Published : 27 Apr 2026, 07:59 PM
জোরের ওপর করা ডেলিভারিটিতে জায়গা বের করতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়। পারেননি রান নিতে। সেটি ছিল তার প্রথম বল। একটু পর দেখা গেল অন্য হৃদয়কে। বাউন্ডারি মারলেন বেন লিস্টারকে। স্লগ সুইপে ছক্কায় ওড়ালেন ইশ সোধিকে। সাফল করে বল সীমানা ছাড়া করলেন জশ ক্লার্কসনের ডেলিভারি। শুরুর সেই ঝড় ধরে রাখলেন তিনি পরেও। দারুণ ফিফটিতে ম্যাচ জিতিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান বললেন, শুরু থেকে আক্রমণের ভাবনা নিয়েই তিনি মাঠে নেমেছিলেন।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৮৩ রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা খুব আশাপ্রদ ছিল না। ৯ ওভারে দলের রান ছিল ৬৬। সেই দলই পরের ৯ ওভারে তোলে ১১৭ রান!
২৭ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হন হৃদয়। প্রথম বলটির পর আর স্রেফ একটি ডেলিভারিতে রান করতে পারেননি তিনি।
তার সঙ্গে ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ায় ভূমিকা রাখেন পারভেজ হোসেন ইমন (১৪ বলে ২৮)। শেষ দিকে তাণ্ডব চালান শামীম হোসেন (১৩ বলে ৩১*)।
ম্যাচের পর হৃদয় বললেন, রান তাড়ার শুরুটা ভালো না হওয়ায় বাড়তি দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নেন তিনি।
“এটা তো ক্রিকেট খেলা, একদিন পাওয়ার প্লে ভালো হবে, একদিন মিডল অর্ডার খারাপ হবে, এমন। যেদিন পাওয়ার প্লে ভালো হবে না, সেদিন অবশ্যই মিডল অর্ডারের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আবার যেদিন পাওয়ার প্লে ভালো করে, সেদিনও থাকে। এটা যেহেতু দলীয় খেলা, সবসময় সবাই ভালো করবে না, এটাই খুব স্বাভাবিক। তারপরও আমরা ভালোভাবে কাভার করেছি আমাদের জন্য।”
অনেকবারই দেখা গেছে, ক্রিজে গিয়ে খানিকটা সময় নেন হৃদয়। কিন্তু সেই সময় নেওয়ার সুযোগ যে এ দিন নেই, তা তিনি বুঝে গিয়েছিলেন। তিনি মাঠে নামার সময় জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ওভারপ্রতি সাড়ে দশের বেশি রান। তাই শুরু থেকেই ঝড় তোলার ভাবনায় তিনি ক্রিজে যান।
“লিটন ভাই আউট হওয়ার পরে নেমেছি। আমার সাধারণ পরিকল্পনা যেটা, দলের কী চাওয়া ওই পরিস্থিতিতে…, রান দরকার ছিল, রান একটু কম হয়ে গিয়েছিল ওই সময়টাতে। আমার পরিকল্পনা ছিল যে, আমি আক্রমণ করব। কারণ আমি যদি আক্রমণ না করতে পারি তাহলে হয়তো কঠিন হয়ে যেত দলের জন্য। আমি শুধু চেষ্টা করেছি যতটুকু আক্রমণ করা যায়।”
“টি-টোয়েন্টি খেলাটা এমনই। এক-দুই ওভার ভালো না হলেই খেলাটা প্রতিপক্ষের হাতে চলে যায়। আবার দুই ওভার যদি আমরা ভালো ব্যাটিং করি, ভালো বোলিং করি, দুই-তিনটা উইকেট নিলে টি-টোয়েন্টি খেলা এদিক থেকে ওদিক চলে যায়। আমি ওটাই চেষ্টা করেছি যে, ওই সময়টা যতটুকু আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা যায় এবং ওই সময় মনে হয়েছে যে আক্রমণই সরা অপশন ছিল দলকে জেতানোর জন্য।”

তানজিদ হাসান আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের রান ছিল ৩ উইকেটে ৭৭। পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা ছিল অনেক কঠিন। তবে হৃদয় ভরসা রেখেছিলেন নিজের আর সতীর্থদের ওপর।
“এই জায়গায় যে ক্রিকেটাররা আছে, তারা সবাই এখন অনেক অভিজ্ঞ। প্রত্যেকেরই তিরিশটির কাছঅকাছি বা বেশি ম্যাচ। এরকম ম্যাচ যদি আমরা না জেতাতে পারি, তাহলে তো এটা আমাদের জন্য একটা ভালো লক্ষণ না। ব্যাটসম্যান হিসেবে এসব দায়িত্ব নিতে হবে। সবসময় টপ অর্ডার থেকে ভালো হবে না এবং এমনও ম্যাচ হতে পারে, মিডল অর্ডারও ভালো হবে না, তখন লোয়ার অর্ডার থেকে ম্যাচটা জেতাতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি যে এই জিনিসগুলো যতটুকু দ্রুত উন্নাতি করা নিজেদের ভেতরে।”
হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমনের ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটিই ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচের মোড়। পারভেজের ক্যামিও ইনিংসটি দারুণ প্রাণের সঞ্চার করে রান তাড়ায়। হৃদয় বললেন, দুজনেরই ছিল একই মন্ত্র।
“কথায় আছে না যে অ্যাটাক ইজ দা বেস্ট ডিফেন্স। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যদি বেশি মানে নুইয়ে থাকেন, আসলে (কাজ) হয় না। ইমন যেটা করেছে, ও খুব সঠিকটা বেছে নিয়ে এবং খুব ক্লিয়ার মাইন্ড ছিল। আমিও দুই-একটা তথ্ ওকে দিয়েছি যে, এদিক-ওদিক চেষ্টা করলে ভালো হয়। সব কিছু শেষে ওর প্রয়োগটা অনেক ভালো ছিল।”