Published : 18 Dec 2025, 12:44 PM
স্কট বোল্যান্ডের ডেলিভারি উইল জ্যাকসের ব্যাটের কানায় লেগে প্যাডে ছোবল দিয়ে আলতো করে ক্যাচ উঠে গেল কাছেই। উইকেট কিপারের সেটি নাগাল পাওয়ার কথা নয়। এমন পেসারের বলে কিপারের থাকার কথা অনেক পেছনে। তবে অ্যালেক্স কেয়ারি তো অন্য ধাতুতে গড়া! আগের টেস্টের মতো এবারও বোল্যান্ডের বলে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন স্টাম্প ঘেঁষে। ডাইভ দিয়ে বলটি জমালেন তিনি মুঠোয়।
একটি উইকেটের পতন তো বটেই, ওই ক্যাচ কেয়ারিকে জায়গা করে দিল রেকর্ড বইয়ে। দারুণ সেই কীর্তিতে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে এতদিন নাম ছিল কেবল অ্যাডাম গিলক্রিস্টের।
অ্যাশেজের অ্যাডিলেইড টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ওই ক্যাচেই ইনিংসে পাঁচ ডিসমিসাল পূর্ণ হলো কেয়ারির। আগের দিন তিনি করেছিলেন সেঞ্চুরি। একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও এক ইনিংসে পাঁচটি ডিসমিসাল করা অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি।
একটি জায়গায় অবশ্য তিনিই প্রথম। তার পাঁচ ডিসমিসালের সবকটিই ক্যাচ। সেঞ্চুরি ও পাঁচ ক্যাচ আছে কেবল তারই। ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে অ্যাশেজেই সিডনিতে গিলক্রিস্টের ওই পাঁচ ডিসমিসালে চারটি ছিল ক্যাচ, একটি স্টাম্পিং। ওই টেস্টে ১৩৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন টেস্টে সর্বকারের সেরা কিপার-ব্যাটসম্যান বলে বিবেচিত এই কিংবদন্তি।
টেস্ট ইতিহাসে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ইনিংসে ৫ ডিসমিসালের যুগলবন্দির কীর্তি গড়া একাদশ কিপার কেয়ারি। তবে কীর্তিটা হলো এই নিয়ে ১৫ বার। রেকর্ড তিনবার এই স্বাদ পেয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের বিজে ওয়াটলিং। ইংল্যান্ডের ম্যাট প্রায়র ও জনি বেয়ারস্টো দুবার করে।

টেস্ট ক্রিকেটের জন্মের প্রায় ৯০ বছর পর প্রথমবার এ যুগলবন্দি দেখাতে পেরেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসে। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গে ১৮২ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি ছয়টি ডিসমিসাল করেন তিনি। পরে ১৯৮৪ সালে তার পাশে নাম লেখান নিউ জিল্যান্ডের ইয়ান স্মিথ।
পরের বছর শ্রীলঙ্কার আমাল সিলভা ভারতের বিপক্ষে গড়েন এই কীর্তি। এরপর আবার লম্বা বিরতি। ২০০৩ সালে অপেক্ষার অবসান হয় গিলক্রিস্টকে দিয়ে।
পরের বছরগুলোয় প্রায়র, ওয়াটলিং, এবি ডি ভিলিয়ার্স, টম ব্লান্ডেল ও কাইল ভেরেইনা হয়ে এবার কেয়ারির নাম খোদাই হলো সেখানে।
উইকেটের সামনে পেছনে সময়টা অসাধারণ কাটছে কেয়ারির। গত টেস্টে কিপিং মাস্টারক্লাস মেলে ধরার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এক ফিফটি করেন তিনি। এবার আরও ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকে।
তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেবে পরিসংখ্যানও। এ বছর টেস্টে এখনও পর্যন্ত তার ৪৩ ডিসমিসালই বিশ্ব ক্রিকেটে সর্বোচ্চ। ব্যাট হাতে করেছেন ৬৭১ রান, যা অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ।