Published : 29 Jul 2025, 05:10 PM
সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে শেষ টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়ায় হতাশা লুকালেন না ন্যাথান লায়ন। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্তের কারণ বুঝতে পারছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ অফ স্পিনার।
ক্যারিবিয়ান সফরে জ্যামাইকায় দিবা-রাত্রির টেস্টে লায়নকে একাদশ থেকে বাদ দেয় অস্ট্রেলিয়া। চোট সমস্যা ছাড়া ২০১৩ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট একাদশের বাইরে থাকতে হয় তাকে। তার জায়গায় স্কট বোল্যান্ডকে নিয়ে স্যাবাইনা পার্কে গোলাপি বলের লড়াইয়ে চার পেসারের একাদশ সাজায় অস্ট্রেলিয়া।
তারপর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার মেলবোর্নে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একাদশ থেকে বাদ পড়ার হতাশা যেমন লুকালেন না, তেমনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিচেল স্টার্কের শততম টেস্টের সঙ্গী হতে না পারার আক্ষেপের কথাও বললেন লায়ন।
“লুকানোর কিছু নেই, সিদ্ধান্তটি নিয়ে আমি হতাশ হয়েছিলাম, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বুঝতে পেরেছি আমি। কয়েকটি ক্ষেত্রে হতাশ ছিলাম: এক, আমি বিশ্বাস করি, যে কোনো কন্ডিশনে আমি ভূমিকা রাখতে পারি এবং এখনও সততার সঙ্গে তা বিশ্বাস করি। তারপর সত্যি বলতে, অন্যটি ছিল স্টার্সির (স্টার্ক) সঙ্গে মাঠে নামতে না পারা। স্টার্সির সঙ্গে ৯০টিরও বেশি টেস্ট খেলেছি আমি, তাই তার শততম টেস্টে তার সঙ্গে মাঠে নামতে পারলে অসাধারণ হতো। কিন্তু তারপরও আমি সেখানে ছিলাম, পানি টেনেছি এবং এর অংশ ছিলাম।”
“আমি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলতে চাই এবং আমার বিশ্বাস আছে, যে কোনো কন্ডিশনে আমি ভূমিকা রাখতে পারি, প্রতিটি ক্রিকেটারের এই বিশ্বাস থাকা উচিত।”
ক্যারিবিয়ান সফরে পেস সহায়ক উইকেটে প্রথম দুই টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখেন লায়ন। তৃতীয় টেস্টে তার জায়গায় সুযোগ পাওয়া বোল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে করেন হ্যাটট্রিক। দ্রুততম পাঁচ উইকেটের রেকর্ডসহ ৯ রানে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক। তাদের তোপে পড়ে টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ২৭ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
“দিন শেষে আমরা তাদের অভিনন্দন জানাতে পারি, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যদি আমি কোনো ম্যাচ খেলতে না পারি, তাহলে স্কট বোল্যান্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি, যাকে পারফর্ম করতে দেখতে চায় সবাই। তার জন্য সেখানে গিয়ে নিজের মতো বোলিং করা, যেমনটি সে সবসময় করে, হ্যাটট্রিক করা ছিল বিশেষ কিছু। ওদের ২৭ রানে অলআউট করতে দেখাটা ছিল অসাধারণ।”
লায়নকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও অস্ট্রেলিয়ার চার পেসারের দাপট স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে যে, বছরের শেষ দিকে অ্যাশেজ সিরিজেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে কি-না।
ক্যারিবিয়ানে লায়নকে বাদ দেওয়ার পেছনে কারণ ছিল, ২০২২ অ্যাশেজে হোবার্টে গোলাপি বলের টেস্টে তিনি একটি ওভারও বোলিং করেননি। গত বছর অ্যাডিলেইডে ভারতের বিপক্ষে গোলাপি বলের টেস্টে তিনি বোলিং করেন স্রেফ এক ওভার।
১৩৯ টেস্টে ৫৬২ উইকেট শিকারি ৩৭ বছর বয়সী লায়নের বিশ্বাস, অ্যাশেজের পাঁচ টেস্টেই খেলতে পারবেন তিনি, বিশেষ করে প্রথম তিন টেস্ট ভেন্যু পার্থের অপ্টাস স্টেডিয়াম, গ্যাবা ও অ্যাডিলেইড ওভালে তার রেকর্ডের কথা বিবেচনা করে।
“অবশ্যই দলে আমার জায়গা নিয়ে ভাবছি না আমি। দলে আমার ভূমিকা জানি এবং কন্ডিশনই আসলে সেই টেস্ট ম্যাচ খেলতে না পারার কারণ ছিল। তবে ফিটনেসের স্তর, দক্ষতার স্তর উঁচুতে রাখা, প্রথম তিনটি (শেফিল্ড) শিল্ড ম্যাচ এবং তারপর পার্থ টেস্ট ম্যাচের দিকে পুরোপুরি মনোযোগ রাখছি আমি। পার্থে বোলিং করতে ভালোবাসি আমি। সত্যি বলতে অস্ট্রেলিয়াজুড়েই বোলিং করতে ভালোবাসি। তাই না, আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই।”