নাম তিনি। সেই প্রমাণ রেখেছিলেন ২০২৪ সালের পাকিস্তান সফরে।
পাকিস্তানকে সাদা পোশাকে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করার সেই সিরিজে হাসান দারুণ বোলিং করেছিলেন হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার ইনিংসে ৫ উইকেটের স্বাদ পেয়েছিলেন রাওয়ালপিন্ডিতে, সিরিজে নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। পরের সিরিজে ভারতের বিপক্ষেও ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন চেন্নাইয়ে।
ক্রমে তিনি হয়ে ওঠেন কার্যকর এক বোলার।
নিয়মিত মুখ সেই হাসান গত তিন মাস ছিলেন না জাতীয় দলের আশেপাশে। কনুইয়ের চোটের কারণে লম্বা সময় ধরে মাঠের বাইরে। এই বছর দেশের হয়ে মাঠে নামতে পারেননি এখনও। চোটে পড়ার আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) একদিনের ম্যাচের আসরে পূর্বাঞ্চলের হয়ে তিন ম্যাচে শিকার করেন পাঁচ উইকেট। তাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়াটা ছিল অনেকটাই নিশ্চিত। কিন্তু চোট তাকে ছিটকে দেয় বাইরে।
মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তিনি খেলতে পারেননি। পরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও তাকে পায়নি দল। সতীর্থরা যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত, হাসান তখন লড়াই করছেন চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে। টানা পাঁচ আন্তর্জাতিক সিরিজ ও ঢাকা লিগের প্রথম সাত রাউন্ড তিনি খেলতে পারেননি।
অবশেষে তার সেই লড়াই শেষ হচ্ছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মঙ্গলবার লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে মাঠে নামবেন ২৬ বছর বয়সী পেসার।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বললেন, পুরোপুরি ফিট হয়ে তবেই ফিরছেন মাঠে।
“গত ১০ তারিখ (মে) আমার রিহ্যাব শেষ হয়েছে। এরপর থেকে আস্তে আস্তে ওয়ার্কলোড মেনে ফুল রিদমে ফিরেছি। আপাতত বাধা নাই। এখন ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি আর টেস্ট, যেটাই হোক, পুরো ফিট হয়ে খেলতে পারব। (ম্যাচ) খেলি না খেলি, প্রতি সপ্তাহে ২৫-৩০ ওভার বোলিং করতে হবে।”
এই ম্যাচের আগে সোমবার মিরপুরে দলের সঙ্গে অনুশীলন করেন হাসান। পাশাপাশি একাডেমি ভবনে লম্বা সময় কাটাস জিমে।
জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খানও জানান একই কথা। হাসানের মতো আপাতত অন্য পেসারদেরও ঢাকা লিগে খেলতে কোনো বাধা নেই। ঈদের ছুটিতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেয়েছেন সবাই, ওয়ার্কলোডের দিক থেকে তাই আপাতত কোনো সমস্যা নেই।