Published : 10 Dec 2025, 11:36 AM
নিউ জিল্যান্ডের অনেক ক্রিকেটারই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের নানা প্রান্তে টি-টোয়েন্টি লিগগুলোয়। অথচ তাদের নিজস্ব কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ নেই। অবশেষে তারাও শামিল হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টির ঝলমলে স্রোতে। প্রস্তুতি চলছে নিউ জিল্যান্ডের লিগের, যেটির নাম হবে ‘এনজেড২০।’ এই টুর্নামেন্টের সম্ভাবনা নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত নিউ জিল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক টম ল্যাথাম।
প্রধান ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে কেবল নিউ জিল্যান্ডেরই কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নেই। তাদের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘সুপার স্ম্যাশ’ যদিও বেশ জমজমাট হয়, তবে আর্থিক দিক থেকে ও সমর্থকদের সম্পৃক্ত করার দিক থেকে সেটি খুব কার্যকর নয়। সেজন্যই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের পরিকল্পনা চলছে।
এই টুর্নামেন্টের মূল উদ্যোক্তা নিউ জিল্যান্ডের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররাই। তাদের মধ্যে অগ্রণী সাবেক অধিনায়ক ও আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের দীর্ঘদিনের সফল কোচ স্টিভেন ফ্লেমিং। তার উদ্যোগেই নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের অ্যাসোসিয়েশন এখানে সম্পৃক্ত হয় এবং পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। এনজেড২০ এস্টাবলিশমেন্ট কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যেটির প্রধান ডন ম্যাককিনন। তার নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে চলছে কাজ।
২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ছেলেদের টুর্নামেন্ট চালুর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তারা, ওই বছরের শেষ দিকে মাঠে গড়াতে চান মেয়েদের আসর। অনেকটা ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের পদ্ধতিতেই হবে এই লিগ, যেখানে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের অনুমোদন থাকবে, তবে টুর্নামেন্ট পরিচালিত হবে স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে। ছয় দল নিয়ে হবে টুর্নামেন্ট, বিলুপ্ত হয়ে যাবে এখনকার সুপার স্ম্যাশ।
নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের অনুমতি অবশ্য এখনও মেলেনি। তবে সবকিছু গুছিয়ে নিলে অনুমতি পাওয়াটা হয়ে উঠবে স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপার।
২০১৪ সালেও একবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল নিউ জিল্যান্ডে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট চালু করার। তবে আইপিএল বা বিগ ব্যাশের মতো বাজার গড়া সম্ভব নয় এবং আর্থিক দিক থেকে লাভজনক হওয়া নিয়ে সংশয়ে সেটি আর এগোয়নি। তবে এস্টাবলিশমেন্ট কমিটির প্রধান ম্যাককিননের মতে, সময়টা এখন এসে গেছে।
অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান টম ল্যাথামের টি-টোয়েন্টি রেকর্ড দারুণ সমৃদ্ধ। কিন্তু ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ছাড়া কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ তিনি এখনও পাননি। অনেক উঠতি ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারও আছেন এমন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়েলিংটন টেস্ট শুরুর আগে নিউ জিল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বললেন, দেশের ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরের বিকল্প নেই।
“এনজেড২০ টুর্নামেন্টের সম্ভাবনার দিকে যদি তাকান, আমার মনে হয় এটি দারুণ এক উদ্যোগ। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট যেভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে… আমার মনে হয়, আমরা একমাত্র টেস্ট খেলুড়ে জাতি, যাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট নেই। এটা চালু হলে এদেশের জন্য যা বয়ে আনবে… নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেট দারুণভাবে লাভবান হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের দিয়ে ক্রিকেটের মান বেড়ে যাবে।”
“এমনিতেও আমাদের এখানে ক্রিকেটের মান দারুণ এবং সুপার স্ম্যাশ এখনও পর্যন্ত দারুণ সব ক্রিকেটার উপহার দিয়েছে আমাদেরকে। তবে নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটকে নতুন ধাপে তুলে নিতে এই টুর্নামেন্ট খুবই সহায়ক হবে।”
ল্যাথামের মতে, এই টুর্নামেন্ট চালু হলে নিউ জিল্যান্ডের উঠতি ক্রিকেটাররা দারুণ লাভবান হবে।
“অবশ্যই আশাবাদী… আমি চাইব টুর্নামেন্টটি হোক এবং আমি নিশ্চিত, অন্য অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বললেও তাদের মতামত একই হবে। এখন তো কতজনই বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলে এবং বাইরের ক্রিকেটারদের সঙ্গে মেশার সুযোগ পায়, যাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দারুণ সমৃদ্ধ। অনেকেই আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখন আর খেলে না, কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ঠিকই খেলছে… তাদের মতো ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখে শেখার সুযোগ শুধু নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের জন্যই নয়, এখানে তরুণ প্রজন্মের যারা উঠে আসছে, তাদের জন্যও দারুণ ব্যাপার।”
“বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যারা খেলে বেড়ায়, তাদের সঙ্গে কথা বললেই জানা যায়, কত আনন্দ নিয়ে তারা খেলে, বিভিন্ন কন্ডিশনে ভিন্ন ভিন্ন ক্রিকেটারদের কাছ থেকে তারা কত শিখতে পারে। এজন্যই আমি মনে করি, এটা দারুণ উদ্যোগ এবং আশা করি বাস্তবায়িত হবে।”
এনজেড২০ সফল করার ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ অবশ্য টুর্নামেন্টের সময়টা। ডিসেম্বর-জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি উইন্ডোতেই বিগ ব্যাশ, আইএল টি-টোয়েন্টি, এসএ২০ ও বিপিএল হয়ে থাকে।