Published : 12 Oct 2025, 09:20 PM
জয়ের গন্ধ পেয়েই ডাগআউট ছেড়ে সীমানার পাশে এসে দাঁড়ালেন রংপুরের ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফদের অনেকে। কেউ নাচতে শুরু করলেন, কেউ কেউ শুরু করলেন আগাম উদযাপন। অভিষেক দাসের বলে নাঈম ইসলামের বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত হতেই সবাই ছুট দিলেন মাঠে। নাঈম তখন দুই হাত প্রসারিত করে ক্রিজের মাঝে দাঁড়িয়ে। তাকে আলিঙ্গনে জড়ালেন ক্রিজে সঙ্গী আকবর আলি। মাঠে ছুটে যাওয়া সবাই মিলে গোল হয়ে শুরু করলেন আনন্দনৃত্য। রংপুরের শিরোপা ধরে রাখার উল্লাস!
জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টিতে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হলো রংপুর বিভাগ। ফাইনালে খুলনা বিভাগকে উড়িয়ে দিল তারা ৮ উইকেটে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার খুলনাকে ১৩৬ রানে আটকে রেখে কাজ এগিয়ে রাখেন রংপুরের বোলাররা। বাকি দায়িত্ব পালন করে দলকে শিরোপার ঠিকানায় নিয়ে যান ব্যাটসম্যানরা।
নতুন বলে আঁটসাঁট বোলিংয়ে চার ওভারে কেবল ১৯ রান দেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৩১ বলে ৪৬ করে ফাইনালের সেরা ক্রিকেটার নাসির হোসেন। দলের ফাইনালের ওঠার ম্যাচেও ফিফটি করে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছিলেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার।
গত আসরেও রংপুরের নেতৃত্বে থাকা আকবর আলি টানা দ্বিতীয়বার অধিনায়ক হিসেবে জিতলেন ট্রফি। আসজুড়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলার পাশাপাশি নজর কেড়েছেন তিনি নেতৃত্বেও।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা খুলনার ভোগান্তি শুরু খেলার একদম শুরু থেকেই। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই নাসুম আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন ইমরানউজ্জামান। খুলনার এই ওপেনার আগের ম্যাচেও ফিরেছিলেন শূন্য রানে।
রংপুরের আঁটসাঁট বোলিংয়ে এরপর একটুও ডানা মেলতে পারেননি সৌম্য সরকার ও এনামুল হকের মতো অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান। তারা দুজন ক্রিজে থাকার পরও পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মাত্র ২১। বাউন্ডারি আসে স্রেফ একটি!

পাওয়ার প্লে শেষে এক ওভারেই বিদায় নেন দুজন। রান আউট হয়ে যান এনামুল (১৫ বলে ১২)। আবু হাশিমের বাঁহাতি স্পিনে বোল্ড হওয়া সৌম্য সরকার ৮ রান করতে বল খেলেন ২২টি।
৮ ওভার শেষে খুলনার রান ছিল কেবল ২৩!
এরপর হাশিমকে টানা দুই ছক্কায় ইনিংসের গতি বদলানোর চেষ্টা করেন আফিফ হোসেন। ইকবাল হোসেনকে ছক্কা মারেন মোহাম্মদ মিঠুন। তবে ইকবালের ওই ওভারেই ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন আফিফ (১৪)।
মিঠুন চেষ্টা করেন পাল্টা আক্রমণে কিছু রান বাড়াতে। তিন ছক্কায় ৩২ বলে ৪৪ রান করে আউট হন খুলনা অধিনায়ক। সাতে নেমে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি দুটি করে ছক্কা-চারে ১৩ বলে করেন ২৪।
শেষ দিকে জিয়াউর রহমান পারেননি প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে। আগের ম্যাচের নায়ক অভিষেক দাস এবার ফেরেন শূন্য রানে।
আট বোলার ব্যবহার করে খুলনাকে অল্প রানে আটকে রাখেন রংপুর অধিনায়ক আকবর।
সহজ রান তাড়া আরও অনায়াস হয়ে যায় নাসির হোসেন ও জাহিদ জাভেদের উদ্বোধনী জুটিতে। খুলনার আট ওভারের রানকে রংপুর পেরিয়ে যায় তিন ওভারেই। শুরুর জুটিতে সাত ওভারে আসে ৬১ রান।
২৪ বলে ২৭ রান করে আউট হন জাভেদ। নাসির দারুণ খেলে দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন ৩১ বলে ৪৬ রান করে।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পরও তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি রংপুরকে। অভিজ্ঞ নাঈম ইসলাম ও অধিনায়ক আকবর আলি মিলে বাকি পথ পাড়ি দেন সহজেই। অভিষেক দাসের ওভারে চারটি চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি।
৩২ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম, ১৫ বলে ২৯ রানে অপরাজিত রয়ে যান আকবর।
১৪৭ স্ট্রাইক রেটে ২২২ রান করে ও দারুণ নেতৃত্ব দিয়ে ম্যান অব দা টুর্নামেন্টও রংপুর অধিনায়ক।
প্রাথমিক পর্বে কেবল তিনটি জয় পাওয়া দল, সবার শেষে শীর্ষ চারে ওঠে যারা শ্রেয়তর রান রেটে, সেই রংপুর প্লে-অফ থেকে টানা তিন ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত উঁচিয়ে ধরল ট্রফি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
খুলনা বিভাগ: ২০ ওভারে ১৩৬/৮ (ইমরানউজ্জামান ০, সৌম্য ৮, এনামুল ১২, মিঠুন ৪৪*, আফিফ ১৪, জীবন ৮, মৃত্যৃঞ্জয় ২৪, জিয়াউর ৯*, অভিষেক ০, নাহিদুল ১১*; নাসুম ৩-০-১৭-১, নাসির ৪-১-১৯-০, হাশিম ৪-০-২৮-১, ইকবাল ২-০-১৪-১, জাভেদ ১-০-১১-০, এনামুল ২-০-১৪-১, আলাউদ্দিন ২-০-১৭-১, আল মামুন ২-০-১৫-১)।
রংপুর বিভাগ: ২০ ওভারে ১৩৮/২ (জাভেদ ২৭, নাসির ৪৬, নাঈম ৪০*, আকবর ১৯*; অভিষেক ২-০-২২-০, জিয়াউর ১-০-১০-০, মৃত্যুঞ্জয় ৩-০-২৭-০, নাহিদুল ৩-০-১৭-০, টিপু ৪-০-৩২-০, জীবন ২-০-১২-১, আফিফ ২-০-১৬-১)।
ফল: রংপুর বিভাগ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাসির হোসেন।
ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: আকবর আলি।