Published : 22 Jun 2026, 09:51 PM
ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক তেমন কোনো সুযোগ বাংলাদেশে নেই। এই ঘাটতি মেটাতে দুই বছর আগের পরিকল্পনায় অ্যানালিটিক্স ল্যাবরেটরি চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। ক্রিকেটারদের স্কিল উন্নয়নে এখানে আধুনিক টেকনোলজি আর এআইয়ের সাহায্য নেওয়া হবে।
শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ইনডোরে চলবে বিসিবির নতুন উদ্যোগ অ্যানালিটিক্স ল্যাবরেটরির কাজ। দুই বছর আগে বিসিবির বোর্ডসভায় অনুমোদন পেলেও নানা কারণে এটি আলোর মুখ দেখেনি। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা বললেন, এখন সুযোগ মেলায় তারা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন।
পুরোপুরি বায়ো-মেকানিক্যাল হচ্ছে না এই ল্যাবরেটরি। শুরুতে এখানে অনূর্ধ্ব-১৪ থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত খেলা সব ক্রিকেটারের ভিডিও ফুটেজ থাকবে। ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে ক্রিকেটারদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে ইউনিক আইডির মাধ্যমে। এই সেমি বায়ো-মেকানিক্যাল ল্যাবে এর সঙ্গে বিভিন্ন টেকনোলজি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হবে।
বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধীনস্ত ল্যাবরেটরিতে ক্রিকেটারদের নিজস্ব স্কিল উন্নয়নে বিস্তৃতভাবে কাজ করার সুযোগ থাকবে। পর্যবেক্ষণ করা হবে তাদের ফিটনেস। পাশাপাশি বোলিং অ্যাকশনও শোধরানো হবে এখানে।
এখানে ক্রিকেটাররা নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করতে কোচ এবং অ্যানালিস্টের সহায়তা পাবেন। সংরক্ষিত ভিডিও ফুটেজ দেখে নিজেদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে, কোচদের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।
অনেক সময় ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করতে ভুলগুলো কোচদের সামনাসামনি দেখার প্রয়োজন হয়। ফাহিম সিনহা বললেন, ল্যাবরেটরিতে এই সুযোগ রাখতে প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি বসানো হবে।
“বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোচেরা কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। আমাদের অন্যান্য ফুটেজের বাইরে যেহেতু ল্যাব হচ্ছে, পুরোপুরি যন্ত্রপাতি বসিয়ে মুহূর্তেই সরাসরি মূল্যায়নে যেতে পারব। এটাই কোচ ও খেলোয়াড়দের জন্য অনেক সহায়ক হবে।”
সেখানে নিজেদের ভুলক্রুটি চিহ্নিত করার পাশাপাশি, কতটুকু উন্নতি হয়েছে সেটাও বিশ্লেষণ করার সুযোগ থাকবে।
এর বাইরে নিজের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করার মাঝপথে কোচ বদল হলে ক্রিকেটাররা বিপাকে পড়েন। নতুন কোচের সঙ্গে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু করতে হয়। তবে এই ল্যাবরেটরি চালু হলে তেমনটা আর ঘটবে না। এখান থেকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করবেন নতুন কোচ। ফলে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, নতুন করে শুরু করতে হবে না এবং ক্রিকেটারদের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করার পথ আরও সহজ হয়ে উঠবে।
দুই বছর আগে নেওয়া এই উদ্যোগ নিয়ে বেশ আগেই জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তসহ অন্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালক ফাহিম সিনহা। ক্রিকেটাররা তাকে বলেছিলেন, আরও আগে এমন উদ্যোগ নেওয়া দরকার ছিল।
“আজ থেকে আরও দেড় বছর আগে শান্ত যখন ওয়ানডে অধিনায়ক ছিল, তখন এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল আমার। কিছু খেলোয়াড়দের সঙ্গেও কথা হয়েছিল। তাদের ফিডব্যাক ছিল, এটা খুবই জরুরি। এটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল।”
এই ল্যাবরেটরির সঙ্গে যুক্ত আছেন পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট সানদিপ কুমার। ক্রিকেটার ও কোচদের জন্য কীভাবে এই ল্যাবরেটরি কার্যকর হয়ে উঠবে, তা ব্যাখ্যা করলেন তিনি।
“এই অ্যানালাইসিস সেন্টারটি সব কোচ ও খেলোয়াড়দের সাহায্য করতে যাচ্ছে, এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। যখন অনূর্ধ্ব ১৪ পর্যায়ে একটা ছেলে আসবে, যাকে কখনও বিশ্লেষণ করা হয়নি, তখন থেকেই তাকে বিশ্লেষণ করা হবে। তার ভুলক্রুটিগুলো শুধরে দেওয়া হবে।”
“কোচেরা এখানে বিভিন্ন ধরনের ফুটেজ পাবেন। এর মাধ্যমে কোনো খেলোয়াড় অফ ফর্মে থাকলে, আগের ও বর্তমান অবস্থার মধ্যে তুলনা করতে পারবে। এছাড়া ধরেন, গত তিন মাসে একজন খেলোয়াড় কেমন পারফর্ম করল এবং কতটুকু উন্নতি করল, এই ধরনের ভিডিও টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসসহ কোচদের দেওয়া হবে, এখান থেকে।”