Published : 15 Apr 2026, 08:51 PM
রুবেল হোসেন এখনও ক্রিকেট মাঠ ছেড়ে যাননি, এটাই হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন অনেকে। অবসরের ঘোষণা দিয়েই যেন জানান দিলেন, তিনি সক্রিয় ক্রিকেটারই ছিলেন! আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথা জানালেন বাংলাদেশের এই পেসার। এখনই অবশ্য শেষ বলছেন না পুরোপুরি। ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান ৩৬ বছর বয়সী পেসার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রুবেলকে সবশেষ দেখা গেছে ২০২১ সালের এপ্রিলে নিউ জিল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টিতে। চার বছর পর আরেকটি এপ্রিলেই যখন বিদায় বললেন তিনি, আঙিনায় তখন সেই নিউ জিল্যান্ড দল।
সামাজিক মাধ্যমে বুধবার রাতে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান রুবেল।
“জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম। তবে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন, এটা আমার বিশ্বাস।”
“অনেক ভালোবাসা সবার প্রতি।”

‘পেসার হান্ট’ প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা রুবেলের আন্তর্জাতিক অভিষেক ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। আবির্ভাবেই তাক লাগিয়ে দেন তিনি শ্রীলঙ্কআর বিপক্ষে। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডে অভিষেকে শিকার করেন ৪ উইকেট। পরের ম্যাচেই অবশ্য উল্টো অভিজ্ঞতা হয়। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শেষ দিকে তাকে তুলাধুন করে শ্রীলঙ্কা জিতে যায় নাটকীয়ভাবে।
স্লিঙ্গিং অ্যাকশনের কারণ নজর কাড়েন তিনি দ্রুতই। অন্য দুই সংস্করণেও অভিষেক হয়ে যায় তার দ্রুতই। এরপর নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় তার ক্যারিয়ার।
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে খুব সুবিধা করতে পারেননি রুবেল। সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন তিনি ওয়ানডেতে। এই সংস্করণে কিছু ম্যাচে যেমন বেশ খরুচে ছিলেন, তেমনি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের স্মরণীয় কিছু স্পেল তার হাত থেকে বেরিয়েছে।
২০১০ সালে নিউ জিল্যান্ডকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার পথে শেষ ওভারে তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ৪ উইকেট নিয়ে সেদিন ম্যাচ-সেরা হন তিনি। ২০১৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেই মিরপুরে হ্যাটট্রিক করে ঘুরিয়ে দেন তিনি ম্যাচের মোড়। ২৬ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছিলেন সেদিন, এখনও যা ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড (যৌথভাবে মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে)।
২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার অবিস্মরণীয় দুটি ডেলিভারি তো দেশের ক্রিকেটে অমর থাকবে সবসময়। অ্যাডিলেইডে সেদিন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে পা রাখে বাংলাদেশ। রুবেল নিয়েছিলেন ৪ উইকেট।
মাঠের বাইরের ঘটনায় জেলেও যেতে হয়েছিল তাকে। বিশ্বকাপের আগে জামিনে বেরিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়।
সব মিলিয়ে ১০৪ ওয়ানডেতে তার উইকেট ১২৯টি। বোলিং গড় ৩৬.২০, ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৫.৬৭। ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন ৭ বার, ৫ উইকেট একবার।
২৭ টেস্ট খেলে উইকেট নিয়েছেন ৩৬টি। বোলিং গড় ৭৬.৭৭। টেস্ট ক্রিকেটে ২০টির বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বাজে বোলিং গড় এটি।
টি-টোয়েন্টিতে ওভারপ্রতি প্রায় সাড়ে ৯ করে রান দিয়ে উইকেট নিয়েছেন ২৮ ম্যাচে ২৮টি।
ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছের কথা যদিও বলেছেন, তবে সুযোগ কতটা পাবেন, সেই প্রশ্ন থাকছে। গত দুই বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ খেলতে পেরেছেন তিনি মোটে একটি। সেটিও প্রায় ১৫ মাস আগে।