Published : 16 Jun 2026, 08:27 AM
বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ, লক্ষ্যে শট-সব বিভাগেই আধিপত্য করল স্পেন। কিন্তু ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় মিলল না গোল। পোস্টও পথ আগলে দাঁড়াল। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরুর হতাশা স্বাভাবিকভাবে ঝরল লুইস দে লা ফুয়েন্তের কণ্ঠে। স্পেন কোচ কিছুটা যেন দূর্ভাগ্যকে দায় দিয়ে দার্শনিকের সুরে বললেন- যখন বল জালে যেতে চায় না, তখন কোনোভাবেই যায় না!
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে সোমবার স্পেন গ্রুপ পর্বে যাত্রা শুরু করে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচেটিয়া আধিপত্য করেও প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণে চিড় ধরাতে পারেনি ‘লা রোজা’রা। চোট কাটিয়ে ফেরা লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো ও নিকো উইলিয়ামসকে নামিয়েও ‘ডেডলক’ খুলতে পারেনি ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।
দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য এটাও মানছেন, যথেষ্ট ধারাল ছিল না তার আক্রমণভাগ। ফিনিশিংয়েও ছিল না কার্যকরী। অতিরক্ষণাত্মক খেলা কেপ ভার্দেকে এলোমেলো করে দেওয়ার মতো ক্ষিপ্রতাও ওইয়ারসাবাল-গাভিদের ছিল না, অকপটে বললেন তিনি।
“এটাই ফুটবল এবং এটা আপনাকে শেখায়, সহজ প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। কৌশল নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে, ফিনিশিংয়ে উন্নতি করতে হবে এবং আরও নিখুঁত হতে হবে। যে সুযোগগুলো আমরা তৈরি করেছিলাম, তাতে আমাদের জেতা উচিত ছিল। আমরা এ ধরণের ম্যাচে অনেক সুযোগ তৈরি করি, কিন্তু আমাদের প্রয়োজনীয় ক্ষিপ্রতার অভাব ছিল (ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে)।”
“ওরা খুব গোছাল দল। শারীরিকভাবে শক্তিশালী। শুরু থেকেই ওরা গভীরে নেমে রক্ষণ সামলেছে, ১০ জন খেলোয়াড়ই পেনাল্টি বক্সের সামনে ছিল। এমন পরিস্থিতিতে জায়গা তৈরি করা কঠিন। প্রতিপক্ষকে একটু এলোমেলো করতে যথেষ্ট বল দেওয়া-নেওয়ার কাজটা মাঝেমধ্যে আমরা করতে পারিনি। বল যখন গোলে যেতে চায় না, তখন তা কোনোভাবেই যায় না।”
গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী রোববার সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে স্পেন। দে লা ফুয়েন্তের ভাবনা পরের ম্যাচ নিয়ে হলেও ঘুরে ফিরে তার কথায় উঠে এলো বিশ্বকাপের নবাগত দলটির বিপক্ষে ম্যাচের ব্যর্থতা।
“শট নেওয়া হলো, সুযোগ তৈরি হলো, দ্রুত ফল নির্ধারণ করে দেওয়ার তাড়নাও ছিল (কিন্তু হলো না)। তবে, আমাদের এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। জানতাম, কঠিন একটা ম্যাচ হবে এবং এ ধরনের ম্যাচ জেতা কঠিন। ফিনিশিং টাচ দেওয়ার ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতার ঘাটতি ছিল, যে গুণ ছেলেদের আছে। এখন মনোযোগ সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে। সবাইকে উন্নতির ধারায় থাকতে হবে।”