Published : 21 Nov 2025, 05:07 PM
দেশজুড়ে দিনের সবচেয়ে বড় আলোচিত ঘটনা ভূমিকম্প। তীব্র ঝাঁকুনির পর টেস্ট ম্যাচও থমকে ছিল তিন মিনিট। তবে দুই দলের পারফরম্যান্সে তেমন কোনো কম্পন দেখা যায়নি। ভেঙে পড়েনি কোনো দলের ইনিংস। আগের দিন বিপর্যয়ে পড়া আয়ারল্যান্ড এ দিন বেশ লড়াই করেছে ব্যাটিংয়ে। প্রথম ইনিংসে বড় লিড পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসেও গড়ে তুলছে রানের সৌধ।
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে রানে ৩৬৭ রানে। উইকেট আছে ৯টি।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৬৫ রানে। আড়াই বছর আগে অভিষেক টেস্টে এই মাঠেই সেঞ্চুরি করা লর্কান টাকার এবার অপরাজিত রয়ে যান ৭৫ রানে।
চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটের রেকর্ডে সাকিব আল হাসানকে স্পর্শ করেন তাইজুল ইসলাম।
২১১ রানে এগিয়ে থাকলেও ফলো-অন না করে আবার ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। দিন শেষ করে তারা ১ উইকেটে ১৫৬ রানে।
৬০ রান করে আউট হন মাহমুদুল হাসান জয়। সাদমান ইসলাম অপরাজিত ৬৯ রানে।
৫ উইকেটে ৯৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা আয়ারল্যান্ড ছিল দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়। কিন্তু লর্কান টাকার ও স্টিভেন ডোহেনি দারুণ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে নেন দলকে। তারা শুধু প্রতিরোধও গড়েননি, রানও করেন বেশ দ্রুততায় দিনের প্রথম ১২ ওভারে আসে ৫৯ রান।
১০৪ বলে ফিফটি করেন টাকার। অভিষেকে ফিফটির দিকে এগিয়ে যান ডোহেনি। জুটি পেরিয়ে যায় ৮০।

তাইজুলের দারুণ এক ডেলিভারিতে ভাঙে এই জুটি। ৪৬ রানে বোল্ড হয়ে যান ডোহেনি।
৮১ রানের জুটি ভাঙার পর আরেকটি উইকেটের জন্য খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি। তাইজুলের বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড হয়ে যান অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন (০)।
আইরিশরা লড়ায়ে হাল ছাড়েনি তখনও। টাকার এবার জুটি গড়েন জর্ডান নিলকে নিয়ে। বাংলাদেশের স্পিনত্রয়ীকে দারুণভাবে সামলে রান বাড়ান দুই ব্যাটসম্যান। আগের টেস্টে অভিষিক্ত নিল দারুণ খেলে ছাপ রাখেন সম্ভাবনার। বাংলাদেশ অপেক্ষা করতে থাকে দ্বিতীয় নতুন বলের।
শেষ পর্যন্ত নতুন বলেই ভাঙে এই জুটি। ইবাদত হোসেনের দুর্দান্ত ডেলিভারি বাড়তি লাফিয়ে ছোবল দেয় নিলের ব্যাটে। এক রানের জন্য প্রথম ফিফটি না পাওয়ার হতাশায় ফিরতে হয় ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডারকে।
পরের দুটি উইকেটের পতন হয় দ্রুতই। সৈয়দ খালেদ আহমেদ প্রথম উইকেট পান গ্যাভিন হোয়েকে ফিরিয়ে। শেষ ব্যাটসম্যান ম্যাথু হামফ্রিজ রিভার্স সুইপ খেলে ধরা পড়েন খালেদের ব্যাটেই। এই উইকেট নিয়েই সাকিবের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন তাইজুল।
১৭১ বল খেলে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন টাকার।
একটুর জন্য ফলো-অন এড়াতে না পারলেও সেটি কোনো প্রভাব ফেলেনি ম্যাচে। বাংলাদেশ আবার ব্যাটিংয়ে নামে। দলকে আরও একবার ভালো শুরু এনে দেন সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়। টানা দ্বিতীয় টেস্টে শতরানের বন্ধ করেন দুই ওপেনার।
চা বিরতির আগে সাত ওভারেই ৪১ রান তুলে ফেলেন দুজন। পরে জুটির শতরান আসে ১৫২ বলে।
৩২ রানে জীবন পেয়ে জয় পঞ্চাশে পা রাখেন ৭৫ বলে, সাদমান ৭৬ বলে।
লেগ স্পিনার গ্যাভিন হোয়ের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে জয় থামেন ৬০ রানে। বাকি সময়টুকু দাপটেই কাটিয়ে দেন সাদমান ও মুমিনুল হক।
১১০ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন সাদমান, ২১ বলে ১৯ রানে মুমিনুল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৭৬
আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৮৮.৩ ওভারে ২৬৫ (আগের দিন ৯৮/৫) (টাকার ৭৫*, ডোহেনি ৪৬, ম্যাকব্রাইন ০, নিল ৪৯, হোয়ে ৪, হামফ্রিজ ৮; ইবাদত ১২-১-৪৭-১, খালেদ ৮-০-৩৯-২, তাইজুল ৩৫.৩-৬-৭৫-৪, মুরাদ ২১-৩-৫৩-২, মিরাজ ৯-১-৩৮-১, মুমিনুল ৩-১-৫-০)।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৭ ওভারে ১৫৬/১ (জয় ৬০, সাদমান ৬৯*, মুমিনুল ১৯*; নিল ৪-০-২৭-০, হামফ্রিজ ৬-০-২৫-০, ম্যাকব্রাইন ১৫-২-৪০-০, হোয়ে ১২-০-৫৬-১)।