Published : 17 Apr 2026, 08:06 AM
অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ তুলে দেওয়ার আয়োজনে হাসি-আড্ডা চলছিল। সাবেক এক অধিনায়ক কথায় কথায় এখনকার এক ক্রিকেটারের কাঁধে হাত রেখে বললেন, “কি রে, নিউ জিল্যান্ডকে হারাতে পারবি তো?” সেই ক্রিকেটার চওড়া হাসিতে বললেন, “ভাই, গত দুই সিরিজ ভুলে গেলেন! এবারও পারব…। এই গরমের মধ্যে অনেক কষ্ট করেছি আমরা, দোয়া রাখবেন….।”
গত দুই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি চলছে নিউ জিল্যান্ডকে হারানোর। চৈত্র মাসের তীব্র রোদে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে কঠোর ফিটনেস ট্রেনিং চলেছে হয়েছে কিছুদিন। এরপর চলেছে স্কিল শাণ দেওয়া। অপেক্ষা এখন মাঠের পরীক্ষার। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি শুরু শুক্রবার বেলা ১১টায়।
ওয়ানডে ম্যাচ শুরুর জন্য সময়টি বেশ অদ্ভুত। দিনের ম্যাচ সাধারণত আরও আগে শুরু হয়, দিন-রাতের ম্যাচ আরও দেরিতে। এবার ব্যতিক্রম হওয়ার কারণটি অনেকেরই জানা। সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সময়টি ঠিক করা হয়েছে, যাতে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার কম করতে হয়।
তাতে নিউ জিল্যান্ডের কাজটি কঠিন হয়ে উঠেছে আরও। বাংলাদেশ তো এমন আবহাওয়ায় অভ্যস্ত। কিউইদেরকে আরও বেশি সময় খেলতে হবে তীব্র রোদে।
শুধু কন্ডিশন নয়, ক্রিকেটীয় দিক থেকেও তাদের অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর দল তারা। এই সংস্করণে দারুণ ধারাবাহিক। বিরুদ্ধ এই কন্ডিশনেও ফেভারিট থাকার কথা তাদের। সবশেষ সিরিজেই তো ভারতে গিয়ে ভারতকে হারিয়ে এসেছে তারা। তবে সমস্যা হলো, সেই দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই নেই এই সফরে। আইপিএল ও পিএসএলে ব্যস্ত ক্রিকেটারদেরসহ শীর্ষ ১৬-১৭ জন ক্রিকেটারকে ছাড়া দল সাজিয়েছে তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের জন্য।
তাই বলে তাদের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত ধরে রাখার কারণও নেই। বরাবরই দারুণ পেশাদার ও লড়িয়ে দল তারা। বিশেষ করে, গত কয়েক বছরে তাদের ক্রিকেটের শক্তির গভীরতা ফুটে উঠেছে দারুণভাবে। নতুন কোনো ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে মানিয়ে নেয় বেশ দ্রুতই।
নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথামের কণ্ঠেও তাই বিশ্বাসের কমতি নেই। যদিও জাতীয় দলের আশেপাশে থাকা ক্রিকেটারদের শেখার দারুণ সুযোগ হিসেবে এই সফরকে দেখছেন তারা, তবে লক্ষ্য তাদের সিরিজ জয়ই।
“স্পষ্টতই এটাই আমাদের লক্ষ্য…আমরা এখানে সিরিজ জিততে চাই। আমার মনে হয়, প্রত্যেকের দৃষ্টিকোণ থেকে এটিই মূল লক্ষ্য। কিন্তু আমরা জানি যে, সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য অবশ্যই অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের জন্য ব্যাপারটা হলো প্রতিটি ম্যাচ থেকে শেখা এবং উন্নতি করা।”

“আমরা যদি প্রতিটি ম্যাচ থেকে উন্নতি করতে এবং শিখতে পারি, তাহলে আশা করি সিরিজের শেষ দিকে নিজেদের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারব। যখন দলে অভিজ্ঞতা কিছুটা কম থাকে, তখন আমার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এবং এই ধরনের পরিস্থিতিতে খেলা অন্য ক্রিকেটারদের দায়িত্ব হলো যতটা সম্ভব অভিজ্ঞতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা আমাদের পছন্দমতো সমস্ত পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ এবং প্রস্তুতি নিলেও, একবার মাঠে নামলে আমাদের যা আছে তা নিয়েই খেলতে হবে এবং নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে।”
বাংলাদেশের জন্য সিরিজটিতে মূল লক্ষ্য গত দুই সিরিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। যদিও দুই সিরিজের পারিপার্শ্বিকতা ছিল ভিন্ন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে মন্থর ও স্পিন সহায়ক উইকেটের কৌশল বেছে নিয়েছিল জিতেছিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে উইকেট ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। বেশ প্রাণবন্ত ও স্পোর্টিং উইকেট ছিল সেবার। সেই সিরিজে দলের জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার। এবারও উইকেট থাকবে একইরকম। ম্যাচের আগের দিন সতেজ ঘাসের ছোঁয়া দেখা গেছে উইকেটে।
নিউ জিল্যান্ডের এই খর্ব শক্তির দলও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বাংলাদেশকে। তবে প্রতিপক্ষ সেরা দল নিয়ে আসেনি বলেই মিরাজদের জন্য বড় সুযোগ সিরিজ জয়ের এবং যতটা সম্ভব রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে নেওয়ার। আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নিতে হলে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি আর রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়েই যেতে হবে বাংলাদেশকে। অধিনায়ক সেই জানেন এবং ছুটতে চান সেই পথে। তার প্রথম লক্ষ্য, শুরুটা ভালো করা।
“শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং লক্ষ্য ওভাবেই ঠিক করা উচিত। যেহেতু আমাদের তিনটা ম্যাচ আছে, সিরিজ ধরে এগোতে হবে এবং প্রথম ম্যাচ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করব প্রথম ম্যাচে ভালো ক্রিকেট খেলে জয়ের জন্য।”
“নিউ জিল্যান্ড দলটাকে নিয়ে ছোট করে দেখার কোনো কিছুই নেই। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে প্রত্যেকটি ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব প্রত্যাশিত ফলাফল করার জন্য। আমরা যদি সিরিজ জিততে পারি, এটা আমাদের জন্য অনেক একটা বড় অর্জন হবে। যেহেতু আমাদের র্যাঙ্কিংয়ের একটা বিষয় আছে, সেদিক থেকেও আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজটা।”
নিউ জিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করলেও র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরেই থাকবে বাংলাদেশ। তবে ৩-০ ব্যবধানে জিতলে রেটিং পয়েন্ট বাড়বে ৬, ২-১ ব্যবধানে জিতলে বাড়বে ৪। পয়েন্ট বাড়িয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এই সিরিজ।